রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
প্রথম পাতা » অপরাধ | অর্থনীতি » “”প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ”" দুর্নীতির ডিজিটাল বাদশা বিআইডব্লিউটিএর অতি: প্রধান প্রকৌশলী মজনু মিয়া
“”প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ”" দুর্নীতির ডিজিটাল বাদশা বিআইডব্লিউটিএর অতি: প্রধান প্রকৌশলী মজনু মিয়া
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
![]()
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ড্রেজিং বিভাগ যেন স্বর্ণের খনি এই বিভাগের দায়িত্বে আসলেই অনেকেই হাতে পেয়ে যায় আলাদিনের চেরাগ ঘষা দিলেই শুধু টাকা, ইতিপূর্বেও ড্রেজিং বিভাগের দায়িত্বে থাকা অনেক প্রকৌশলী শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি করে কামিয়াছেন, দুর্নীতিবাজ ওই সব প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ কার্যকর হয় না অবৈধ অর্থের প্রভাবে সবকিছু ম্যানেজ করে নেন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করলেও এগুলোর কেউ তোয়াক্কা করে না একাধিক অভিযোগ আছে বিআইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী(মেরিন) মোঃ মজনু মিয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে নামে বেনামে অঢেল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (মেরিন) মজনু মিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য দেখা যায় ড্রেজিং বিভাগে ভয়াবহ দুর্নীতি অনিয়ম করেও আছেন বহাল তবিয়তে আছেন দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী মজনু মিয়া।
উল্লেখ্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বিরুদ্ধে সঠিকভাবে নদী খনন ও ড্রেজিং না করে বরাদ্দের ৩০-৪০ শতাংশ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বহু আগের; যা প্রায় সবারই জানা আছে।
তবে ড্রেজার বেইসের (ড্রেজার সংরক্ষণ, পরিচালন ও মেরামত) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনেও যে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা যায়, তা হয়তো অনেকেরই জানা নেই। আর এ কাজই করেছেন সংস্থার ড্রেজিং বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মজনু মিয়া।
পতিত আওয়ামী সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের এবং প্রভাবশালী নেতাদের চাটুকারিতা করে আয় করেছেন অন্তত অর্ধশত কোটি টাকা। পতিত সরকারের আশীর্বাদে সরকারের শেষ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যয়বহুল প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) হয়েছিলেন। সেই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থেকে পদোন্নতি পেয়েছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে। তবে গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ভোল পাল্টে জাতীয়তাবাদী সেজেছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্যমতে,পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশীর্বাদে পিডি হয়েছিলেম এই দুর্নীতিবাজ মজনু মিয়া।
এদিকে, নদী খনন ও ড্রেজিংয়ে সীমাহীন দুর্নীতি ও অর্থ লোপাট এবং রকিবুল তালুকদারের বিপুল অর্থবিত্ত ও অবৈধ সম্পদ নিয়ে দুদক অনুসন্ধান শুরু করার পর নৌ মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএসহ নৌ সেক্টরজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।নাব্যতা সংকট দূর করে সারা বছর নৌপথ সচল রাখতে নিয়মিত নদী ড্রেজিং বা পলি অপসারণের জন্য বিআইডব্লিউটিএর বহরে ড্রেজারের সংখ্যা ৪৫। এই বহরে আরও ৩৫টি যুক্ত হতে যাচ্ছে। এসব ড্রেজার সংরক্ষণ, পরিচালন ও মেরামতের জন্য আলাদা আলাদা ড্রেজার বেইস আছে। এর মধ্যে পদ্মা সেতু চালুর আগে মাওয়া ও নারায়ণগঞ্জ ড্রেজার বেইস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ দুই বেইসের অধীনে যেমন বেশিসংখ্যক ড্রেজার ছিল, তেমনি এগুলোর পরিচালন, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত খরচও ছিল অনেক বেশি। পদ্মা সেতুর কারণে মাওয়া ড্রেজার বেইসের গুরুত্ব কমে গেলেও নারায়ণগঞ্জেরটা এখনো গুরুত্বপূর্ণ।
