শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » অর্থনীতি | রাজনীতি » সম্পাদকীয় দল, দালাল বিতর্ক ও ব্যবসায়ীকরণ—কোথায় যাচ্ছে বিএনপি
সম্পাদকীয় দল, দালাল বিতর্ক ও ব্যবসায়ীকরণ—কোথায় যাচ্ছে বিএনপি
দল, দালাল বিতর্ক ও ব্যবসায়ীকরণ—কোথায় যাচ্ছে বিএনপি?

একটি বড় রাজনৈতিক দলের ভেতরে যখন “গুরুতর ক্ষোভ” জমতে থাকে, তখন সেটি কেবল ব্যক্তিগত অসন্তোষ নয়; সেটি ভবিষ্যৎ সংকটের পূর্বাভাসও হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একটি অংশে যে তীব্র অসন্তোষের কথা শোনা যাচ্ছে, তা মূলত দুই কারণে—পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে খালিলুর রহমানের নিয়োগ এবং মন্ত্রিসভায় পদবণ্টনে বঞ্চনার অভিযোগ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি গুরুতর দাবি: মন্ত্রিসভার প্রায় ৭৪ শতাংশ সদস্যের ব্যবসায়িক পটভূমি রয়েছে এবং তারা নাকি নিজস্ব স্বার্থে পদ ব্যবহার করতে পারেন।
এই অভিযোগ কতটা সত্য, তা সময়ই বলবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—যদি সংখ্যাটি সত্যের কাছাকাছি হয়, তবে দলীয় নেতৃত্ব কী বার্তা দিচ্ছে?
আদর্শ বনাম বাস্তবতা
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আদর্শিক অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত একটি জাতীয়তাবাদী দল হিসেবে বিএনপি বরাবরই নিজস্ব পররাষ্ট্রদৃষ্টিভঙ্গি ও রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছে। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ নিয়ে “আমেরিকান ঘনিষ্ঠতা”র অভিযোগ উঠলে সেটি কেবল ব্যক্তিবিশেষকে নয়, পুরো দলীয় অবস্থানকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে।
একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখা কৌশলগত প্রয়োজন। কিন্তু সেই বাস্তববাদ যদি দলীয় কর্মীদের চোখে আদর্শ থেকে সরে যাওয়া হিসেবে প্রতীয়মান হয়, তাহলে ক্ষোভ জন্মানো স্বাভাবিক। রাজনীতিতে বাস্তববাদ প্রয়োজন, কিন্তু তা যেন আত্মপরিচয় বিসর্জনের পর্যায়ে না পৌঁছে—এ প্রত্যাশা তৃণমূলের।
মন্ত্রিসভায় ব্যবসায়িক প্রাধান্য: দক্ষতা না স্বার্থসংঘাত?
৭৪ শতাংশ ব্যবসায়িক পটভূমির মন্ত্রী—এই পরিসংখ্যান যদি সত্য হয়, তবে তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতাকে নির্দেশ করে। ব্যবসায়ীরা অর্থনীতি বোঝেন, বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্ষম—এ যুক্তি অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠে: রাষ্ট্র পরিচালনা কি কেবল ব্যবস্থাপনার বিষয়, নাকি এটি জনস্বার্থ রক্ষার নৈতিক দায়িত্বও বহন করে?
যেখানে ব্যবসায়িক স্বার্থ ও নীতিনির্ধারণ একীভূত হয়, সেখানে স্বার্থসংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। টেন্ডার, লাইসেন্স, ব্যাংকঋণ বা অবকাঠামো প্রকল্প—সবখানেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রাজনীতির বাণিজ্যিকীকরণ গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ।
বঞ্চনা ও ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ
মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়া নেতাদের ক্ষোভ নতুন কিছু নয়। কিন্তু যখন সেই ক্ষোভ প্রকাশ্য অভিযোগে রূপ নেয়, তখন তা দলীয় ঐক্যের জন্য অশনিসংকেত। দীর্ঘদিন মাঠে থাকা নেতারা যদি মনে করেন অর্থনৈতিক সক্ষমতার কাছে তাদের রাজনৈতিক ত্যাগ মূল্যহীন, তবে সংগঠনের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে।
রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রায়ই এমন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেয়, যারা নেতৃত্বের প্রতি বেশি নির্ভরশীল। এতে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ঘটে, বিদ্রোহের সম্ভাবনা কমে। কিন্তু অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ দলীয় গণতন্ত্রকে সংকুচিত করে।
সামনে কী?
একটি বড় দল তখনই শক্তিশালী থাকে, যখন আদর্শ, দক্ষতা ও নৈতিকতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে। যদি অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রয়োজনে কিছু কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে তা দলীয় কর্মীদের কাছে স্বচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করা জরুরি। অন্যথায় গুজব, ক্ষোভ ও সন্দেহই প্রাধান্য পাবে।
রাজনীতি কেবল ক্ষমতা অর্জনের শিল্প নয়; এটি আস্থার উপর দাঁড়ানো এক সামাজিক চুক্তি। বিএনপি যদি সত্যিই নতুন আস্থার রাজনীতি গড়তে চায়, তবে তাকে প্রমাণ করতে হবে—মন্ত্রিসভা কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার ক্ষেত্র নয়, বরং জনগণের কল্যাণের উপকরণ।
ক্ষোভ উপেক্ষা করলে তা বিস্ফোরণে রূপ নেয়। আর শোনা ও সংশোধনের মাধ্যমে সেটিই হতে পারে পুনর্জাগরণের সূচনা।




কূটনৈতিক শুভেচ্ছা নাকি কৌশলগত শর্ত?
বিআইডব্লিউটিএ’র মুজিব প্রেমিক দুর্নীতিবাজ আরিফ উদ্দিন এখনো বহাল তবিয়তে
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত দখলদারিত্ব
বিআইডব্লিউটিএ’র দুর্নীতির বাদশা খ্যাত আরিফ উদ্দিন কি আইনের উর্ধ্বে
সাবেক কৃষি মন্ত্রী রাজ্জাক’র পালিত পুত্র দুর্নীতিবাজ মিজান কি আইনের ঊর্ধ্বে
দুর্নীতির যুবরাজ খ্যাত বিএডিসি ডিডি দীপক কি আইনের উর্ধ্বে
ট্রান্সপোর্ট মেকানিক আহসান হাবীব’র দুর্নীতি রুখবে কে
ভূমি খেকো ভুয়া ডিগ্রীধারী সাদী-উজ-জামানের হাজার কোটি টাকার মিশন!
আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ তিতাস গ্যাস পিয়ন হেলাল কি আইনের ঊর্ধ্বে?