শিরোনাম:
ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Daily Pokkhokal
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
প্রথম পাতা » রাজনীতি » ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস, দ্বিদলীয় ব্যবস্থার অবসান হওয়ার ইঙ্গিত
প্রথম পাতা » রাজনীতি » ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস, দ্বিদলীয় ব্যবস্থার অবসান হওয়ার ইঙ্গিত
১২ বার পঠিত
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস, দ্বিদলীয় ব্যবস্থার অবসান হওয়ার ইঙ্গিত

 ---

ব‍্যারিস্টার নাজির আহমদ

ঐতিহাসিকভাবে বৃটেনে দ্বিদলীয় ব‍্যবস্থা চলে আসছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে হয় লেবার পার্টি না হয় কনজারভেটিভ পার্টি পরপর বা পালাক্রমে দেশ শাসন করে আসছে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (লিবডেম) নামে মূল ধারার তৃতীয় একটি রাজনৈতিক দল আছে যারা সব নির্বাচনেই কয়েক শতাংশ ভোট ও বেশ কিছু আসন পায়। মাঝে মধ্যে তারা আবার বেশ সাফল্য (break through) দেখিয়ে সংসদে ৬০টির কাছাকাছি আসন পায়। তবে তারা কখনো এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার জন‍্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বা তার কাছাকাছি সংখ্যক আসন সংসদে কখনোই পায়নি। নিকট অতীতে কনজারভেটিভ পার্টির সাথে কোয়ালিশন করে প্রধানমন্ত্রী ডেবিড ক‍্যামেরুনের নেতৃত্বে গঠিত সরকারে যোগ দিয়ে প্রথমবারের মতো লিবডেম ক্ষমতার অংশীদার হয়। কিছু আঞ্চলিক পার্টি (যেমন: স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি - এসএনপি) আছে যাদের প্রভাব শুধুমাত্র ঐ নির্দিষ্ট অঞ্চলে। জাতীয়ভাবে তাদের প্রভাব বা প্রাসঙ্গিকতা নেই।

সম্প্রতি জাতীয়ভাবে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফল অনেককে অবাক ও আশ্চর্যান্বিত করে তুলেছে। মূলধারার প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে পিছনে ফেলে রিফোর্ম ইউকে পার্টির অভাবনীয় উত্থান ঘটেছে। উক্ত নির্বাচনে রিফোর্ম ইউকে পার্টি একাই পেয়েছে ১৪৫৩ জন কাউন্সিলর যেখানে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি পেয়েছে ১০৬৮ জন কাউন্সিলর এবং বৃটেনে প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ৮০১ জন কাউন্সিলর। যেখানে পূরো বৃটেনে মাত্র ২ জন কাউন্সিলর ছিল রিফোর্ম ইউকে পার্টির, সাম্প্রতিক নির্বাচনে ১৪৫১ জন বেড়ে এখন তাদের মোট কাউন্সিলরের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৫৩ জনে। নতুন এই পার্টির ব্যাপারে বুদ্ধাদের অভিমত হলো “Reform UK is Britain’s fastest growing political party” (অর্থাৎ “রিফর্ম ইউকে হলো ব্রিটেনের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক দল”)।

শুধু তাই নয়, লিবডেমও এবারের নির্বাচনে জাতীয়ভাবে অনেক ভাল করেছে। বরাবর তারা প্রধান দুটি দল লেবার পার্টি ও কনজারভেটিভ পার্টি থেকে বহু পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করলেও এবার তারা কনজারভেটিভ পার্টিকে টপকিয়ে এগিয়ে গেছে। কনজারভেটিভ পার্টি পূরো দেশে পেয়েছে মোট ৮০১ জন কাউন্সিলর কিন্তু লিবডেম পেয়েছে ৮৪৪ জন কাউন্সিলর। জাতীয়ভাবে বেশ কয়েকটি কাউন্সিলের কর্তৃত্বও তারা নিয়েছে। যদিও বাঙ্গালী অধ্যুষিত বারা টাওয়ার হ‍্যামলেটস ও নিউহ্যাম কাউন্সিলে তারা মোটেই ভাল করেনি। টাওয়ার হ‍্যামলেটসে ৪৫ জন কাউন্সিলরের মধ্যে মাত্র একজন কাউন্সিলর পেয়েছে। অপরদিকে ৬৬ কাউন্সিলরসম্পন্ন নিউহ্যামে লিবডেম কোন কাউন্সিলর পায়নি। মেয়র পজিশনেও এই দুটি বারায় ডিবডেমের প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের সংখ‍্যা খুবই নগণ্য। টাওয়ার হ‍্যামলেটস-এ লিবডেমের প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ৩১০০ ভোট। অপরদিকে, নিউহ্যামে লিবডেমের প্রার্থী পেয়েছেন ৩৭৬৬ ভোট।

গ্রীন পার্টিরও অস্বাভাবিক উত্থান ঘটেছে। তারা পঞ্চম বৃহৎ পার্টি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তারা জাতীয়ভাবে ৫৮৭ জন কাউন্সিলর পেয়েছে। জাতীয়ভাবে পঞ্চম হলেও স্থানীয়ভাবে অনেক কাউন্সিলে তারা চমৎকার ফলাফল করেছে। গ্রেটার লন্ডনে মোট পাঁচটি বারা কাউন্সিলে নির্বাহী মেয়র (জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত) পদ্ধতি বলবৎ আছে। এই পাঁচটি বারা কাউন্সিলের মধ্যে দুটিতে অর্থাৎ হ‍্যাকনি কাউন্সিল ও লুইশাম কাউন্সিলে নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন গ্রীন পার্টি থেকে। বাঙ্গালী অধ্যুষিত বারা টাওয়ার হ‍্যামলেটস ও নিউহ্যাম কাউন্সিলে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে তারা তৃতীয় অবস্থানে এসে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। অল্পের জন্য (মাত্র ২৩৩ ভোটের জন্য) টাওয়ার হ‍্যামলেটসে গ্রীন পার্টি লেবার পার্টিকে টপকিয়ে গিয়েছিল। টাওয়ার হ‍্যামলেটসে গ্রীন পার্টির মেয়র প্রার্থী পেয়েছেন ১৯,২২৩ ভোট এবং নিউহ্যামে পেয়েছেন ১৮,৯৯৯ ভোট। টাওয়ার হ‍্যামলেটসে গ্রীন পার্টির প্রাপ্ত কাউন্সিলর সংখ‍্যা ৫ জন, লেবার পার্টির সমান! অপরদিকে নিউহ্যামে গ্রীন পার্টি পেয়েছে ১৬ জন কাউন্সিলর।

রিফোর্ম ইউকে পার্টি জাতীয়ভাবে যে পারফরম্যান্স করেছে এটা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা সরকার গঠন করতে পারে বলে অনেকে আশংকা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, একা সরকার গঠন করতে না পারলেও আগামি সাধারণ নির্বাচনের পর ঝুলন্ত পার্লামেন্ট (hung parliament) হতে পারে যেখানে রিফোর্ম ইউকে পার্টি বৃহৎ দল হিসেবে আবির্ভূত হবে। উপরের দুটির যেটিই হোক না কেন তা ইমিগ্রান্ট কমিউনিটির উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ঐতিহাসিকভাবে, রিফোর্ম ইউকে পার্টি এক চরম/উগ্র ডানপন্থি দল। তারা নীতিগতভাবে ও আদর্শিকভাবে ইমিগ্রেশন ও ইমিগ্রান্ট বিরোধী। কিছু কিছু নীতি ও পলিসি শেতাঙ্গ ভোটারদের কাছে আকর্ষনীয় ও জনপ্রিয় হলেও তা মুসলমান, কৃষ্ণাঙ্গ ও ইমিগ্রান্ট কমিউনিটির জন‍্য মারাত্মক পরিণতি বয়ে নিয়ে আসতে পারে। বেড়ে যেতে পারে অচিন্তনীয় বর্ণবাদী আচরণ ও আক্রমণ।

ক্রমাগতভাবে লেবার পার্টি ও কনজারভেটিভ পার্টির ব‍্যর্থতার কারণেই মূলতঃ রিফোর্ম ইউকে ও গ্রীন পার্টির এই অস্বাভাবিক উত্থান ঘটেছে। গত কয়েক দশকের যথাক্রমে লেবার পার্টির সরকার ও কনজারভেটিভ পার্টির সরকারের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করলে দেখা যাবে তারা ইমিগ্রেশন, হাউজিং, ক্রাইম, হেলথ সার্ভিস ও অর্থনীতি সংক্রান্ত ইস্যুগুলো ভালোভাবে ডীল করতে পারেনি বা জনগণের প্রত‍্যাশা অনুযায়ী তারা পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি। বরং কোন কোন ইস্যুতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, চলমান সমস্যার মাত্রা আরো বেড়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ও মধ্যপ্রাচ্যের ইস্যুতে প্রধান দল দুটির কপটতা ও দ্বিচারিতা লক্ষ্য করা গেছে। ফলে বিকল্প খুঁজতে মোটাদাগে কনজারভেটিভ পার্টির ভোটাররা ও সমর্থকরা রিফোর্ম ইউকে পার্টির দিকে ঝুঁকছে। অপরদিকে, লেবার পার্টির ভোটার ও সমর্থকরা গ্রীন পার্টি ও বিভিন্ন নামে আবির্ভূত ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টিগুলোর দিকেই আকৃষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফল বর্তমান ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টি ও লেবার প্রধানমন্ত্রীর জন‍্য অনেকটা হতাশাজনক, অপমানজনক ও বলা যায় অনেকটা চটেপাঘাত। কেননা লেবার পার্টি পূরো দেশে ১১০০ জনের এর উপর কাউন্সিলর হারিয়েছে এবং ২৮ কাউন্সিলের উপর নিয়ন্ত্রন হারিয়েছে। এই ব‍্যর্থতার জন‍্য অনেকে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করছেন যদিও প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইতিমধ্যে নির্বাচনে লেবারের ফলাফল খারাপ হওয়ার দায়িত্ব (responsibility) নিজের কাঁধে নিয়েছেন কিন্তু পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন যে তিনি পদত্যাগ করেছেন না।

দ্বিতীয় বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা নিউহ্যাম বারা (যার মধ‍্যে বর্তমানে আড়াই জন এমপির নির্বাচনি এলাকা অন্তর্ভুক্ত) ছিল এক সময় লেবার পার্টির ঘাঁটি। পূরো বৃটেনের মধ‍্যে যদি সবচেয়ে ৫-৭টি সেইফ নির্বাচনি এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয় তাহলে নিউহ‍্যাম হবে ঐগুলোর মধ‍্যে অন‍্যতম। কিন্তু লেবার পার্টির দ্বিমূখী নীতি, দৃশ‍্যত গুয়ার্তামি, নিজ পার্টির ব্রাঞ্চ ও সিএলপি  (কন্সটিটুয়েন্সি লেবার পার্টি) এবং তার নিজ মেম্বারদের প্রতি দীর্ঘদিনের অবিচার এবং আন্তর্জাতিক ও মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে স্পষ্টত দ্বিচারিতার কারণে আস্তে আস্তে ধরাশায়ী হতে চলেছে। পাঁচ বছর ধরে তাদের দুটি সিএলপি সাসপেন্ডেড। ২০১৮ সালে  ৫৩,২১৪ ভোট পেয়ে লেবার পার্টি থেকে নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়েছিল। এটা নেমে এসেছে ২০২২ সালে ৩৫,৬৯৬ ভোটে! আর এবার মাত্র ২৫,৫২৮ ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া নিউহ্যাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টির প্রার্থী পেয়েছে ২০,২৩৪ ভোট। অর্থাৎ এই ট্রেন্ড বজায় থাকলে আগামী চার বছর পর নিউহ্যামে লেবার পার্টি থেকে মেয়র নির্বাচিত হয়ে আসতে পারবে না। যদি নিউহ্যাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট অধিকতর দক্ষ (Competent) ও আকর্ষণীয় (Charismatic) প্রার্থী দিতো তাহলে এবারই লেবারের প্রার্থী ধরাশায়ী হয়ে যেতো।

