শিরোনাম:
ঢাকা, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

Daily Pokkhokal
বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭
প্রথম পাতা » ব্রেকিং নিউজ | রাজনীতি | সম্পাদক বলছি » সংখ্যালঘু নিধনযজ্ঞে বাংলাদেশঃ এর শেষ কোথায়?
প্রথম পাতা » ব্রেকিং নিউজ | রাজনীতি | সম্পাদক বলছি » সংখ্যালঘু নিধনযজ্ঞে বাংলাদেশঃ এর শেষ কোথায়?
৫১২ বার পঠিত
বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

সংখ্যালঘু নিধনযজ্ঞে বাংলাদেশঃ এর শেষ কোথায়?

---পক্ষকাল দেশ /মুক্তমনা
গত সপ্তাহে রংপুরে এত বড় একটা ঘটনা ঘটে যাবার পর শুক্রবার রাতে নিকটবর্তী জেলা নওগাঁতে মন্দিরে ঢুকে প্রতিমা ভাংচুর করার ঘটনা নতুন করে একটা বিষয় ভাবতে বাধ্য করে। আসলে এসব কি হচ্ছে!! কেন হচ্ছে!! সরকারের সদিচ্ছা থাকলে যেখানে মাছি পালানোর অবকাশ নেই সেখানে প্রশাসনের নাকের ডগায় কিভাবে এসব হচ্ছে!!

যা হচ্ছে একে বলে ‘এথনিক ক্লিনজিং’ । এথনিক ক্লিনজিং হলো কোনো নির্দিষ্ট জাতি বা গোষ্ঠীকে উক্ত জনপদ থেকে নির্মূলীকরণ। এথনিক ক্লিনজিং তিন ভাবে হতে পারে।
১। সামরিকভাবে
২। রাজনৈতিকভাবে
৩। অর্থনৈতিক কূটকৌশল দ্বারা।

টার্গেটেড গোষ্ঠীর সবরকম উপস্থিতি এবং সাংস্কৃতিক আচারের সমস্ত নিদর্শন নির্মূল করাই এথনিক ক্লিনজিংয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে, প্রথমে টার্গেটেড গোষ্ঠির ওপর নানা রকম পীড়ন করা হয়। হুমকী প্রদান, ধর্ষণ করা সহ বাসস্থান এবং সাংস্কৃতিক কাঠামো যেমনঃ উপাসনালয়, সামাজিক সংগঠন ইত্যাদি ধ্বংস করা হয়। ফলে উক্ত জাতি বা গোষ্ঠী নিরুপায় হয়ে দেশ ত্যাগে বাধ্য হয় ।
ছবিঃ পলায়নরত হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত জনগন।
বেশিরভাগ এথনিক ক্লিনজিং সামরিকভাবে হলেও আমাদের দেশের মতো রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক কূটকৌশল দ্বারা আগে কোথাও পরিলক্ষিত হয় নি। যুগোশ্লাভিয়া যুদ্ধের সমসাময়িক ১৯৯০ সালে বসনিয়া যুদ্ধে বসনিয়ানদের ওপর এই ধরণের কিছুটা ছোঁয়া দেখা গেলেও আমাদের দেশের বর্তমান ধারার মতো নয়। এথনিক ক্লিনজিং নাৎসীরা করেছিল পোলিশ ও জিউইশদের ওপর। সর্বশেষ ঘটনা ঘটলো মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর।

বাংলাদেশে খুব দক্ষতার সাথে এথনিক ক্লিনজিং চালানো হচ্ছে। ঘরবাড়ি-মন্দির পুড়িয়ে দেয়া, নিরপরাধ জেনেও গ্রেফতার ও সাজা, অপরাধীদের না ধরে নিরীহ ভুক্তভোগীকে গ্রেফতার ও হয়রানি করে বিশেষ গোষ্ঠীকে খুশী করার প্রয়াস, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ, ধর্ষণ, জমি-পুকুর জবরদখল এবং পরিশেষে সব কিছু ছিনিয়ে কপর্দকবিহীন করে দেশত্যাগে বাধ্যকরা। এ দেশে অতীতের দেশগুলোর মতো একবারে না মেরে আস্তে আস্তে মারা হচ্ছে। এতে করে আন্তর্জাতিক চাপ নেই, কোনো বাধা-বিপত্তি নেই। নির্বিঘ্নে কার্যসিদ্ধি। নাৎসী বা বার্মিজ সেনাবাহিনী বাংলাদেশের টেকনিক জানলে দুর্নামগ্রস্থ হতো না। মানবতার গ্রান্ড গ্রান্ড মাদার হতে পারতো।

ছবিঃ মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর।

সরকারের সদিচ্ছা থাকলে অত্যন্ত দ্রুত এ অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব হতো। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল করা যেতে পারতো। রাম রহিমের মতো বাঘা ধর্মগুরুকে ভারত জেলে ঢুকিয়ে ছাড়লো আর এসব পাতি ধর্মাবালদের সরকার শায়েস্তা করতে পারে না এসব ভাবা বোকামো।

