গুরুতর আহত নুর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি
পক্ষকাল ডেস্ক
রাজধানীর কাকরাইল এলাকা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে গণঅধিকার পরিষদ ও দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত নুরকে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
নুরুল হক নুর
শুক্রবার সন্ধ্যায় এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গণঅধিকার পরিষদ ‘ফ্যাসিস্টদের দোসরদের’ রাজনীতি নিষিদ্ধ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশের পর একটি মশাল মিছিল বের করে। মিছিলটি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কাছাকাছি পৌঁছালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণঅধিকারের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া করলে তারা পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে লাঠিচার্জ করে। এই লাঠিচার্জেই নুরসহ দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এবং আরও অনেকে আহত হন।
গণঅধিকার পরিষদের নেতা আবু হানিফ জানিয়েছেন, নুর ‘মুমূর্ষূ’ অবস্থায় চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন এবং তার খিঁচুনি হচ্ছিল। তিনি দাবি করেন, ‘শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের বেধড়ক মারধর করেছেন।’ হামলায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি।
এই ঘটনার আগে পুরানা পল্টনে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে গণঅধিকার পরিষদ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে গ্রেপ্তার ও দলটির নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানায়। এমনকি, নুর তার ফেসবুক পোস্টে জি এম কাদেরকে গ্রেপ্তার করা না হলে সচিবালয় ঘেরাও করার হুমকি দেন।
অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এক সংবাদ সম্মেলনে গণঅধিকার পরিষদের এই ধরনের সমাবেশকে ‘বেআইনি’ বলে অভিহিত করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলীয়ভাবে আলোচনা করে মামলা দায়ের ও পরবর্তী কর্মসূচি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।