শিরোনাম:
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২

Daily Pokkhokal
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » অপরাধ | ব্রেকিং নিউজ | রাজনীতি » ফাঁস হওয়া নথিতে ৬৪ ডিসির রাজনৈতিক পরিচয়: ‘নিরপেক্ষ’ প্রশাসনে দলীয়করণের ছায়া
প্রথম পাতা » অপরাধ | ব্রেকিং নিউজ | রাজনীতি » ফাঁস হওয়া নথিতে ৬৪ ডিসির রাজনৈতিক পরিচয়: ‘নিরপেক্ষ’ প্রশাসনে দলীয়করণের ছায়া
২ বার পঠিত
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ফাঁস হওয়া নথিতে ৬৪ ডিসির রাজনৈতিক পরিচয়: ‘নিরপেক্ষ’ প্রশাসনে দলীয়করণের ছায়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা---
সামনে জাতীয় নির্বাচন, অথচ মাঠ প্রশাসনের ‘নিরপেক্ষতা’ নিয়ে জনমনে যখন নানা প্রশ্ন, ঠিক তখনই ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) একটি গোপন তালিকা প্রকাশ্যে এসেছে। ফাঁস হওয়া ওই নথিতে দেখা যাচ্ছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মেধা বা দক্ষতাকে পাশ কাটিয়ে তাঁদের বিচার করা হচ্ছে রাজনৈতিক পরিচয়ে। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই কর্মকর্তাদের নামের পাশে ‘বিএনপি’, ‘জামায়াত’ এবং ‘এনসিপি’ (NCP)—এই তিন ক্যাটাগরিতে রাজনৈতিক ট্যাগ বা পরিচয় জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া এই নথিতে ৬৪ জেলার ডিসিদের নাম, বিসিএস ব্যাচ এবং তাঁদের রাজনৈতিক মতাদর্শের বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। নথির তথ্যানুযায়ী, প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণ করা হয়েছে, যেখানে ৫২টি জেলাতেই জামায়াত ও এনসিপি মতাদর্শের কর্মকর্তাদের ডিসি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিপরীতে বিএনপিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে মাত্র ১২ জনকে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিসিরা নির্বাচনের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। ফলে প্রশাসনের এমন একপাক্ষিক রাজনৈতিক বিন্যাস এবং গোপন নথিতে কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয় সংরক্ষণ সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায়।

দলীয়করণের পরিসংখ্যান
প্রাপ্ত নথির সারসংক্ষেপে দেখা গেছে, মোট ৬৪ জন জেলা প্রশাসকের মধ্যে:

জামায়াত: ৩২ জন

এনসিপি: ২০ জন

বিএনপি: ১২ জন

তালিকায় বিশেষ মন্তব্যের ঘরে অনেক কর্মকর্তার বর্তমান পরিচয়ের পাশাপাশি অতীত রাজনৈতিক ইতিহাসের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে (যেমন: ‘পূর্বে জামায়াত’ বা ‘পূর্বে বিএনপি’)।

নিচে বিভাগওয়ারি ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের তালিকা ও নথিতে উল্লিখিত তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয়ের তথ্য তুলে ধরা হলো:

ঢাকা বিভাগ: প্রশাসনের কেন্দ্রে জামায়াতের আধিপত্য
দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলার অধিকাংশেই জামায়াতপন্থী কর্মকর্তাদের নাম উঠে এসেছে।
১. ঢাকা: মো: রেজাউল করিম (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত।
২. গাজীপুর: মোহাম্মদ আলম হোসেন (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত।
৩. নারায়ণগঞ্জ: মো: রায়হান কবির (২৯ ব্যাচ) — জামায়াত (পূর্বে বিএনপি)।
৪. মুন্সীগঞ্জ: সৈয়দা নুরমহল আশরাফী (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত।
৫. নরসিংদী: মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত।
৬. মানিকগঞ্জ: নাজমুন আরা সুলতানা (২৮ ব্যাচ) — বিএনপি।
৭. টাঙ্গাইল: শরীফা হক (২৫ ব্যাচ) — বিএনপি।
৮. কিশোরগঞ্জ: মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত (পূর্বে বিএনপি)।
৯. ফরিদপুর: কামরুল হাসান মোল্যা (২৫ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)।
১০. রাজবাড়ী: সুলতানা আক্তার (২৭ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)।
১১. গোপালগঞ্জ: আরিফ-উজ-জামান (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত।
১২. মাদারীপুর: জাহাঙ্গীর আলম (২৮ ব্যাচ) — জামায়াত।
১৩. শরীয়তপুর: তাহসিনা বেগম (২৫ ব্যাচ) — জামায়াত।