তাহলে উপায় কি??
কোনো রাস্তাই কি খোলা নাই?? আছে….
ইতালী, ফ্রান্স, পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চাইনিজ কমিউনিটি রয়েছে। এরা যে কোন চাইনিজকে বিনা শর্তে সহযোগীতা করে এবং ব্যবসা করতে মূলধন দেয়। সারা পৃথিবীতে কোথাও গিয়ে চাইনিজরা আটকে থাকে না শুধুমাত্র এই কমিউনিটির জন্য। বাংলাদেশেও সংখ্যালঘুরা স্বেচ্ছা প্রণোদিত হয়ে এমন কমিউনিটি করতে পারে। অত্যাচারীত- নিপীড়িত পাহাড়ি আদিবাসীরা একত্রিত হলে পরিবর্তন সম্ভব । অর্থনৈতিকভাবে দারিদ্রসীমার নীচে বাস করা পাহাড়িদের সহায়তায় প্রবাসী পাহাড়িদের সমন্বয়ে ফান্ডরেইস করে উন্নত চিকিৎসা এবং আইনি কার্যক্রম চালানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

হিন্দু- বৌদ্ধ মন্দিরে তাদের নিজস্ব বেশ বড় ফান্ড রয়েছে। দেশে হিন্দু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বড় ব্যাবসায়ী রয়েছেন। তাদের আর্থিক সহায়তায় এবং সাধারণ সংখ্যালঘুদের প্রচেষ্টায় এমন কমিউনিটি গঠন করে ক্ষতিগ্রস্থদের সাময়িক আশ্রয় এবং আইনি সহযোগিতা দেয়া যেতে পারে। দেশে সংখ্যালঘুদের প্রায় ১২০০ সংগঠন আছে। এদের থাকাটাই একটা সমস্যা। রামু, নাসিরনগর, পাবনা, ফরিদপুর কিংবা রংপুরের ম্যাসাকার পরবর্তীকালে এরা দু’একটা মানববন্ধন ছাড়া এরা আর কিছুই করে নাই। রসরাজ বা টিটু রায় বিনা আইনী সহায়তার আদালতের কাঠগড়ায়। একজন উকিল তাদের পাশে দাঁড়ায় নাই। কার্যকর কমিউনিটি থাকলে এমনটা হতো না। কমিউনিটির শক্তি কতটা বাঙালী সংখ্যালঘুরা জানেনা। কমিউনিটি করে সারাদেশব্যাপী ক্যাম্পেইন করে নিজেদের অস্তিত্বকে জানান দিলে এবং উপযুক্ত আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা গেলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা অবশ্যই সম্ভব।



এ পাতার আরও খবর

চাকরির নয় বছরে কোটিপতি রাজউকের ইমারত পরিদর্শক মনিরুজ্জামান চাকরির নয় বছরে কোটিপতি রাজউকের ইমারত পরিদর্শক মনিরুজ্জামান
সাব-রেজিস্টার মাইকেলের হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ সাব-রেজিস্টার মাইকেলের হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ
ডিজি বদলি, কিন্তু বিতর্কের অবসান কোথায়? ডিজি বদলি, কিন্তু বিতর্কের অবসান কোথায়?
দুবাইয়ে সাবেক আই জি পি বেঞ্জির গ্রেপ্তার দুবাইয়ে সাবেক আই জি পি বেঞ্জির গ্রেপ্তার
রেল খেকো ‘ম্যাক্স’ গ্রুপের একচেটিয়া আধিপত্য রুখবে কে রেল খেকো ‘ম্যাক্স’ গ্রুপের একচেটিয়া আধিপত্য রুখবে কে
অনিয়ম-দুর্নীতি চাঁদাবাজি ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে শূন্য থেকে শতকোটির মালিক বন কর্মকর্তা নিশাত অনিয়ম-দুর্নীতি চাঁদাবাজি ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে শূন্য থেকে শতকোটির মালিক বন কর্মকর্তা নিশাত
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’র সেকেন্ড ডিজি খ্যাত বদলি ও ঘুষ বাণিজ্যের গডফাদার মাসুম বিল্লাহ কি আইনের উর্ধ্বে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’র সেকেন্ড ডিজি খ্যাত বদলি ও ঘুষ বাণিজ্যের গডফাদার মাসুম বিল্লাহ কি আইনের উর্ধ্বে
ঋণ জালিয়াতি, বিদেশি নাগরিকত্ব ও অফশোর সম্পদ: নতুন চাপে বসুন্ধরা গ্রুপ ঋণ জালিয়াতি, বিদেশি নাগরিকত্ব ও অফশোর সম্পদ: নতুন চাপে বসুন্ধরা গ্রুপ
“দুদকের দৃষ্টি আকর্ষণ” “দুদকের দৃষ্টি আকর্ষণ”" সওজের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান’র সম্পদের পাহাড়
দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় সওজের প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান: ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকার লেনদেন দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় সওজের প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান: ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকার লেনদেন

আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)