শিরোনাম:
ঢাকা, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২

Daily Pokkhokal
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
প্রথম পাতা » শিক্ষা ও ক্যারিয়ার » শিবিরের ইন্ধনে বন্ধ হচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়!
প্রথম পাতা » শিক্ষা ও ক্যারিয়ার » শিবিরের ইন্ধনে বন্ধ হচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়!
৩৫৯ বার পঠিত
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

শিবিরের ইন্ধনে বন্ধ হচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়!

---পক্ষকাল প্রতিবেদক ঃ

হঠাৎ করেই শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বন্ধ হচ্ছে রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। গত রবিবার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত নর্থসউথ ইউনিভার্সিটির কিছু শিক্ষার্থী ক্লাস বন্ধের দাবি তুললে সোমবার ওই দাবি প্রতিষ্ঠানটির গণ্ডি পেরিয়ে আশেপাশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানেও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। হঠাৎ করেই এসব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধে ছাত্রদের কথিত আন্দোলনের পেছনে জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন ছাত্র শিবিরের প্রত্যক্ষ ইন্ধন রয়েছে দাবি করেছেন একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। তাদের দাবি, শিবিরের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সক্রিয় তৎপরতার কারণেই শিক্ষার্থীরা অনেকটা বাধ্য হয়ে বিক্ষোভ-মিছিলে অংশগ্রহণ করেছে। আজ মঙ্গলবার বাংলা ট্রিবিউনের অনুসন্ধানে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

সূত্রের দাবি, ‘বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা চলমান অবরোধ-হরতালের কারণে শিক্ষাব্যবস্থাও বন্ধ হয়েছে’- শীর্ষনেতাদের কাছ থেকে এ ধরনের কৃতিত্ব নিতেই মূলত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে টার্গেট করেছে শিবির। পাশাপাশি জামায়াত-প্রভাবিত কিছু প্রতিষ্ঠান বিএনপি জোটের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণ রয়েছে, এমনটি প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ কারণেই মঙ্গলবার নর্থ সাউথ, ইস্ট-ওয়েস্ট, ব্র্যাক, ইনডিপেন্ডেন্ট, সাউথ-ইস্ট ইউনিভার্সিটি ও আমেরিকান ইউনিভার্সিটিসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ক্লাসগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বন্ধ হওয়ার তালিকা বুধবার থেকে আরও দীর্ঘ হতে পারে বলেও জানা গেছে। বন্ধ হয়ে যাবে জামায়াতের অর্থায়নে পরিচালিত ইসলামী ইউনিভার্সিটি, নর্দান, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চিটাগংসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রথম গত রবিবার ক্লাসবন্ধের দাবি করে নর্থ-সাউথের কয়েকজন শিক্ষার্থী। তারা হরতাল-অবরোধে আক্রান্ত হয়েছে এমনটি দাবি করে, ছবি তুলে, আক্রান্তসহ কয়েকজন ছাত্র বিষয়ক শিক্ষকের কাছে ক্লাসবন্ধের দাবি তোলে। এরপর ওই শিক্ষক বিষয়টিকে সমাধানে অপারগতা প্রকাশ করে তাদের সরাসরি ভিসির সঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা চিহ্নিত হয়ে পড়ার ভয়ে ভিসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেনি। যদিও এরপর মঙ্গলবার তারা দিনভর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে। এর আগে রবিবার রাতে ক্লাসবন্ধের নামে একটি ফেসবুক ইভেন্টপেজ খোলে। মূলত ওই পেজ থেকে ক্লাসবন্ধের জন্য শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানানো হয়। যুক্তি দেখানো হয়, হরতাল-অবরোধে ঘর থেকে বের হলেই পেট্রোলবোমা বা ককটেলে আক্রান্ত হতে হবে। এ কারণ দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহকে আন্দোলনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

