
মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
প্রথম পাতা » অর্থনীতি | বিশ্ব সংবাদ » বিশ্লেষণধর্মী মতামত ট্রাম্পের ‘ট্যারিফ ব্লিটজ’: শুল্কের আড়ালে ভূরাজনৈতিক বার্তা
বিশ্লেষণধর্মী মতামত ট্রাম্পের ‘ট্যারিফ ব্লিটজ’: শুল্কের আড়ালে ভূরাজনৈতিক বার্তা
মতামত বিভাগ ৭ জুলাই ২০২৫
বাণিজ্য নাকি ভূরাজনীতি? ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক শুল্ক ঘোষণা-যা তিনি নিজেই ‘ট্যারিফ ব্লিটজ’ নামে অভিহিত করেছেন-আসলে কেবল অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নয়, বরং একটি সুস্পষ্ট ভূরাজনৈতিক বার্তা। ১৪টি দেশের ওপর ২৫% থেকে ৪০% পর্যন্ত শুল্ক আরোপ এবং BRICS-ঘনিষ্ঠ দেশগুলোর জন্য অতিরিক্ত ১০% শুল্কের হুমকি এই বার্তাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে: “আমেরিকার সঙ্গে না থাকলে, মূল্য দিতে হবে।”
BRICS বনাম পশ্চিম: নতুন শীতল যুদ্ধ?
BRICS এখন আর কেবল একটি অর্থনৈতিক জোট নয়। এটি একটি বিকল্প বিশ্বব্যবস্থার প্রতীক হয়ে উঠছে-যেখানে চীন, রাশিয়া, ভারত, ইরান ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো পশ্চিমা আধিপত্যের বাইরে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। ট্রাম্পের শুল্কনীতি এই বাস্তবতাকে স্বীকার না করে বরং প্রতিরোধের পথ বেছে নিয়েছে।
এই পদক্ষেপে স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্র BRICS-এর সম্প্রসারণকে হুমকি হিসেবে দেখছে। অতিরিক্ত শুল্কের হুমকি আসলে একটি কূটনৈতিক চাপ-যাতে দেশগুলো BRICS থেকে দূরে থাকে।
অর্থনীতির চেয়ে রাজনীতি বড়?
ট্রাম্পের যুক্তি-এই দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ, লাওস বা বসনিয়ার মতো দেশগুলো কীভাবে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিকে হুমকি দিতে পারে?
বাস্তবতা হলো, এই দেশগুলো অনেকেই BRICS-এর সঙ্গে বাণিজ্যিক বা কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই সম্পর্ককে রাজনৈতিক আনুগত্যের সূচক হিসেবে দেখছে। অর্থাৎ, বাণিজ্যিক স্বাধীনতা এখন রাজনৈতিক আনুগত্যের শর্তে বাঁধা।
ঝুঁকিতে বিশ্ব সরবরাহ চেইন
এই শুল্কনীতি শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য নয়, বরং গোটা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য হুমকি। দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের ওপর শুল্ক আরোপ মানে-মূল্যবৃদ্ধি, বিলম্ব এবং বাজারে অনিশ্চয়তা।
বিকল্প পথের সন্ধানে বিশ্ব
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ অনেক দেশকে বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য করছে। চীনের নেতৃত্বে BRICS এখন সেই বিকল্পের প্রতীক। আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার অনেক দেশ এখন পশ্চিমা নির্ভরতা ছেড়ে নতুন মিত্র খুঁজছে-যেখানে শর্ত কম, সম্মান বেশি।
শুল্কের আড়ালে শক্তির খেলা ট্রাম্পের ‘ট্যারিফ ব্লিটজ’ কেবল অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়-এটি একটি কৌশলগত বার্তা, একটি শক্তির খেলা। প্রশ্ন হলো, বিশ্ব কি এই চাপের কাছে নতিস্বীকার করবে, নাকি বিকল্প পথ বেছে নেবে?
বিশ্ব এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। যেখানে প্রতিটি শুল্ক, প্রতিটি জোট, প্রতিটি চুক্তি-শুধু অর্থনীতির নয়, বরং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশক।