রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
প্রথম পাতা » অপরাধ | ব্যাংক-বীমা » দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় সওজের প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান: ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকার লেনদেন
দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় সওজের প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান: ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকার লেনদেন
![]()
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ
দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় সওজের প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান: ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকার লেনদেন, পরিবারের নামে বিপুল সম্পদের অনুসন্ধান
স্টাফ রিপোর্টার | দৈনিক পক্ষকাল
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম মনির হোসেন পাঠানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সূত্র, আর্থিক নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে পাওয়া অভিযোগগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার, টেন্ডার অনুমোদনে অনিয়ম, বদলি বাণিজ্য এবং কমিশন গ্রহণের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ অর্জন করেছেন তিনি। এসব অর্থের একটি অংশ পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ ক্রয় ও ব্যবসায় বিনিয়োগে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগকারীদের দাবি।
ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন
অনুসন্ধানে পাওয়া ব্যাংক লেনদেনের তথ্যে দেখা যায়, প্রধান প্রকৌশলীর ছোট ভাই মোমিনুল হক পাঠানের ব্যাংক হিসাবে ২০২২ সালের মার্চ থেকে জুলাইয়ের মধ্যে একাধিক দফায় কয়েক কোটি টাকা জমা হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা উত্তোলন করা হয়।
নথিপত্র অনুযায়ী, একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হিসাব থেকে কয়েক মাসের ব্যবধানে ৬ কোটিরও বেশি টাকা মোমিনুল হক পাঠানের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এসব অর্থের প্রকৃত উৎস ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান দাবি করেন, তার ভাই সামান্য সাব-কন্ট্রাক্টরি কাজের সঙ্গে যুক্ত এবং তার হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ সঠিক নয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি থেকে কোটি টাকার লেনদেন
প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, একাধিক সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মোমিনুল হক পাঠান। কাজের গুণগত মান তদারকি, বিল গ্রহণ, জামানতের চেক সংগ্রহ ও প্রকল্প-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
তবে একজন প্রতিনিধির ব্যাংক হিসাবে কয়েক কোটি টাকা জমা হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তার কাছেই রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে।
ছেলে ও স্বজনদের নামে সম্পদের অভিযোগ
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, মনির হোসেন পাঠানের পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় মূল্যবান ফ্ল্যাট, জমি, ব্যবসায়িক শেয়ার এবং যানবাহনের মালিকানার তথ্য।
অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রাবস্থায় থাকা ছেলের নামে আয়কর ফাইল খুলে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ দেখানো হয়েছে। রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় একাধিক উচ্চমূল্যের ফ্ল্যাট, দক্ষিণখানে জমি এবং অন্যান্য সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
এছাড়া তার শ্যালক, শ্বশুর এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামেও হাসপাতাল, পেট্রোল পাম্প, পরিবহন ব্যবসা এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের অভিযোগ রয়েছে।
কুমিল্লায় জমি, হাসপাতাল ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগ
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কুমিল্লা শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উচ্চমূল্যের জমি ক্রয়, হাসপাতাল নির্মাণ এবং জ্বালানি ব্যবসায় বিনিয়োগের পেছনে মনির হোসেন পাঠানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে।
কুমিল্লা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কুমিল্লা মহাসড়ক এলাকায় পরিচালিত কয়েকটি পেট্রোল পাম্প এবং পরিবহন ব্যবসায়ও তার পরিবারের বিনিয়োগ থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কানাডায় সম্পদ থাকার অভিযোগ
সওজের একাধিক কর্মকর্তার দাবি, মনির হোসেন পাঠানের পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে বিদেশেও সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে কানাডায় তার কন্যার মাধ্যমে বাড়িসহ বিভিন্ন সম্পদের তথ্য নিয়ে অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।
টেন্ডার ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ
সওজের কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের অভিযোগ, টেন্ডার মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘কম্পারেটিভ স্টেটমেন্ট (সিএস)’ অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
তাদের দাবি, নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ প্রদান না করলে টেন্ডার-সংক্রান্ত ফাইল দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলির ক্ষেত্রেও বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
যদিও এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান। তার ভাষ্য, “আমার আয়কর রিটার্নের বাইরে কোনো সম্পদ নেই। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
দুর্নীতির এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
অভিযোগকারীদের মতে, আর্থিক লেনদেন, সম্পদের উৎস, আত্মীয়স্বজনের নামে গড়ে ওঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে সম্পদ অর্জনের বিষয়গুলো গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
(অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছে। নতুন কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।)




ও: কাদের লিটন সিন্ডিকেট সদস্য সওজ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান
গুলিস্তান ট্রেড সেন্টারে দুর্নীতির উৎসব নীরব ভূমিকায় ঢা:দ:সিটি কর্পোরেশন
অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না –ডিএমপি কমিশনার
বিআইডব্লিউটিএর সাঈদুর কে ঘিরে নয়া বিতর্ক বঙ্গবন্ধু পরিষদ সভাপতি পদ থেকে থেকে জিয়া পরিষদ
বিচারাধীন মামলা গোপন করে অবৈধ সুপারিশে গণপূর্তের সারওয়ার জাহান বিপ্লব !
শেখর’র ঘনিষ্ঠ সহযোগী সিডিসি জালিয়াতির গডফাদার ক্যাপ: গিয়াস
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ১৮ মাসে ২০০ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ
দুই হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ নামমাত্র মূল্যে বিক্রির নায়ক পরিচালক আরিফ উদ্দীন
রাজশাহীর দুর্গাপুরে শিশু জান্নাতের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা