শিরোনাম:
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ৩ ভাদ্র ১৪২৯

Daily Pokkhokal
রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯
প্রথম পাতা » অর্থনীতি | ব্যাংক-বীমা » বড় ঋণখেলাপিদের বিশেষ তদারকিতে আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রথম পাতা » অর্থনীতি | ব্যাংক-বীমা » বড় ঋণখেলাপিদের বিশেষ তদারকিতে আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক
২৬৩ বার পঠিত
রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

বড় ঋণখেলাপিদের বিশেষ তদারকিতে আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

পক্ষকাল সংবাদ-
যেসব ব্যাংকের মোট ঋণ স্থিতির ৫ শতাংশের বেশি খেলাপি হয়ে পড়েছে, তাদের এ বছরের মধ্যেই তা ৫ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে হবে ব্যাংকগুলোকে। এ ছাড়া ১০০ কোটি টাকা বা এর বেশি অঙ্কের ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তদারকিতে সব ব্যাংকে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্রে জানা যায়, সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশি সব খাতের ব্যাংকেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে। যা নিয়ে বিব্রত সরকারের নীতিনির্ধারকরা। এ নিয়ে চাপে আছে বাংলাদেশ ব্যাংকও। তাই খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণ ও তা কিভাবে কমিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে গত মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের জন্য আলাদা দুটি কমিটি গঠন করা হয়। সম্প্রতি বেসরকারি ব্যাংকের জন্য গঠিত কমিটির এক সভায় খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়ে ব্যাংকগুলো থেকে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
অর্থনীতিবিদরা বলেন, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটা নিয়ে সবাই চিন্তিত। তবে রাতারাতি এটা কমানো সম্ভব নয়। সবারই সৎ ইচ্ছা থাকতে হবে। এছাড়া আইনের সঠিক প্রয়োগ বাড়াতে হবে। তাহলে খেলাপি ঋণ অনেকটাই কমে আসবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এ বছরের মধ্যে কিভাবে খেলাপি ঋণ কিভাবে কমানো যায় সেই লক্ষে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সূত্র বলছে, গত ১০ বছরে দেশের ব্যাংকিং খাতে বেশ কয়েকটি বড় ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে হলমার্ক, বিসমিল্লাহ, বেসিক ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংক এবং অ্যাননটেক্স ও ক্রিসেন্ট লেদার অন্যতম। আলোচিত এসব কেলেঙ্কারিতে ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ বের করে নেওয়া হয়েছে, যার সিংহভাগ এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে সরকারি-বেসরকারি বেশ কয়েকটি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বিশেষভাবে সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের আধিক্য বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৩৯টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের বেশি রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি-বেসরকারি ১২টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার উচ্চমাত্রায় রয়েছে। এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১৫ থেকে ৯৭ শতাংশের মধ্যে। ব্যাংকিং খাতের প্রায় বড় সব অনিয়মও হয়েছে এসব ব্যাংকে। এর বাইরে বেসরকারি খাতের আরো ১১টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৭ থেকে ১১ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া ৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ৭ শতাংশের কম খেলাপি ঋণ আছে এমন ব্যাংক আছে আরো ১৬টি।
সূত্র আরো জানায়, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার কৌশল হিসেবে বড় ঋণখেলাপিদের বিশেষ তদারকিতে আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য প্রত্যেক ব্যাংকে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হবে। এই সেল ১০০ কোটি টাকা বা তার বেশি অঙ্কের খেলাপি গ্রাহকদের বর্তমান অবস্থা যাচাইসহ ঋণ আদায় জোরদার করবে। শুধু তাই নয়, ঋণ আদায়ে নিয়মিত তদারকির অগ্রগতি প্রতিবেদন তাঁদের ব্যাংকের পর্ষদ সভায় উপস্থাপনের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকেও পাঠাতে হবে। এ বিষয়ে সম্প্রতি প্রায় ১২টি ব্যাংকের ক্রেডিট বিভাগের প্রধানদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকও হয়েছে। ওই বৈঠকে ব্যাংকগুলোও বিশেষ মনিটরিং সেল গঠনের বিষয়ে একমত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের সেল গঠনের পরামর্শ দিয়ে আগামী সপ্তাহের মধ্যে একটি সার্কুলার জারি করতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে গত ২২ জুন জাতীয় সংসদে শীর্ষ ৩০০ খেলাপির তালিকা দেন অর্থমন্ত্রী।



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)