শিরোনাম:
ঢাকা, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Daily Pokkhokal
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
প্রথম পাতা » অর্থনীতি | বিশ্ব সংবাদ | ব্রেকিং নিউজ | রাজনীতি » “চুক্তির আড়ালে কার খেলা? জনগণের অধিকার নাকি বিদেশি করপোরেটের মুনাফা?”
প্রথম পাতা » অর্থনীতি | বিশ্ব সংবাদ | ব্রেকিং নিউজ | রাজনীতি » “চুক্তির আড়ালে কার খেলা? জনগণের অধিকার নাকি বিদেশি করপোরেটের মুনাফা?”
১৯ বার পঠিত
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

“চুক্তির আড়ালে কার খেলা? জনগণের অধিকার নাকি বিদেশি করপোরেটের মুনাফা?”

বাংলাদেশ–আমেরিকা বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি চুক্তি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি - তথ্য যাচাই করে দেখা যায়:

---

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ২০২৬ সালে “Agreement on Reciprocal Trade” নামে একটি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কাঠামো চুক্তি হয়েছে। এতে মার্কিন পণ্যের জন্য বাংলাদেশের বাজার আরও উন্মুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

একইসঙ্গে জ্বালানি খাতে LNG, LPG ও অন্যান্য মার্কিন জ্বালানি আমদানির সহযোগিতা চুক্তি ও MoU হয়েছে।

চুক্তিতে বাংলাদেশকে মার্কিন কৃষিপণ্য, জ্বালানি ও প্রযুক্তিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ আছে।

সমালোচকরা বলছেন, এতে বাংলাদেশের নীতিগত স্বাধীনতা ও বহুমুখী বাণিজ্য সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে “non-market countries” সম্পর্কিত ধারা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

এখন আমাদের জিজ্ঞসা চুক্তি নিয়ে মিথ্যে বলছে কারা?

দেশের সাথে গাদ্দারি করলোও বা কারা?

বাংলাদেশের জনগণকে আবারও “উন্নয়ন”, “বিনিয়োগ”, “জ্বালানি নিরাপত্তা” আর “বাজার সম্প্রসারণ”-এর চকচকে ভাষায় একটি অসম চুক্তির সামনে দাঁড় করানো হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে—এই চুক্তি কি সত্যিই জনগণের স্বার্থে, নাকি এটি একটি নতুন অর্থনৈতিক নির্ভরতার শিকল?

সরকার বলছে, আমেরিকার সাথে এই চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। কিন্তু জনগণের সামনে পুরো সত্য বলা হচ্ছে না।

বাস্তবতা হলো, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের বাজার আরও বেশি করে মার্কিন করপোরেট পুঁজি ও পণ্যের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। কৃষি, জ্বালানি, প্রযুক্তি, তথ্যপ্রবাহ—সবখানেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশ কী পেল?

আমেরিকা বাংলাদেশের কিছু পণ্যে শুল্ক কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু তার বিনিময়ে বাংলাদেশকে মার্কিন কৃষিপণ্য, LNG, প্রযুক্তি ও শিল্পপণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে। এমনকি প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি ক্রয়ের কথাও প্রকাশ্যে এসেছে।

এটা কি মুক্ত বাণিজ্য, নাকি চাপিয়ে দেওয়া নির্ভরতা?

সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো—বাংলাদেশের নীতিগত স্বাধীনতার প্রশ্ন। সমালোচকেরা বলছেন, এই চুক্তি ভবিষ্যতে চীন বা রাশিয়ার সাথে বাংলাদেশের স্বাধীন বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্কের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

সরকার এ নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিচ্ছে না। বরং “কিছুই হয়নি” ধরনের বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

জ্বালানি চুক্তির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।

বাংলাদেশকে বলা হচ্ছে—এটি “জ্বালানি নিরাপত্তা” নিশ্চিত করবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, LNG নির্ভরতা কি সত্যিই নিরাপদ? বিশ্ববাজারে LNG দামের উত্থান-পতনে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত বিপর্যস্ত হয়েছে। এখন আবার দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন LNG আমদানির পথে দেশকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

এর মানে কী? এর মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ডলারে জ্বালানি কিনে ঋণের বোঝা টানতে হবে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জনমুখী বিদ্যুৎনীতি বাদ দিয়ে আমদানিনির্ভর করপোরেট মডেল চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

জনগণের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এই চুক্তিগুলো নিয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ বিতর্ক কোথায়? বিশেষজ্ঞ মতামত কোথায়? গণশুনানি কোথায়?

