
শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
প্রথম পাতা » অর্থনীতি | পোশাক শিল্প | রাজনীতি » যুদ্ধবিমান নয়, জনগণের ভাত কাপড় বাসস্থান চাই–মোশরেফা মিশু :
যুদ্ধবিমান নয়, জনগণের ভাত কাপড় বাসস্থান চাই–মোশরেফা মিশু :
ইন্টেরিম সরকার হঠাৎ করেই ঘোষণা দিলো-২৪/২৫টি যুদ্ধবিমান আমেরিকা থেকে কিনবে, আবার চীনের জে-১০সি জঙ্গি বিমানও নেবে ১২টি। প্রশ্ন হলো-এই দেশটা কি যুদ্ধের ময়দান? নাকি ভাত কাপড় বাসস্থানের দাবিতে রাস্তায় নামা ক্ষুধার্ত মানুষের ওপরেই বিমান থেকে বোমা ফেলবে?
খোদ বিশ্বব্যাংক বলছে-এক বছরে ২৭ লাখ নতুন মানুষ দারিদ্র্যের কাতারে গেছে, এর মধ্যে ১৮ লাখ নারী। অর্থাৎ, প্রতিদিন লাখো মানুষ গৃহহীন হচ্ছে, জমি হারাচ্ছে, শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না, চিকিৎসা পাচ্ছে না। অথচ ইন্টেরিমের কাছে “সংস্কার” মানে যুদ্ধবিমান কেনা, টাকার পাহাড় থেকে কোটি কোটি ডলার সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া!
এখন প্রশ্ন হলো-এই সরকার কার? জনগণের, না সাম্রাজ্যবাদের? জনগণের টাকায় কেনা প্রতিটি বিমান আসলে জনগণের রক্ত চুষে তৈরি। এই বিমান কোনো দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করবে না-বরং লুটেরা গোষ্ঠীর সিংহাসন আঁকড়ে ধরতে এবং জনগণের ন্যায্য আন্দোলন দমন করতে ব্যবহৃত হবে।
আমরা যারা ভুমিহীন-গৃহহীন, দিনমজুর, গার্মেন্টস শ্রমিক, গৃহকর্মী-আমাদের জন্য কোনো বাজেট নেই। আমাদের জন্য নেই খাবার, নেই নিরাপত্তা, নেই চিকিৎসা। অথচ “নিরাপত্তা”র নামে কোটি কোটি ডলারের যুদ্ধবিমান কেনা হচ্ছে। এটাই কি ইন্টেরিমের আসল সংস্কার?
আমি স্পষ্ট করে বলি-
যুদ্ধবিমান নয়, আমাদের দরকার ভাত কাপড় বাসস্থান।
জঙ্গি বিমান নয়, আমাদের দরকার স্কুল-হাসপাতাল।
অস্ত্র কেনার বাজেট নয়, আমাদের দরকার নারী-পুরুষ শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি।
এই সরকার জনগণের সরকার নয়। এ হলো সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থার দালাল সরকার। এর কাজ হলো-জনগণের পিঠে চাপিয়ে করের বোঝা বাড়ানো, জনগণের রক্তের ঘাম থেকে তোলা টাকা বিদেশি অস্ত্র ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়া।
আমরা জানি-যুদ্ধবিমান কোনোদিন ক্ষুধার রুটি হয় না। ক্ষুধার্ত মানুষের রক্ত যদি শুকিয়ে যায়, কোনো বিমান তাকে বাঁচাতে পারে না। তাই আবার বলি-
জনগণের টাকায় যুদ্ধবিমান নয়, জনগণের টাকায় জনগণের অধিকার চাই।
সংগ্রাম চলবেই।