শিরোনাম:
ঢাকা, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২

Daily Pokkhokal
বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
প্রথম পাতা » রাজনীতি » সংস্কারের নামে প্রতারণা: অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে জনতার প্রত্যাশা ভঙ্গ
প্রথম পাতা » রাজনীতি » সংস্কারের নামে প্রতারণা: অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে জনতার প্রত্যাশা ভঙ্গ
১০৪ বার পঠিত
বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

সংস্কারের নামে প্রতারণা: অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে জনতার প্রত্যাশা ভঙ্গ

---

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পেরিয়ে গেছে। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতায় এসে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল-গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার, আইন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভয়ংকররকম বিপরীত।
আজকের বাংলাদেশে গুম, ধর্ষণ, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও ধর্মীয় উগ্রতার পুনরুত্থান ঘটেছে। প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ স্বাধীন গণমাধ্যমের উপর চলেছে হুমকি, নিষেধাজ্ঞা ও দমননীতি। সংখ্যালঘুদের অধিকার হরণ করে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা চলছে। ধর্মকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে উগ্রপন্থী শক্তিকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
সরকার বারবার বলেছে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে সমন্বয় করছে। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে-বন্দর, করিডর, সামরিক শিল্প ও কূটনৈতিক পদে মার্কিন-সমর্থিত এজেন্টদের নিয়োগ। এটা জনগণের নয়, পশ্চিমাদের স্বার্থরক্ষায় পরিচালিত এজেন্ডা।
এই সরকার সংস্কারের নামে প্রতিশোধ নিচ্ছে, জবাবদিহির নামে বিদেশি নির্দেশ মেনে চলছে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব জনগণের। এখন সময় দাঁড়ানোর-নিজ অধিকার, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের দাবিতে।
জনগণের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বিষয়: অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর: অধিকার, সংবিধান ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন
অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বিদেশি প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মিডিয়া সেন্সরশিপ এবং সংখ্যালঘু নিপীড়নের তথ্য প্রকাশ করেছে।
সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করলেও, বাস্তব প্রক্রিয়ায় জনসম্পৃক্ততা ও জবাবদিহির অভাব রয়েছে। দেশজ কৌশলগত সম্পদ-বন্দর ও সামরিক শিল্প-বিদেশিদের হাতে সোপর্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক চলছে।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৭৮% মানুষ মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি দেখছেন, এবং ৮২% তরুণ ধর্মীয় উগ্রতা বাড়ায় নিরাপত্তা হুমকির আশঙ্কা করছেন।
জনগণের মধ্যে প্রশ্ন জাগছে: এই সরকার কাদের স্বার্থে পরিচালিত? দেশের ভবিষ্যত কি গণতন্ত্র ও স্বাধিকারের পথে, নাকি বৈশ্বিক নির্দেশে পরিচালিত ছদ্মগণতন্ত্রে?
অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনগণের দাবি:সংবিধান অনুসারে নির্বাচন
মানবাধিকার রক্ষা ও বিচারহীনতার অবসান বিদেশি প্রভাব প্রতিহত করে সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত।
অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর: সংস্কার, সংকট ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন
ঢাকা, ১৫ জুলাই ২০২৫ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার এক বছর পূর্ণ করল। নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত এই সরকার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানবাধিকার রক্ষা এবং নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসে। কিন্তু এক বছরে দেশের রাজনৈতিক, মানবাধিকার ও ধর্মীয় পরিস্থিতি নিয়ে গভীর বিতর্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মানবাধিকার: প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা
জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ১,৪০০ জন নিহত হন, যার মধ্যে শতাধিক শিশু।
সরকার গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর করলেও, বাস্তব তদন্ত ও জবাবদিহি এখনও প্রশ্নবিদ্ধ।
ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উগ্রতা
সরকার দাবি করেছে, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে2। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিবেদন বলছে, আহমদিয়া, হিন্দু ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা, হয়রানি ও আইনের অপব্যবহার অব্যাহত রয়েছে।
বিদেশি প্রভাব ও সার্বভৌমত্ব
চট্টগ্রাম বন্দর, রাখাইন করিডোর, কাতার সামরিক কারখানা ও IMF ঋণ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন উঠেছে।
বাম দল ও বিএনপি বলছে, এই সরকার নির্বাচন ছাড়া কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা দাবি করেছেন, সরকার ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রাখছে এবং বিশ্বব্যাপী বিপুল সমর্থন পেয়েছে6।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
Human Rights Watch অভিযোগ করেছে, সরকার আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে8।
International Crisis Group (ICG) বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের মধুচন্দ্রিমা শেষ, এখন জনগণের চাপ ও আন্তর্জাতিক প্রত্যাশা বাড়ছে।
EU ও UN নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও সংস্কার কমিশনকে সমর্থন দিচ্ছে, তবে মানবাধিকার ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
অন্তর্বর্তী সরকার একদিকে সংস্কার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী দল দমন, বিদেশি প্রভাব, ধর্মীয় উগ্রতা ও স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আন্তর্জাতিক মহল নির্বাচনের স্বচ্ছতা, মানবাধিকার রক্ষা ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাপ দিচ্ছে।

শফিকুল ইসলাম কাজল   ১৫ জুলাই ২০২৫ mdshafiqulislamkjaol33@gmail.com



এ পাতার আরও খবর

চাঁদা না দেওয়ায় যাত্রাবাড়ীতে লেগুনা চালককে পিটিয়ে হত্যা চাঁদা না দেওয়ায় যাত্রাবাড়ীতে লেগুনা চালককে পিটিয়ে হত্যা
কূটনৈতিক শুভেচ্ছা নাকি কৌশলগত শর্ত? কূটনৈতিক শুভেচ্ছা নাকি কৌশলগত শর্ত?
সম্পাদকীয় দল, দালাল বিতর্ক ও ব্যবসায়ীকরণ—কোথায় যাচ্ছে বিএনপি সম্পাদকীয় দল, দালাল বিতর্ক ও ব্যবসায়ীকরণ—কোথায় যাচ্ছে বিএনপি
বিআইডব্লিউটিএ’র মুজিব প্রেমিক দুর্নীতিবাজ আরিফ উদ্দিন এখনো বহাল তবিয়তে বিআইডব্লিউটিএ’র মুজিব প্রেমিক দুর্নীতিবাজ আরিফ উদ্দিন এখনো বহাল তবিয়তে
ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ কৃষকের খড়ের গাদায় আগুন, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ কৃষকের খড়ের গাদায় আগুন, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত দখলদারিত্ব রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত দখলদারিত্ব
গোপন কক্ষ ছাড়া কেন্দ্রে থাকছে মোবাইলের অনুমতি গোপন কক্ষ ছাড়া কেন্দ্রে থাকছে মোবাইলের অনুমতি
ফাঁস হওয়া নথিতে ৬৪ ডিসির রাজনৈতিক পরিচয়: ‘নিরপেক্ষ’ প্রশাসনে দলীয়করণের ছায়া ফাঁস হওয়া নথিতে ৬৪ ডিসির রাজনৈতিক পরিচয়: ‘নিরপেক্ষ’ প্রশাসনে দলীয়করণের ছায়া
শাহপুর গ্রামে পিটিয়ে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ! শাহপুর গ্রামে পিটিয়ে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ!
বিআইডব্লিউটিএ’র দুর্নীতির বাদশা খ্যাত আরিফ উদ্দিন কি আইনের উর্ধ্বে বিআইডব্লিউটিএ’র দুর্নীতির বাদশা খ্যাত আরিফ উদ্দিন কি আইনের উর্ধ্বে

আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)