বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
প্রথম পাতা » রাজনীতি | সম্পাদক বলছি » দুই বাংলার রাজনীতির অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে কি বার্তা দিচ্ছে
দুই বাংলার রাজনীতির অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে কি বার্তা দিচ্ছে
![]()
বাংলার রাজনীতি আজ এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র উত্থান, অন্যদিকে বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির নতুন সক্রিয়তা—এই দুই বাস্তবতা আসলে একই ভূ-রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের আলাদা প্রতিচ্ছবি। স্বাধীনতার পর যে বাঙালি জাতীয়তাবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা এবং ভাষাভিত্তিক সাংস্কৃতিক চেতনা এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ভিত্তি নির্মাণ করেছিল, গত এক দশকে তা নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান কেবল একটি দলের সাংগঠনিক সাফল্য নয়; এটি দীর্ঘদিনের সামাজিক ক্ষোভ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, পরিচয়ের সংকট এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের ফসল। শ্রেণিভিত্তিক রাজনীতির জায়গায় ধীরে ধীরে ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি শক্তিশালী হয়েছে। “বাঙালি বনাম বহিরাগত”, “নিরাপত্তা বনাম অনুপ্রবেশ”, “সংখ্যালঘু তোষণ বনাম সংখ্যাগরিষ্ঠ বঞ্চনা”—এই ধরনের রাজনৈতিক ভাষ্য সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে।
বাংলাদেশেও একইসঙ্গে দেখা যাচ্ছে ধর্মকে রাজনৈতিক সংগঠনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা। একাত্তরের পরাজিত সাম্প্রদায়িক শক্তি নতুন ভাষা, নতুন সংগঠন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নতুন প্রচারের মাধ্যমে আবারও জনপরিসরে ফিরে আসার চেষ্টা করছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ধর্মনিরপেক্ষতার জায়গায় ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক মূলধনে পরিণত করার এই প্রচেষ্টা শুধু নির্বাচনী রাজনীতিকেই নয়, সামাজিক সম্পর্ককেও প্রভাবিত করছেতবে এই অন্ধকারের মধ্যেই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবাহ তৈরি হচ্ছে—নতুন নবজাগরণের প্রবাহ। পশ্চিমবঙ্গে ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক বাঙালি আত্মপরিচয়ের নতুন উত্থান যেমন দেখা যাচ্ছে, তেমনি বাংলাদেশেও তরুণ প্রজন্মের একাংশ ধর্মীয় বিভাজনের বদলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বৈষম্যবিরোধী রাজনীতি এবং সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদের পক্ষে নতুন কণ্ঠ তৈরি করছে।
এর মতো সংগঠন ভাষাভিত্তিক পরিচয় রাজনীতিকে সামনে আনছে, আবার বাংলাদেশে বিভিন্ন নাগরিক আন্দোলন সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে নতুন সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলছে।
এই পরিস্থিতি আগামী দিনের রাজনীতির জন্য কী বার্তা বহন করছে?
প্রথমত, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি আরও বেশি পরিচয়কেন্দ্রিক হতে চলেছে। ধর্ম, ভাষা, জাতিগত পরিচয় এবং নাগরিকত্ব—এসব প্রশ্ন ভবিষ্যতের নির্বাচনী রাজনীতির কেন্দ্রে থাকবে।
দ্বিতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রাজনৈতিক মতাদর্শ তৈরির প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলা ভাষাভিত্তিক ডিজিটাল পরিসরে ঘৃণাত্মক বক্তব্য, বিভাজনমূলক প্রচার এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
তৃতীয়ত, পুরোনো বাম-ডান বিভাজনের বদলে নতুন দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে—অসাম্প্রদায়িক বহুত্ববাদ বনাম ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ। এই লড়াই কেবল ভোটের মাঠে নয়; সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা, গণমাধ্যম এবং ডিজিটাল জগতেও চলবে।
চতুর্থত, বাঙালি পরিচয়ের প্রশ্ন আবারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কিন্তু সেই পরিচয় কোন পথে যাবে—অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ, নাকি ধর্মীয় মেরুকরণ—সেটাই আগামী দশকের বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন।
ইতিহাস বলছে, বাংলার সমাজ কখনো দীর্ঘদিন একরৈখিক রাজনীতিকে মেনে নেয়নি। নবজাগরণ, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ কিংবা গণআন্দোলনের ইতিহাস এই অঞ্চলের মানুষকে বারবার নতুন চিন্তার দিকে ফিরিয়ে এনেছে। ফলে বর্তমান সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ যত শক্তিশালী হোক না কেন, তার বিপরীতে নতুন মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির সম্ভাবনাও সমানভাবে জন্ম নিচ্ছে।
আগামী দিনের রাজনীতি তাই শুধু ক্ষমতার পালাবদলের গল্প হবে না; এটি হবে পরিচয়, সংস্কৃতি, গণতন্ত্র এবং সহাবস্থানের নতুন লড়াইয়ের ইতিহাস।
শফিকুল ইসলাম কাজল
লন্ডন থেকে




ডিজি বদলি, কিন্তু বিতর্কের অবসান কোথায়?
দুবাইয়ে সাবেক আই জি পি বেঞ্জির গ্রেপ্তার
রেল খেকো ‘ম্যাক্স’ গ্রুপের একচেটিয়া আধিপত্য রুখবে কে
অনিয়ম-দুর্নীতি চাঁদাবাজি ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে শূন্য থেকে শতকোটির মালিক বন কর্মকর্তা নিশাত
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’র সেকেন্ড ডিজি খ্যাত বদলি ও ঘুষ বাণিজ্যের গডফাদার মাসুম বিল্লাহ কি আইনের উর্ধ্বে
ঋণ জালিয়াতি, বিদেশি নাগরিকত্ব ও অফশোর সম্পদ: নতুন চাপে বসুন্ধরা গ্রুপ
“দুদকের দৃষ্টি আকর্ষণ”" সওজের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান’র সম্পদের পাহাড়
ও: কাদের লিটন সিন্ডিকেট সদস্য সওজ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান
গুলিস্তান ট্রেড সেন্টারে দুর্নীতির উৎসব নীরব ভূমিকায় ঢা:দ:সিটি কর্পোরেশন