উক্ত দুই ড্রেজার বেইসের একটির প্রধান ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মো. মজনু মিয়া, তখন তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে,তিনি দীর্ঘ প্রায় আট বছর ড্রেজার বেইসের প্রধান ছিলেন। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে নৌপথের পলি অপসারণের নামে ড্রেজারের জ্বালানি তেল ক্রয় এবং ড্রেজার রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের নামে সীমাহীন অর্থ লুটপাট করেছেন তারা।
এই বিভাগের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা/প্রকৌশলী এবং কর্মচারীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ড্রেজার পরিচালনার জন্য জ্বালানি তেল ক্রয়, ড্রেজারগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও মেরামতের সব দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব সংশ্লিষ্ট ড্রেজার বেইসের। এখানে অর্থ লুটপাটের কয়েকটি খাত রয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রতিটি ড্রেজারের ইঞ্জিন মিটার ১০ শতাংশ টেম্পারিং করা। ড্রেজিংয়ের জন্য ৯০ লিটার তেল লোড করলে ১০০ লিটার শো দেখায়।
একটি ড্রেজার দৈনিক ১২ ঘণ্টা চললে কাগজে-কলমে ১৮ ঘণ্টা দেখিয়ে দেড় গুণ বেশি জ্বালানি ব্যয় দেখানো হয়। ড্রেজার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়ার জন্য টাগবোটের ইঞ্জিনে যে পরিমাণ জ্বালানি প্রয়োজন হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি দেখানো হয়। যদি ৫০০ লিটার খরচ হয়, সেখানে দেখানো হয় ১ হাজার লিটার।এভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে প্রতিটি ড্রেজার থেকে মাসে অন্তত ৬ লাখ টাকা লুটপাট হয়। এই টাকার ৫০ শতাংশ পান বেইসপ্রধান। বাকি ৫০ শতাংশ তার অধীনস্থদের মধ্যে ভাগবাঁটোয়ারা হয়।এভাবে মাওয়া বা নারায়ণগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ বেইসের অধীনে থাকা কমপক্ষে ১০টি ড্রেজারের তেল ক্রয় খাত থেকে প্রতি মাসে চুরি হয় ৬০ লাখ, যা বছরে ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা; যার ৩ কোটি ৬০ লাখ পেয়েছেন মজনু মিয়া বা ফয়ছল। এই হিসাবে মাওয়া ও নারায়ণগঞ্জ ড্রেজার বেইসের প্রধান থাকাকালে আট বছরে প্রত্যেকেরই শুধু জ্বালানি খাত থেকে অবৈধ আয় হয়েছে ২৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা।তবে এর চেয়ে চুরি বা অর্থ লোপাট বেশি ড্রেজার সংরক্ষণ খাতে। আর মেরামত খাতে হয় পুকুরচুরি। সেসব ভয়ংকর অনেক তথ্যও এরই মধ্যে আসতে শুরু করেছে।
সমাজের বিশিষ্টজনদের অভিমত বর্তমান সরকার নৌ-খাতে যেই সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন তা অবশ্যই সাধুবাদ জানাই কিন্তু বিআইডব্লিউটিএতে মজনু মিয়াদের মতো দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সৎ নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে বর্তমান সরকারের নৌ-খাত সংস্কার এর মহৎ উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে উপরের উল্লেখিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজিং বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান মজনু মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে অফিসে চায়ের দাওয়াত দেন। প্রশ্ন জাগে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী দুর্নীতির ডিজিটাল বাদশা দাওয়াত দিয়ে কি বুঝাতে চেয়েছেন তা বোধগম্য নয়।




চাকরির নয় বছরে কোটিপতি রাজউকের ইমারত পরিদর্শক মনিরুজ্জামান
সাব-রেজিস্টার মাইকেলের হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ
দুবাইয়ে সাবেক আই জি পি বেঞ্জির গ্রেপ্তার
রেল খেকো ‘ম্যাক্স’ গ্রুপের একচেটিয়া আধিপত্য রুখবে কে
অনিয়ম-দুর্নীতি চাঁদাবাজি ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে শূন্য থেকে শতকোটির মালিক বন কর্মকর্তা নিশাত
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’র সেকেন্ড ডিজি খ্যাত বদলি ও ঘুষ বাণিজ্যের গডফাদার মাসুম বিল্লাহ কি আইনের উর্ধ্বে
ঋণ জালিয়াতি, বিদেশি নাগরিকত্ব ও অফশোর সম্পদ: নতুন চাপে বসুন্ধরা গ্রুপ
“দুদকের দৃষ্টি আকর্ষণ”" সওজের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান’র সম্পদের পাহাড়