সূত্রমতে, এর আগে গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক সহিংসতা থাকলেও, সংকট বিরাজ করলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম নিয়মিত চলেছে। নর্থ-সাউথে বিক্ষোভ শুরুর পরপরই ইস্ট-ওয়েস্ট, আমেরিকান, ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বন্ধের দাবি জানায়।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, মঙ্গলবার যে সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় বিক্ষোভ হয়েছে, ওই সময়েই ছাত্র শিবিরের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা একযোগে সক্রিয় ছিল। ওই সময় তারা বিক্ষোভের ছবিসহ খবর গণমাধ্যমে পাঠায়। মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে ফিরোজ মাহমুদের মেইল থেকে গণমাধ্যমে ‘হরতালে ক্লাস বন্ধের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ’ শীর্ষক একটি বিবৃতি পাঠানো হয়। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ২০ দলীয় জোটের টানা হরতাল-অবরোধের মাঝে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে ক্লাস চালু রাখার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে রাজধানীর বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আরও বলা হয়, মঙ্গলবার বনানীর আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সাউথ-ইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভ করে। সোমবার থেকেই মূলত এই বিক্ষোভ শুরু হয়। সেদিন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করে। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় জামায়াত-সমর্থিতদের লগ্নি রয়েছে বলে একটি সূত্র জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, টানা হরতাল-অবরোধের মাঝে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে ক্লাস চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি একটি নোটিশ প্রকাশিত হয় বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইটে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপ এবং পেইজে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। এমনকি হরতালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাসে আসতে গিয়ে দুজন শিক্ষার্থী রাস্তায় দুর্বৃত্তের ককটেল হামলার শিকার হয়। আর এই খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেই ক্লাস বন্ধের দাবি ওঠে। ওই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শান্তিপূর্ণ অবস্থানের জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হয়। আহ্বানে সাড়া দিয়ে গত সোমবার সকাল থেকেই নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় তারা ক্লাস বর্জনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নর্থসাউথ কর্তৃপক্ষ আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। এরপরই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শান্ত হয়।

এছাড়া বলা হয়, এদিকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ও হরতালে ক্লাস চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয়, পরে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারা সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।

এ বিষয়ে কথা হয় ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ-৭ সেমিস্টারের একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। যিনি প্রগতিশীল একটি বাম সংগঠনের জড়িত। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি জানান, চলমান কর্মসূচিতে তো এক ধরনের আতঙ্ক আছেই। কিন্তু এ আতঙ্কের মধ্যে গত এক মাস ক্লাস হয়েছে নিয়মিত। কিন্তু গত শনিবার থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী, যারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন সময়ে ছাত্রশিবির বা সাম্প্রদায়িক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে শুনেছি, তারা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

একই বিষয়ে কথা হয় সাউথ-ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের একজন ছাত্রীদের সঙ্গে। তিনি জানান, কারা করছে পরিস্কারভাবে কিছু জানতে না পারলেও বিষয়টি আমাদের কাছে নতুন। এর আগে কখনও এমন হয়নি।

জানতে চাইলে নর্থসাউথের জনসংযোগ শাখার উপ-পরিচালক বেলাল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে যদি আন্দোলন হয় এবং তাতে ক্লাস বন্ধ করার বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তাহলেই অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তবে ক্লাস বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্ধ থাকলেও দাফতরিক সব কাজ চলবে বলেও জানান তিনি।

আমেরিকান ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ শাখায় একাধিকবার কল করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলেও ছাত্র শিবিরেরে প্রচার বিভাগের দুই দায়িত্বশীলকে পাওয়া যায়নি।



এ পাতার আরও খবর

যুদ্ধবিমান নয়, জনগণের ভাত কাপড় বাসস্থান চাই–মোশরেফা মিশু : যুদ্ধবিমান নয়, জনগণের ভাত কাপড় বাসস্থান চাই–মোশরেফা মিশু :
গুরুতর আহত নুর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি গুরুতর আহত নুর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি
গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী বাংলাদেশ: চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মব সংস্কৃতির পুনরুত্থান-ড. কামাল হোসেন গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী বাংলাদেশ: চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মব সংস্কৃতির পুনরুত্থান-ড. কামাল হোসেন
সদস্য সাংবাদিকদের ওপর হামলায় ক্ষোভে ফুঁসছে ডিআরইউ সদস্য সাংবাদিকদের ওপর হামলায় ক্ষোভে ফুঁসছে ডিআরইউ
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের দোহা সফর: মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের দোহা সফর: মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক
থেমে নেই প্রধান প্রকৌশলী (মেরিন)আতাহার’র কমিশন বাণিজ্য থেমে নেই প্রধান প্রকৌশলী (মেরিন)আতাহার’র কমিশন বাণিজ্য
নিউইয়র্কে কনসুলেট ভাঙচুর, উপদেষ্টা মাহফুজকে লক্ষ্য করে লাত্থি উষ্টা ও ডিম নিক্ষেপ নিউইয়র্কে কনসুলেট ভাঙচুর, উপদেষ্টা মাহফুজকে লক্ষ্য করে লাত্থি উষ্টা ও ডিম নিক্ষেপ
দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনজীবীদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনজীবীদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তিন দলের বৈঠক: কূটনীতি না কি গোপন রাজনৈতিক সমন্বয়? পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তিন দলের বৈঠক: কূটনীতি না কি গোপন রাজনৈতিক সমন্বয়?
টেকনাফ সীমান্তে আবারও গুলির শব্দ, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সতর্ক পাহারায় বিজিবি টেকনাফ সীমান্তে আবারও গুলির শব্দ, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সতর্ক পাহারায় বিজিবি

আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)