
রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
প্রথম পাতা » বিশ্ব সংবাদ | রাজনীতি » গাজায় শিশুমৃত্যু ও দুর্ভিক্ষ-আন্তর্জাতিক আইনি ও মানবিক মূল্যবোধের পরীক্ষা
গাজায় শিশুমৃত্যু ও দুর্ভিক্ষ-আন্তর্জাতিক আইনি ও মানবিক মূল্যবোধের পরীক্ষা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গাজা উপত্যকায় চলমান অবরোধ এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টানা ১০৩ দিনের অবরোধের পর খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে অপুষ্টিজনিত কারণে অন্তত ৬৭ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে, আর আরও প্রায় ৬.৫ লাখ শিশু চরম পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে রয়েছে।
গাজার মিডিয়া অফিসের মতে, “বোমা যা শেষ করতে পারেনি, এখন তা করছে দুর্ভিক্ষ।” তারা এ পরিস্থিতিকে ‘ক্ষুধানীতি’ বলে অভিহিত করেছে-একটি পরিকল্পিত ও সংগঠিতভাবে জনগণকে খাদ্যবঞ্চনার মুখে ঠেলে দেওয়ার কৌশল।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গণবিনাশী কার্যক্রমের আওতায় পড়ে। Rome Statute অনুযায়ী, জনগণকে ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা একটি যুদ্ধাপরাধ।
শিশু অধিকার লঙ্ঘনের প্রসঙ্গে জাতিসংঘের ‘Convention on the Rights of the Child’-এর পরিপ্রেক্ষিতে বলা হচ্ছে, গাজার শিশুদের খাদ্য, স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ৯৬ শতাংশের বেশি জনগণ তীব্র খাদ্য অনিশ্চয়তায় রয়েছে, যার মধ্যে ১০ লাখেরও বেশি শিশু।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা নিয়েও গাজার পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মিডিয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে-এই পরিস্থিতিকে যাঁরা সমর্থন করছেন বা উপেক্ষা করছেন, তাঁরাও নৈতিক ও আইনগতভাবে দায়বদ্ধ। “এই মৃত্যু মিছিল বিশ্ববাসীর চোখের সামনেই ঘটছে”।
এখনই সময়, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো-জাতিসংঘ, ICC, UNICEF ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো-কথা নয়, কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। কারণ, এই সংকট শুধু গাজার নয়-মানবতার।