শিরোনাম:
ঢাকা, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩

Daily Pokkhokal
রবিবার, ১০ আগস্ট ২০২৫
প্রথম পাতা » অপরাধ | অর্থনীতি | রাজনীতি » দুর্নীতির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলার আগে সরকার কি সত্যিই তদন্ত করেছে?
প্রথম পাতা » অপরাধ | অর্থনীতি | রাজনীতি » দুর্নীতির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলার আগে সরকার কি সত্যিই তদন্ত করেছে?
৩৭৩ বার পঠিত
রবিবার, ১০ আগস্ট ২০২৫
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

দুর্নীতির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলার আগে সরকার কি সত্যিই তদন্ত করেছে?

  ১০ আগস্ট ২০২৫---
অন্তর্বর্তী সরকারের আটজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে সাবেক সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের দুর্নীতির অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কিন্তু এই বিবৃতির ভাষা, যুক্তি এবং সময়কাল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়-এটি একটি প্রতিক্রিয়াশীল, দুর্বল এবং স্বচ্ছতা-বিমুখ অবস্থান, যা বরং সাত্তারের বক্তব্যকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।
অভিযোগ অস্বীকার, কিন্তু তদন্ত কোথায়?
সরকার বলছে, “বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকলে তা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিন।” কিন্তু প্রশ্ন হলো-সরকার নিজে কি এই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে?
সাত্তার সরাসরি বলেছেন, “গোয়েন্দা সংস্থার কাছেও তথ্য আছে।” তাহলে সরকার কি সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে? নাকি শুধু বিবৃতি দিয়ে দায় সেরেছে?
নাম না বলার কৌশল: নিরাপত্তা না কি সতর্কতা?
সাত্তার কোনো নাম প্রকাশ করেননি, যা সরকার “দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলছে। কিন্তু একজন সাবেক সচিব, যিনি দীর্ঘদিন প্রশাসনে ছিলেন, তিনি জানেন-নাম প্রকাশ না করে অভিযোগ তোলা কখনো কখনো একটি কৌশল, যাতে তদন্তের সুযোগ থাকে এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বজায় থাকে।
অতীতে বহু দুর্নীতির অভিযোগ প্রথমে নাম ছাড়া এসেছে, পরে তদন্তে নাম বেরিয়ে এসেছে। তাই নাম না বলার বিষয়টি অভিযোগের ভিত্তিহীনতা প্রমাণ করে না।
সরকার কি সত্যিই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ?
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “প্রশাসন স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অভিযোগ উঠলেই তা অস্বীকার করা হয়, তদন্তের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না, বরং অভিযোগকারীকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়।
যদি সরকার সত্যিই স্বচ্ছতা চায়, তাহলে সাত্তারের বক্তব্যকে “ভিত্তিহীন” বলার আগে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগ যাচাই করা উচিত ছিল।
জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কার কারণে?
সরকার বলছে, “ভিত্তিহীন অভিযোগ জনআস্থার জন্য ক্ষতিকর।” কিন্তু জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখনই, যখন অভিযোগ উঠলে সরকার তা অস্বীকার করে, তদন্ত এড়িয়ে চলে, এবং অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
সাত্তারের বক্তব্য জনআস্থার ক্ষতি নয়, বরং তা একটি গণতান্ত্রিক সমাজে জবাবদিহির দাবি। ক্ষতি হচ্ছে সরকারের প্রতিক্রিয়ায়, যেখানে স্বচ্ছতা নেই, জবাবদিহি নেই, আছে শুধু অস্বীকার।
সরকারের বিবৃতি সাত্তারের বক্তব্যকে খণ্ডন করতে পারেনি; বরং তা আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” বলার আগে সরকার যদি সত্যিই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়, তাহলে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগ যাচাই করুক। অন্যথায়, জনমনে এই ধারণা আরও দৃঢ় হবে-সরকার দুর্নীতিকে আড়াল করছে, এবং সাত্তারের বক্তব্যই সত্যের কাছাকাছি।

কাজলের বিশ্লেষন



এ পাতার আরও খবর

চাকরির নয় বছরে কোটিপতি রাজউকের ইমারত পরিদর্শক মনিরুজ্জামান চাকরির নয় বছরে কোটিপতি রাজউকের ইমারত পরিদর্শক মনিরুজ্জামান
সাব-রেজিস্টার মাইকেলের হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ সাব-রেজিস্টার মাইকেলের হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ
দুবাইয়ে সাবেক আই জি পি বেঞ্জির গ্রেপ্তার দুবাইয়ে সাবেক আই জি পি বেঞ্জির গ্রেপ্তার
রেল খেকো ‘ম্যাক্স’ গ্রুপের একচেটিয়া আধিপত্য রুখবে কে রেল খেকো ‘ম্যাক্স’ গ্রুপের একচেটিয়া আধিপত্য রুখবে কে
অনিয়ম-দুর্নীতি চাঁদাবাজি ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে শূন্য থেকে শতকোটির মালিক বন কর্মকর্তা নিশাত অনিয়ম-দুর্নীতি চাঁদাবাজি ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে শূন্য থেকে শতকোটির মালিক বন কর্মকর্তা নিশাত
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’র সেকেন্ড ডিজি খ্যাত বদলি ও ঘুষ বাণিজ্যের গডফাদার মাসুম বিল্লাহ কি আইনের উর্ধ্বে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’র সেকেন্ড ডিজি খ্যাত বদলি ও ঘুষ বাণিজ্যের গডফাদার মাসুম বিল্লাহ কি আইনের উর্ধ্বে
ঋণ জালিয়াতি, বিদেশি নাগরিকত্ব ও অফশোর সম্পদ: নতুন চাপে বসুন্ধরা গ্রুপ ঋণ জালিয়াতি, বিদেশি নাগরিকত্ব ও অফশোর সম্পদ: নতুন চাপে বসুন্ধরা গ্রুপ
“দুদকের দৃষ্টি আকর্ষণ” “দুদকের দৃষ্টি আকর্ষণ”" সওজের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান’র সম্পদের পাহাড়
দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় সওজের প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান: ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকার লেনদেন দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় সওজের প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান: ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকার লেনদেন
ও: কাদের লিটন সিন্ডিকেট সদস্য সওজ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান ও: কাদের লিটন সিন্ডিকেট সদস্য সওজ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান

আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)