কেন জনগণের অগোচরে কূটনৈতিক ও করপোরেট আলোচনার মাধ্যমে দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে?

যারা প্রশ্ন তোলে, তাদের “উন্নয়নবিরোধী” বলা হয়। অথচ ইতিহাস বলে—অসম চুক্তির বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলাই দেশপ্রেমের পরিচয়।

দেশকে বিক্রি করা হয় একদিনে না।

ধীরে ধীরে—বাজার, জ্বালানি, কৃষি, তথ্য ও নীতিনির্ধারণের ক্ষমতা বিদেশি প্রভাবের হাতে তুলে দিয়েই অর্থনৈতিক উপনিবেশ গড়ে ওঠে।

আজ তাই জনগণের সামনে দুটি পথ: একদিকে নীরব আত্মসমর্পণ। অন্যদিকে সচেতন প্রতিরোধ।

প্রয়োজন:

চুক্তির পূর্ণ পাঠ জনসমক্ষে প্রকাশ,

সংসদীয় অনুমোদন ছাড়া কোনো কৌশলগত চুক্তি না করা,

LNG নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ,

বহুমুখী পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যনীতি বজায় রাখা,

এবং সর্বোপরি জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া।

দেশ কোনো করপোরেট বোর্ডরুমের সম্পত্তি নয়।

বাংলাদেশ জনগণের।

সিদ্ধান্তও জনগণের হওয়া উচিত।

শফিকুল ইসলাম কাজল

মজলুম গুম ভিক্টিম সাংবাদিক



এ পাতার আরও খবর

টানা ৮ বছর একই পদে, সম্পদে ফুলে ফেঁপে নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল টানা ৮ বছর একই পদে, সম্পদে ফুলে ফেঁপে নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল
খেলাপি হওয়ায় ফল স্থগিত দুই নেতা এমপির ভূমিকায় আসলাম চৌধুরী ও সরোয়ার আলমগীর খেলাপি হওয়ায় ফল স্থগিত দুই নেতা এমপির ভূমিকায় আসলাম চৌধুরী ও সরোয়ার আলমগীর
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ” প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ”" গণপূর্ত অধিদপ্তরে জালিয়াতি ও বদলি বাণিজ্য সিন্ডিকেট’র গডফাদার খালেকুজ্জামান কি আইনের উর্ধ্বে
বিআইডব্লিউটিএ বঙ্গবন্ধু পরিষদ সভাপতি  দুর্নীতিবাজ ছাইদুর’র জিয়া পরিষদ সভাপতির পদ পেতে লবিংয়ে ব্যস্ত! বিআইডব্লিউটিএ বঙ্গবন্ধু পরিষদ সভাপতি দুর্নীতিবাজ ছাইদুর’র জিয়া পরিষদ সভাপতির পদ পেতে লবিংয়ে ব্যস্ত!
“”প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ” “”প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ”" গণপূর্ত’র দুর্নীতির সিন্ডিকেট সাম্রাজ্য ৫০ কোটি টাকার লেনদেন’র অভিযোগে তোলপাড়
রোমানিয়ায় অনাস্থা ভোটে সরকারের পতন, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে রোমানিয়ায় অনাস্থা ভোটে সরকারের পতন, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে
দুর্নীতির বাদশা বিএডিসি ডিডি দীপক কুমার কি আইনের উর্ধ্বে দুর্নীতির বাদশা বিএডিসি ডিডি দীপক কুমার কি আইনের উর্ধ্বে
এখনো বহাল তবিয়তে সাবেক নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ’র আস্থাভাজন দুর্নীতিবাজ ছাইদুর রহমান এখনো বহাল তবিয়তে সাবেক নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ’র আস্থাভাজন দুর্নীতিবাজ ছাইদুর রহমান
ভারত থেকে গরু আমদানি অনুমোদন; আসল তথ্য জানালো মন্ত্রণালয় ভারত থেকে গরু আমদানি অনুমোদন; আসল তথ্য জানালো মন্ত্রণালয়

আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)