শিরোনাম:
ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

Daily Pokkhokal
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
প্রথম পাতা » অপরাধ | অর্থনীতি » অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ১৮ মাসে ২০০ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ
প্রথম পাতা » অপরাধ | অর্থনীতি » অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ১৮ মাসে ২০০ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ
৭৬ বার পঠিত
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ১৮ মাসে ২০০ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ

রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা---

দেশের অর্থনীতিতে নজিরবিহীন অস্থিরতা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে। অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. আরিফ খান এক বিস্ফোরক বিশ্লেষণে দাবি করেছেন, গত ১৮ মাসে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের আর্থিক খাতে সংঘটিত হয়েছে ইতিহাসের অন্যতম বড় অর্থপাচার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তথাকথিত “রেমিট্যান্স প্রবাহ” এবং “আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের” আড়ালে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

ড. আরিফ খানের মতে, এই বিপুল অর্থপাচারের পরিমাণ পূর্ববর্তী সরকারের ১৬ বছরের মোট পাচারের অভিযোগের তুলনায়ও বহুগুণ বেশি, যা দেশের অর্থনীতিকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়ে প্রশ্ন

বিশ্লেষণে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ব্যাংকিং চ্যানেলে মাসিক রেমিট্যান্স হঠাৎ করে ২ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানো স্বাভাবিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার প্রশ্ন, যখন বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর ভিসা ও কর্মসংস্থান সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান, তখন এ ধরনের অস্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি কীভাবে সম্ভব?

তার দাবি, অতীতে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া কালো টাকা এখন “রেমিট্যান্স” হিসেবে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ চক্র মানি লন্ডারিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আমদানি-রপ্তানিতে ওভার ইনভয়েসিংয়ের অভিযোগ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রম নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন এই অর্থনীতিবিদ। তার অভিযোগ, আমদানি ও রপ্তানি ব্যয়ের হিসাব প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অস্বচ্ছতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, রপ্তানি আয়ের অর্থ সরাসরি আমদানি বিল পরিশোধে ব্যবহার করা হচ্ছে, ফলে প্রকৃত হিসাব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেকর্ডে প্রতিফলিত হচ্ছে না।

ড. আরিফ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, যদি মাসিক আমদানি ব্যয় ২ বিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি আয় ৮ বিলিয়ন ডলার হয়, তাহলে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অবশিষ্ট ৬-৭ বিলিয়ন ডলার বিদেশে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তার আশঙ্কা, প্রতি মাসে ৫-৬ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে চরম চাপে ফেলছে।

অতীত ও বর্তমান সরকারের তুলনামূলক বিশ্লেষণ

ড. আরিফ খানের দাবি অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরে মোট অফশোর ফ্লাইট বা মূলধন পাচারের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার, যা বছরে গড়ে ১.১৩ বিলিয়ন ডলার। তিনি এটিকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রচলিত অফশোর বিনিয়োগ প্রবণতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের মাত্র দেড় বছরে ২০০ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগকে তিনি “নজিরবিহীন আর্থিক বিপর্যয়” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

বাজেট ব্যয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতি

তিনি আরও দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের ১৬ বছরের মোট বাজেট ছিল ৪২৫ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে উন্নয়ন বাজেট ছিল ১৫৪ বিলিয়ন ডলার। সেই প্রেক্ষাপটে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগকে তিনি “গাণিতিকভাবে অসম্ভব” বলে মন্তব্য করেন।

বর্তমান প্রশাসনের ক্ষেত্রে তার অভিযোগ, পরিচালন ব্যয়ের জন্য ১২ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ এবং ১৪ বিলিয়ন ডলার অভ্যন্তরীণ ঋণ নেওয়ার পরও ২৫ বিলিয়ন ডলারের আমদানি বিল বকেয়া রয়েছে। অথচ এই সময়ে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি দেখা যায়নি; বরং অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন ড. আরিফ খান। তার বক্তব্য, যদি প্রকৃতপক্ষে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে থাকে, তাহলে বাংলাদেশের জিডিপি ৭০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক কোনো রিপোর্টেই এমন তথ্যের প্রতিফলন দেখা যায়নি।

তার মতে, এটি পুরো বিষয়টিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে এবং অর্থপাচারের উৎস ও প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর তদন্তের প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি করেছে।

নির্বাচিত সংসদের দাবি

ড. আরিফ খান সতর্ক করে বলেন, একটি নির্বাচিত সংসদ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো ছাড়া এ ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও লুণ্ঠন বন্ধ করা সম্ভব নয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক সংকটে পড়তে পারে।

দেশের জনগণের করের অর্থ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগ এখন জাতীয় অঙ্গনে বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।



এ পাতার আরও খবর

দুবাইয়ে সাবেক আই জি পি বেঞ্জির গ্রেপ্তার দুবাইয়ে সাবেক আই জি পি বেঞ্জির গ্রেপ্তার
রেল খেকো ‘ম্যাক্স’ গ্রুপের একচেটিয়া আধিপত্য রুখবে কে রেল খেকো ‘ম্যাক্স’ গ্রুপের একচেটিয়া আধিপত্য রুখবে কে
অনিয়ম-দুর্নীতি চাঁদাবাজি ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে শূন্য থেকে শতকোটির মালিক বন কর্মকর্তা নিশাত অনিয়ম-দুর্নীতি চাঁদাবাজি ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে শূন্য থেকে শতকোটির মালিক বন কর্মকর্তা নিশাত
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’র সেকেন্ড ডিজি খ্যাত বদলি ও ঘুষ বাণিজ্যের গডফাদার মাসুম বিল্লাহ কি আইনের উর্ধ্বে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’র সেকেন্ড ডিজি খ্যাত বদলি ও ঘুষ বাণিজ্যের গডফাদার মাসুম বিল্লাহ কি আইনের উর্ধ্বে
ঋণ জালিয়াতি, বিদেশি নাগরিকত্ব ও অফশোর সম্পদ: নতুন চাপে বসুন্ধরা গ্রুপ ঋণ জালিয়াতি, বিদেশি নাগরিকত্ব ও অফশোর সম্পদ: নতুন চাপে বসুন্ধরা গ্রুপ
“দুদকের দৃষ্টি আকর্ষণ” “দুদকের দৃষ্টি আকর্ষণ”" সওজের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান’র সম্পদের পাহাড়
দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় সওজের প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান: ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকার লেনদেন দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় সওজের প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান: ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকার লেনদেন
ও: কাদের লিটন সিন্ডিকেট সদস্য সওজ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান ও: কাদের লিটন সিন্ডিকেট সদস্য সওজ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান
গুলিস্তান ট্রেড সেন্টারে দুর্নীতির উৎসব নীরব ভূমিকায় ঢা:দ:সিটি কর্পোরেশন গুলিস্তান ট্রেড সেন্টারে দুর্নীতির উৎসব নীরব ভূমিকায় ঢা:দ:সিটি কর্পোরেশন
অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না –ডিএমপি কমিশনার অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না –ডিএমপি কমিশনার

আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)