শিরোনাম:
ঢাকা, শনিবার, ২ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

Daily Pokkhokal
শনিবার, ৬ এপ্রিল ২০১৯
প্রথম পাতা » ব্রেকিং নিউজ | রাজনীতি | শিক্ষা ও ক্যারিয়ার » তরুণীর যে পোস্টার ঘিরে পাকিস্তানে তুমুল বিতর্ক
প্রথম পাতা » ব্রেকিং নিউজ | রাজনীতি | শিক্ষা ও ক্যারিয়ার » তরুণীর যে পোস্টার ঘিরে পাকিস্তানে তুমুল বিতর্ক
৪৪৫ বার পঠিত
শনিবার, ৬ এপ্রিল ২০১৯
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

তরুণীর যে পোস্টার ঘিরে পাকিস্তানে তুমুল বিতর্ক

পক্ষকাল ডেস্ক: রুমিসা লাখানি এবং রাশিদা সাব্বির হোসেন যখন পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে একটি প্ল্যাকার্ড তৈরি করেন, তখন তাদের কোনো ধারণাই ছিল না যে এটি সারা দেশে কত বড় বিতর্কের সৃষ্টি করতে পারে। নারী দিবসের একদিন আগে করাচির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২২ বছর বয়সী এই দু’জন শিক্ষার্থী পোস্টার তৈরির একটি সেশনে অংশ নিয়েছিলেন।

তারা এমন একটি পোস্টার বানাতে চেয়েছিলেন যাতে সবার দৃষ্টি পড়ে। এ জন্য নানা আইডিয়া নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে শুরু করেন।

সেসময় তাদের পাশের একজন বান্ধবী দুটি পা দু’পাশে ছড়িয়ে বসেছিল। এটা দেখেই তারা একটি পোস্টার বানানোর আইডিয়া পেয়ে যান।

রুমিসা মনে করেন, নারীরা কীভাবে বসবে তা নিয়ে প্রচুর কথাবার্তা হয়। ‘আমাদেরকে খুব মার্জিত হতে হবে। আমাদের শরীরের আকার আকৃতি যাতে দেখা না যায় সেজন্য সচেতন থাকতে হবে। পুরুষরা যখন পা ছড়িয়ে বসে তখন সেদিকে কেউ তাকিয়েও দেখে না।’

কিন্তু রুমিসা যে প্ল্যাকার্ডটি তৈরি করেছেন তাতে দেখা যাচ্ছে সানগ্লাস চোখে দেওয়া এক নারী নিঃসঙ্কোচে পা ছড়িয়ে বসে আছেন। তার বান্ধবী রাশিদা তখন একটি শ্লোগান লিখে দিয়েছেন। মেয়েদেরকে যে ‘কীভাবে বসতে হবে, হাঁটতে হবে, কথা বলতে হবে’ এসব নিয়ে উপদেশ দেয়া হয় সেবিষয়েই তিনি লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছিলেন।

তারা তখন একটি শ্লোগানের ব্যাপারে একমত হয়ে লিখেন: ‘এই আমি ঠিকমতো বসেছি।’

হাবিব বিশ্ববিদ্যালয়ে এই দু’জনের প্রথম দেখা হয়েছিল। তারপর একসময় তারা ভাল বন্ধু হয়ে যান। নিজেদের জীবনের সব অভিজ্ঞতা থেকে নারী অধিকারের ব্যাপারে তাদের মধ্যে একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছিল।

রুমিসা বলেন, তাকে প্রতিদিনই বিয়ে করার কথা শুনতে হয়। এ জন্য তাকে পরিবার থেকে চাপও দেয়া হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত যে তিনি অবিবাহিত থাকতে পেরেছেন, সেটা তার কাছে ‘একটা ব্যক্তিগত বিজয়ের’ মতো মনে হয়।

রাশিদা বলেছেন, রাস্তায় তাকে প্রতিদিনই নানা ধরনের হেনস্থার শিকার হতে হয়। এজন্যে তারা দুজনেই ‘আওরাত’ বা নারী সমাবেশে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

চারদিকে এতো নারী তাদের অধিকারের জন্য চিৎকার করছেন- এটা ছিল একটা দারুণ অভিজ্ঞতা। আমার ধারণা যারাই সেখানে অংশ নিয়েছিলেন তারা তখন নারীর শক্তি সম্পর্কে কিছুটা হলেও অনুভব করতে পেরেছিলেন, বলেন রুমিসা।

পাকিস্তানে এর আগেও নারীরা এরকম বড় বড় সমাবেশে অংশ নিয়েছেন। বিভিন্ন দেশে নারী ও পুরুষের সমতা কতখানি এ বিষয়ে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম ১৪৯টি দেশের যে তালিকা তৈরি করেছিল তাতে পাকিস্তানের অবস্থান ছিল একেবারে নিচের দিক থেকে দুই নম্বরে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ইয়েমেনে।

পাকিস্তানে নারীদের পারিবারিক সহিংসতার শিকার হওয়া, জোরপূর্বক বিবাহ, যৌন নির্যাতন এসব খুব সাধারণ ঘটনা। এমনকি পরিবারের সম্মান রক্ষার নামে নারীদেরকে হত্যা করার খবরও মাঝে মাঝেই সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

নারীদের ওই সমাবেশে আরো অনেকেই নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু রক্ষণশীল এই দেশটিতে রুমিসা ও রাশিদার তৈরি পোস্টারটি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সমাবেশ আয়োজনকারীদের একজন মনিজা বলছেন, নারীদের শরীরকে যৌনতা হিসেবে দেখা হয়। বলা হয় যে নারীদেরকে শরীর ঢেকে রাখতে হবে এবং তারা ঘরের বাইরে যাবে না। আমরা এর প্রতিবাদ করছি।

রুমিসা মনে করেন সেদিন যে সাড়ে সাত হাজার নারী জড়ো হয়েছিল সেটা রক্ষণশীল পুরুষদের ভাবিয়েছে। অনেকেই হয়তো ব্যাপারটা ঠিকমতো নেয়নি যে নারীরা এভাবে চিৎকার করছে। ‘অনেকে মনে করে এটা ইসলামের বিরোধী। কিন্তু আমরা সেটাকে এভাবে দেখি না। আমার ধারণা ইসলামে নারীকে যথেষ্ট মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।’

ওদের তৈরি প্ল্যাকার্ডের ছবিটি ইন্টারনেটে পোস্ট করা হলে সোস্যাল মিডিয়াতে সেটি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এ নিয়ে তখন প্রচুর আলোচনা শুরু হয়ে যায়। একজন ফেসবুকে লিখেছেন, আমি আমার মেয়ের জন্যে এ ধরনের সমাজ চাই না।

আরেকজন লিখেছেন, আমিও একজন নারী। কিন্তু এই ছবিটার ব্যাপারে খুব একটা স্বস্তি বোধ করছি না। আরেকজন লিখেছেন, এটা নারী দিবস, দুশ্চরিত্রদের দিবস নয়।

রুমিসার পরিচিত অনেকে ব্যক্তিগতভাবে তাকে বার্তাও পাঠিয়েছেন। তারা বলেছেন, আমরা বিশ্বাস করতে পারছি না তোমার মতো কেউ একজন এটা করেছে। তুমি এমন একটি ভদ্র পরিবারের মেয়ে। তার পরিবারের কোন কোন সদস্য তার বাবা মাকেও বলেছেন, তাকে যেন আর এধরনের সমাবেশে যেতে দেয়া না হয়।

কিন্তু সামাজিক এই চাপের পরেও রুমিসার পিতামাতা তাদের মেয়ের সিদ্ধান্তের সাথে একমত। ওই সমাবেশে আরেকটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল- আমার শরীর, আমার সিদ্ধান্ত।

পাকিস্তানের একটি টিভি চ্যানেলের খবর অনুসারে, করাচির একজন ধর্মীয় নেতা এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেছিলেন, ‘আমার শরীর আমার সিদ্ধান্ত.. তাহলে পুরুষের শরীর পুরুষের সিদ্ধান্ত….তারা যার উপর চায় তার উপরেই উঠে যেতে পারে।’

পরে অনেকে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণে প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগ করেছেন। নারীদের এই সমাবেশে পাকিস্তানে নারীবাদী আন্দোলনের মধ্যেও বিভেদ সৃষ্টি করেছে। রুমিসা বলেন, অনেকে বলছেন এসব কোন বিষয় না। নারীদের এরকম আচরণ করা উচিত নয়। আমার অনেক নারীবাদী বান্ধবীও মনে করে যে এই পোস্টারটা অপ্রয়োজনীয়।

তারা মনে করেন যে এই পোস্টারের মাধ্যমে পাকিস্তানের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি অসম্মান দেখানো হয়েছে। একজন বলেছেন, যারা মনে করে এরকম পোস্টারের মাধ্যমে নারীর অধিকার আদায় করা যাবে তারা বিভ্রান্ত জিহাদিদের মতো, যারা মনে করে নিরীহ লোকজনকে হত্যা করে বেহেশতে যাওয়া যায়।

এই বিতর্কের পরেও রুমিসা মনে করেন তিনি ঠিক পোস্টারটিই বানিয়েছেন। এটা নিয়ে তার কোন দুঃখ নেই। আমি খুশি যে এটা এতো মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে। বিবিসি বাংলা।



এ পাতার আরও খবর

জামায়াত ১/১১-তে কোনো প্রতিবাদ করেনি: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জামায়াত ১/১১-তে কোনো প্রতিবাদ করেনি: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন নিহত
সাভারে সাংবাদিককে অপহরণ চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন সাভারে সাংবাদিককে অপহরণ চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন
নিউমার্কেটে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা, শরীরে পাঁচটি গুলির চিহ্ন নিউমার্কেটে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা, শরীরে পাঁচটি গুলির চিহ্ন
ইরান হরমুস প্রণালীতে টোল আদায় শুরু করল ইরান হরমুস প্রণালীতে টোল আদায় শুরু করল
দেবিদ্বারে অধ্যক্ষকে তাড়িয়ে দিতে কলেজে বহিরাগতদের হামলা দেবিদ্বারে অধ্যক্ষকে তাড়িয়ে দিতে কলেজে বহিরাগতদের হামলা
নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সমাজের দায়: ন্যায়বিচারের পথে রাষ্ট্র ও নাগরিকের ভূমিকা নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সমাজের দায়: ন্যায়বিচারের পথে রাষ্ট্র ও নাগরিকের ভূমিকা
সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয়  কাউন্সিলের সভাপতি জাফর সম্পাদক ইমন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সভাপতি জাফর সম্পাদক ইমন
নওফেলের তোপে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র: “কোটি টাকার প্রকল্পে নেই বাস্তব প্রভাব, ভাঙতে হবে একচেটিয়া কাঠামো” নওফেলের তোপে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র: “কোটি টাকার প্রকল্পে নেই বাস্তব প্রভাব, ভাঙতে হবে একচেটিয়া কাঠামো”
সাবেক নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ’র ঘনিষ্ঠ সহচর দুর্নীতিবাজ সাইদুর কি আইনের উর্ধ্বে? সাবেক নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ’র ঘনিষ্ঠ সহচর দুর্নীতিবাজ সাইদুর কি আইনের উর্ধ্বে?

আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)