
শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
প্রথম পাতা » অপরাধ | রাজনীতি » গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী বাংলাদেশ: চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মব সংস্কৃতির পুনরুত্থান-ড. কামাল হোসেন
গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী বাংলাদেশ: চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মব সংস্কৃতির পুনরুত্থান-ড. কামাল হোসেন
পক্ষকাল ডেস্ক
২৪ জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক নতুন পর্ব শুরু হয়েছে-যেখানে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মব-নিয়ন্ত্রিত সহিংসতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। জাতীয় প্রেসক্লাবে গণফোরামের ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ড. কামাল হোসেনের লিখিত বক্তব্যে এই বাস্তবতার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “এই অশুভ শক্তিকে দমন করতে সরকার ব্যর্থ হলে দেশে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে, যা কারও কাম্য নয়”।
দীর্ঘ স্বৈরশাসনের ফলে আইনের শাসন, ভোটাধিকার ও মানবাধিকার ধ্বংস হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ড. কামাল।
অর্থপাচার ও দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট সংকট ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের জন্ম দেয়, যার ফলশ্রুতিতে ক্ষমতাসীন সরকার দেশত্যাগে বাধ্য হয়।
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে সাম্য ও সুবিচারের অঙ্গীকার থাকলেও জনগণ এখনও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।
বহু-দলীয় প্রতিক্রিয়া:
সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে।
বিএনপির এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ইতিহাস উপেক্ষা করলে বর্তমান সংকট অনুধাবন করা যাবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বাসদের খালেকুজ্জামান বলেন, “আগে ছিল নিয়ন্ত্রিত স্বৈরশাসন, এখন চলছে অনিয়ন্ত্রিত স্বেচ্ছাচার।”
এই সময়কালটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠনের সম্ভাবনা ও বিপদের দ্বৈত বাস্তবতায় আবদ্ধ। একদিকে রয়েছে গণ-অভ্যুত্থানের পর উদ্ভূত গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে রয়েছে ক্ষমতার শূন্যতায় গোষ্ঠীগত সহিংসতা ও দখলবাজির বিস্তার। অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা এখন গুরুত্বপূর্ণ-সংস্কার ও দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা জরুরি।