বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
প্রথম পাতা » অপরাধ | অর্থনীতি | ব্যাংক-বীমা | ব্রেকিং নিউজ » ঋণ জালিয়াতি, বিদেশি নাগরিকত্ব ও অফশোর সম্পদ: নতুন চাপে বসুন্ধরা গ্রুপ
ঋণ জালিয়াতি, বিদেশি নাগরিকত্ব ও অফশোর সম্পদ: নতুন চাপে বসুন্ধরা গ্রুপ
১,৩২৫ কোটি টাকার নতুন মামলা; ৮ দেশে সম্পদ জব্দে আদালতের চিঠি![]()
ঢাকা: দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ এবং সোবহান পরিবারকে ঘিরে একের পর এক আর্থিক অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি ও বিদেশে সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান এবং তাঁর মেজো ছেলে, ‘বসুন্ধরা মাল্টি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফিয়াত সোবহান সানবীরের বিরুদ্ধে ১,৩২৫ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি, আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের মামলা দায়ের করেছে।
দুদকের মামলার এজাহার অনুযায়ী, ন্যাশনাল ব্যাংকের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে কোনো কার্যকর জামানত যাচাই কিংবা ফ্যাক্টরি পরিদর্শন ছাড়াই বিপুল অঙ্কের ঋণ অনুমোদন ও ছাড় করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, ঋণের বড় একটি অংশ পরবর্তীতে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর এবং বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিদেশি নাগরিকত্ব ও অফশোর বিনিয়োগের তথ্য আদালতে
মামলার তদন্ত চলাকালে আদালতের নথিতে সোবহান পরিবারের একাধিক সদস্যের বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং অফশোর বিনিয়োগের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।
নথি অনুযায়ী—
বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর প্রায় ৩ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের মাধ্যমে স্লোভাকিয়ার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।
তাঁর স্ত্রী ইয়াশা সোবহান ২ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করে সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব নেন।
চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও তাঁর স্ত্রী আফরোজা বেগম ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন বলে আদালতে দাখিল করা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া আদালত সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, স্লোভাকিয়া, সাইপ্রাস, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস এবং ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসসহ মোট আটটি দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সোবহান পরিবারের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ ক্রোকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।
গোল্ড রিফাইনারি প্রকল্প ঘিরে নতুন প্রশ্ন
এর আগে দেশের প্রথম স্বর্ণ পরিশোধনাগার স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে ‘বসুন্ধরা গোল্ড রিফাইনারি লিমিটেড’ নামে প্রায় ৫,৭৯০ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প হাতে নেয় গ্রুপটি। প্রকল্পটির অর্থায়নের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের নেতৃত্বে একটি ব্যাংক সিন্ডিকেটও গঠন করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ‘WorldEra Corporation’-এর সঙ্গে প্রায় ২,৬৫৮ কোটি টাকার একটি চুক্তির নথি উপস্থাপন করা হয়েছিল, যা নিয়ে পরবর্তীতে বিভিন্ন আর্থিক ও নীতিগত প্রশ্ন ওঠে।
বাংলাদেশ ব্যাংক পরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ওপর অতিরিক্ত ঝুঁকি কমাতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকেও এই ঋণ কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার নির্দেশ দেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জ্বালানি খাতে বিশেষ সুবিধা নিয়ে বিতর্ক
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঠিক আগে বসুন্ধরা গ্রুপকে জ্বালানি খাতে একটি বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল বলেও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।
তৎকালীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের মাধ্যমে ‘বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি’কে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, নিজস্ব স্থাপনায় পরিশোধন এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে নিজেদের ৩৮৮টি ফিলিং স্টেশনের মাধ্যমে সরাসরি খুচরা বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) শুরু থেকেই এ ধরনের অনুমোদনের বিরোধিতা করলেও পরবর্তীতে নীতিমালা সংশোধনের মাধ্যমে অনুমোদনের পথ তৈরি করা হয়।
‘ABG Marketplace’ নিয়ে উদ্বেগ
বাণিজ্য খাতেও নতুন ধরনের একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছিল বসুন্ধরা গ্রুপ। ‘ABG Marketplace’ নামে প্রস্তাবিত এই প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে শুধু ই-কমার্স নয়, বরং সোনা, ওষুধ, কৃষিপণ্য, গার্মেন্টস কাঁচামাল, ডেরিভেটিভস ট্রেডিং, পণ্য বিনিময় এবং নিজস্ব নিলাম বাজার পরিচালনার সুযোগ রাখার প্রস্তাব ছিল।
অর্থনীতিবিদদের একটি অংশের মতে, এ ধরনের কাঠামো কার্যকর হলে দেশের বিদ্যমান আর্থিক ও পণ্যবাজারের বাইরে একটি সমান্তরাল করপোরেট কমোডিটি এক্সচেঞ্জ গড়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি হতে পারত।
আর্থিক সংকটে বসুন্ধরা পেপার মিলস
এদিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বসুন্ধরা পেপার মিলসও বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক চাপে রয়েছে।
২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কাঁচামালের সংকট, উচ্চ সুদহার এবং ইউটিলিটি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিটি এক অর্ধবার্ষিকীতেই প্রায় ২৪৯ কোটি টাকা লোকসান করেছে।
একই সময়ে কোম্পানিটির রাজস্ব আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭২ শতাংশ কমে গেছে, যা উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
করপোরেট প্রভাব ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন
দেশের ব্যাংকিং খাত, জ্বালানি খাত এবং পুঁজিবাজারে বসুন্ধরা গ্রুপের বিস্তৃত সম্পৃক্ততার কারণে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো শুধু একটি শিল্পগোষ্ঠীকে ঘিরে নয়, বরং সামগ্রিক করপোরেট গভর্ন্যান্স, ব্যাংকিং তদারকি এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর ঋণ ব্যবস্থাপনা, বিদেশে সম্পদ স্থানান্তর এবং নীতিগত প্রভাব খাটানোর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে দেশের আর্থিক খাতের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
জাকিয়া রায়হানা




“দুদকের দৃষ্টি আকর্ষণ”" সওজের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান’র সম্পদের পাহাড়
ও: কাদের লিটন সিন্ডিকেট সদস্য সওজ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান
গুলিস্তান ট্রেড সেন্টারে দুর্নীতির উৎসব নীরব ভূমিকায় ঢা:দ:সিটি কর্পোরেশন
অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না –ডিএমপি কমিশনার
বিআইডব্লিউটিএর সাঈদুর কে ঘিরে নয়া বিতর্ক বঙ্গবন্ধু পরিষদ সভাপতি পদ থেকে থেকে জিয়া পরিষদ
বিচারাধীন মামলা গোপন করে অবৈধ সুপারিশে গণপূর্তের সারওয়ার জাহান বিপ্লব !
শেখর’র ঘনিষ্ঠ সহযোগী সিডিসি জালিয়াতির গডফাদার ক্যাপ: গিয়াস
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ১৮ মাসে ২০০ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