আর কাউন্সিলর! এক সময় নিউহ্যামে সবাই ছিল লেবার পার্টির কাউন্সিলর। অন‍্য কোনো দল থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হতে পারতেন না, চিন্তাই করা যেতো না। এবার নিউহ্যাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও গ্রীন পার্টি মিলে পেয়েছে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি কাউন্সিলর। লেবার পার্টি পেয়েছে মাত্র ২৬ জন কাউন্সিলর, নিউহ্যাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট পেয়েছে ২৪ জন কাউন্সিলর এবং গ্রীন পার্টি পেয়েছে ১৬ জন কাউন্সিলর। অর্থাৎ লেবার পার্টি মাইনোরিটি। কাউন্সিলের সব কটি ইলেক্টেড (যেমন: স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, প্ল্যানিং ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম‍্যান, স্ট্র‍্যাটিজিক ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান, ওভারভিউ ও স্ক্রুটিনি কমিটির চেয়ারম‍্যান, স্ক্রুটিনি কমিশনগুলোর চেয়ারম্যান ইত্যাদি) পজিশনগুলো নিউহ্যাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও গ্রীন পার্টি মিলে নিয়ে যাবে। কাউন্সিলে মোশন পাশ করাও লেবারের নির্বাহী মেয়রের জন্য কঠিন হবে। উল্লেখ্য, নিউহ্যাম ইন্ডিপেন্ডেন্টের ২৪ জন কাউন্সিলরের প্রায় সবাই অতীতে লেবার পার্টির সাথে জড়িত ছিলেন। কিন্তু লেবার পার্টির তাদের প্রতি করা অন‍্যায়, অবিচার ও নীতিতে দ্বিচারিতা দেখে লেবার পার্টি ছেড়ে চলে এসে তারা নতুন পার্টি গঠন করেছেন।

প্রধান বাঙ্গালি অধ্যুষিত বারা টাওয়ার হ‍্যামলেটসে লেবার পার্টি অনেকটা নিশ্চিহ্ন (wiped out) হওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেছে। অবশ্য এটা আগ থেকেই আঁচ করা যাচ্ছিল। অনেক দিন ধরে লেবার পার্টি এই কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রন হারিয়েছে। ২০২২ সালের নির্বাচনে এস্পায়ার পার্টির নেতা লুৎফুর রহমান বিপুল ভোটের ব্যবধানে লেবার পার্টির প্রার্থী জন বিগসকে হারিয়ে তৃতীয় বারের মতো মেয়র হয়ে কাউন্সিলের পূর্ন নিয়ন্ত্রন নেন। ৪৫ জন কাউন্সিলরের মধ্যে অধিকাংশ তার পার্টি থেকেই ছিল। ফলে আড়াই জন এমপির নির্বাচনী এলাকা নিয়ে গঠিত ১.৫ বিলিয়ন পাউন্ডের বাজেটের কাউন্সিল দাপটের সাথে চালিয়েছেন।

২০২৬ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে টাওয়ার হ‍্যামলেটসে লেবার পার্টির অবস্থা খুবই শোচনীয়। ৪৫ জন কাউন্সিলরের মধ‍্যে মাত্র পেয়েছে ৫ জন কাউন্সিলর, বারাতে এককালের অপরিচিত ও অখ‍্যাত গ্রীন পার্টির সমান! অপরদিকে, এস্পায়ারের মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র লুৎফর রহমান ৩৫,৬৭৯ ভোট পেয়ে পুনর্বার (চতুর্থ বারের মতো) মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। লেবার পার্টির প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ১৯,৪৫৪ ভোট। গ্রীন পার্টির প্রার্থী পেয়েছেন ১৯,২২৩। অর্থাৎ আরো ২৩৪ ভোট কম পেলে এক সময়ের পূরো বৃটেনের অন‍্যতম সেইফ নির্বাচনী এলাকা বলে খ‍্যাত  টাওয়ার হ‍্যামলেটসে লেবারের প্রার্থী তৃতীয় অবস্থানে চলে যেতেন!

লেবারের মেয়র প্রার্থী ব‍্যক্তি হিসেবে খুব ভাল, শান্তশিষ্ট ও ভদ্র। চমৎকার ইংরেজি বলেন। আমার এলাকার কৃতি সন্তান। প্রায় ২৫ বছর কাউন্সিলে কাউন্সিলর হিসেবে সার্ভ করেছেন। তবে charisma, তীক্ষ্ন বুদ্ধি, নিজের প্রতি ভোটারদের টানা ও মানুষের সাথে মেলামেশার যোগ‍্যতায় লুৎফর রহমানের ধারে কাছেও নাই। তাছাড়া নির্বাচনী ক‍্যাম্পেইনে তার আশেপাশে যারা ছিলেন তাদের অনেকের একটি বিতর্কিত বিশেষ পরিচিতি আছে বলে কমিউনিটির অনেকে মনে করেন। বিতর্কিতরা তার সাথে থাকায় বরং ভোট তার দিন দিন কমেছে। নির্বাচনী ক‍্যাম্পেইনও ছিল তার গতানুগতিক ধারার।

ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ভোটারদের বিতৃষ্ণা স্পষ্ট। লেবার ও কনজারভেটিভ পার্টিই ঘুরে ফিরে বারবার দেশ শাসন করছে। কিন্তু তারা জনগণকে তাদের প্রত‍্যাশা অনুযায়ী ডেলিভারি দিতে পারেনি। কখনও কখনও বিতর্কিত ইস্যু সমাধান করতে গিয়ে আগুনে ঘি ঢালার মতো সমস‍্যা আরো প্রকট ও ব‍্যাপক করেছে। ফলে ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে চরম ডানপন্থি দল বা একসময়ের একবারে ছোট বা অখ‍্যাত দলের দিকে। আর এটাই বৃটিশ রাজনীতিতে ঐতিহাসিকভাবে চলে আসা দ্বিদলীয় ব্যবস্থার অবসান হওয়ার ইঙ্গিত। গণতন্ত্রে দ্বিদলীয় ব্যবস্থা হোক বা বহুদলীয় ব্যবস্থা হোক তাতে কোন অসুবিধা নেই। তাতে বরং জনগণের পছন্দে বৈচিত্র্যতা আসবে। শংকার জায়গা হলো দেশ ও রাষ্ট্র চালাবার দায়িত্ব যদি রিফোর্ম ইউকে পার্টির মতো উগ্র ও চরম ডানপন্থি দলের হাতে যায় তখন মুসলমান, কৃষ্ণাঙ্গ ও ইমিগ্রান্ট কমিউনিটির কি হবে।

Email: ahmedlaw2002@yahoo.co.uk



এ পাতার আরও খবর

নিষেধাজ্ঞা এড়াতে নাম বদলে চীন সফরে মার্কো রুবিও নিষেধাজ্ঞা এড়াতে নাম বদলে চীন সফরে মার্কো রুবিও
ওমানে গাড়ির ভেতর চট্টগ্রামের ৪ প্রবাসীর রহস্যজনক মৃত্যু ওমানে গাড়ির ভেতর চট্টগ্রামের ৪ প্রবাসীর রহস্যজনক মৃত্যু
টানা ৮ বছর একই পদে, সম্পদে ফুলে ফেঁপে নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল টানা ৮ বছর একই পদে, সম্পদে ফুলে ফেঁপে নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল
গণপূর্ত’র “স্পেশাল ইউনিটে” বদরুল-জাহাঙ্গীর জুটির বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার কাজ বাণিজ্য’র গুরুতর অভিযোগ গণপূর্ত’র “স্পেশাল ইউনিটে” বদরুল-জাহাঙ্গীর জুটির বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার কাজ বাণিজ্য’র গুরুতর অভিযোগ
ভোটের নয়, বিদেশি ছায়ার সরকার: বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব আজ কার হাতে? ভোটের নয়, বিদেশি ছায়ার সরকার: বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব আজ কার হাতে?
দুই বাংলার রাজনীতির অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে কি বার্তা দিচ্ছে দুই বাংলার রাজনীতির অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে কি বার্তা দিচ্ছে
খেলাপি হওয়ায় ফল স্থগিত দুই নেতা এমপির ভূমিকায় আসলাম চৌধুরী ও সরোয়ার আলমগীর খেলাপি হওয়ায় ফল স্থগিত দুই নেতা এমপির ভূমিকায় আসলাম চৌধুরী ও সরোয়ার আলমগীর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  বাংলাদেশে (পূর্ব বাংলায়) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল সাহিত্যিক‌ই নন, তিনি সুসংহত সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক হাতিয়ার‌ও বটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাদেশে (পূর্ব বাংলায়) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল সাহিত্যিক‌ই নন, তিনি সুসংহত সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক হাতিয়ার‌ও বটে
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ” প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ”" গণপূর্ত অধিদপ্তরে জালিয়াতি ও বদলি বাণিজ্য সিন্ডিকেট’র গডফাদার খালেকুজ্জামান কি আইনের উর্ধ্বে

আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)