চট্টগ্রাম বিভাগ
চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলায় বিএনপি ও জামায়াতের মিশ্র অবস্থান দেখা গেলেও জামায়াত ও এনসিপির প্রভাব স্পষ্ট।
১৪. চট্টগ্রাম: জাহিদুল ইসলাম মিঞা (২৫ ব্যাচ) — বিএনপি।
১৫. কক্সবাজার: মো: আ: মান্নান (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত (পূর্বে বিএনপি)।
১৬. কুমিল্লা: রেজা হাসান (২৯ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে বিএনপি)।
১৭. ব্রাহ্মণবাড়িয়া: শারমিন আক্তার জাহান (২৫ ব্যাচ) — বিএনপি।
১৮. চাঁদপুর: নাজমুল ইসলাম সরকার (২৯ ব্যাচ) — বিএনপি।
১৯. নোয়াখালী: মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম (২৭ ব্যাচ) — বিএনপি।
২০. লক্ষ্মীপুর: এস এম মেহেদী হাসান (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত।
২১. ফেনী: মনিরা হক (২৭ ব্যাচ) — জামায়াত।
২২. খাগড়াছড়ি: আনোয়ার সাদাত (২৯ ব্যাচ) — জামায়াত।
২৩. রাঙ্গামাটি: নাজমা আশরাফী (২৯ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে সুশীল)।
২৪. বান্দরবান: শামীম আরা রিনি (২৭ ব্যাচ) — বিএনপি।

রাজশাহী বিভাগ
উত্তরাঞ্চালের এই বিভাগে এনসিপি ও জামায়াতের শক্ত অবস্থান নথিতে উঠে এসেছে।
২৫. রাজশাহী: আফিয়া আখতার (২৫ ব্যাচ) — বিএনপি।
২৬. বগুড়া: তৌফিকুর রহমান (২৭ ব্যাচ) — বিএনপি।
২৭. পাবনা: ড. শাহেদ মোস্তফা (২৫ ব্যাচ) — জামায়াত (পূর্বে বিএনপি)।
২৮. সিরাজগঞ্জ: আমিনুল ইসলাম (২৭ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)।
২৯. নওগাঁ: সাইফুল ইসলাম (২৯ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)।
৩০. নাটোর: আসমা শাহীন (২৭ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)।
৩১. চাঁপাইনবাবগঞ্জ: শাহাদাত হোসেন মাসুদ (২৮ ব্যাচ) — জামায়াত।
৩২. জয়পুরহাট: আল-মামুন মিয়া (২৮ ব্যাচ) — এনসিপি (পূর্বে জামায়াত)।

খুলনা বিভাগ
দক্ষিণাঞ্চালের এই বিভাগে জামায়াতপন্থীদের আধিক্য লক্ষ্য করা গেছে।
৩৩. খুলনা: আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার (২৯ ব্যাচ) — জামায়াত (পূর্…
[10:53, 09/02/2026] Micheal: শাহপুর গ্রামে পিটিয়ে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ!

এম এ মাইকেলঃ

ডুমুরিয়ায় মারিয়া ইসলাম (২৬) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার শাহপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় ডুমুরিয়া থানা পুলিশ ঐ গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছেন। মারিয়া ইসলাম খুলনার খানজাহান আলী থানার মাক্তমডাংগা এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলামের মেয়ে।

এলাকাবাসী জানান, ডুমুরিয়ার শাহপুর গ্রামের আখতার হোসেন ফকিরের ছেলে আশিকুর রহমান রিংকুর সাথে ৫ বছর আগে মারিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে শ্বশুর শ্বাশুড়ি মারিয়াকে বিভিন্ন সময়ে মারপিট করতো। রবিবার দুপুরে শ্বাশুড়ি আঞ্জুমান আরা বেগমের সাথে মারিয়ার ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে শ্বশুর এবং শ্বাশুড়ি তাকে পিটিয়ে হত্যা করে ঘরে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখে।

মারিয়ার ৩ বছরের মেয়ে রুহো জানায়, দুপুরে বেলায় ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার মাকে মারতেছে। তারপরে আমার দাদা ফ্যানের সাথে বাঁধে রাখতেছে।

মারিয়া ইসলামের পিতা রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আজ (রবিবার) দুপুরে শ্বাশুড়ির সাথে ঝগড়া বাঁধে তখন শ্বাশুড়ি এবং শ্বশুর মিলে মারপিট করার পর আমার মেয়ে মারা যায়। ঐ সময় মারিয়ার শ্বশুর আমাকে ফোনে জানায় যে আপনার মেয়ের ডায়রিয়া হয়েছে তাড়াতাড়ি আসেন। এসে দেখি আমার মেয়ের লাশ পড়ে আছে। এটা পরিকল্পিত মার্ডার। আমি থানায় মামলা করবো। রিংকু তার মামাতো বোনকে বিয়ে করবে বলে পরিবারের সবাই তাকে নির্যাতন করতো। আমি মোটরসাইকেলসহ কয়েক লক্ষ টাকা যৌতুক দিয়েছি।

রঘুনাথপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বাবর আলী বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে আছি। ওসি স্যার আসতেছেন। প্রাথমিকভাবে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে যে হত্যা করা হতে পারে। তদন্ত চলছে। বিস্তারিত পরে জানাতে পারবো।

ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, আমি ঘটনাস্থলে আসছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে রিংকু ও তার বাবা মা যোগ সাজজে মারিয়াতে হত্যা করেছে। এজাহার দিলে আমরা গ্রহণ করবো। লাশ খুমেকে পোস্ট মর্টেমে প্রেরণ করা হচ্ছে। মারিয়ার স্বামী রিংকুকে আটক করা হয়েছে।



আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)