শিরোনাম:
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

Daily Pokkhokal
বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৪
প্রথম পাতা » অপরাধ | জেলার খবর » ইউপি চেয়ারম্যান কান্ড! স্কুল ছাত্রীর শ্লীলতা হানীর চেষ্টা; এলাকা তোলপাড়
প্রথম পাতা » অপরাধ | জেলার খবর » ইউপি চেয়ারম্যান কান্ড! স্কুল ছাত্রীর শ্লীলতা হানীর চেষ্টা; এলাকা তোলপাড়
৫৫৮ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৪
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ইউপি চেয়ারম্যান কান্ড! স্কুল ছাত্রীর শ্লীলতা হানীর চেষ্টা; এলাকা তোলপাড়

---

কুমিল্লা প্রতিনিধি: দেবিদ্বারে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের নবম শ্রেণীতে পড়–য়া এক স্কুল ছাত্রীর শ্লীলতা হানীর চেষ্টার অভিযোগসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে। ভিক্টিম ছাত্রীর মা লিপি দাস জানান, আমার দু মেয়ে ছোট মেয়ে অসুস্থ্য প্রতিবন্দি রিতু দাস(১০)কে নিয়ে বুধবার বিকেলে কুমিল্লায় চিকিৎকের কাছে নিয়ে যাই, সাথে আমার বড় মেয়েও ছিল। আসার পথে কুমিল্লা কান্দিরপাড় এলাকায় দেবিদ্বার উপজেলার ৯নং গুনাইঘর উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের সাথে দেখা হয়। তিনি ঢাকা যাবে বলে জানায়। আমরা বাড়ি আসার জন্য রিক্সায় উঠি। এসময় চেয়ারম্যান বলেন, আমি আর ঢাকা যাবনা। দেবিদ্বার চলে যাব। তোমরা কষ্ট করে এক রিক্সায় যেতে হবেনা। তোমার বড় মেয়ে আমার সাথে যাবে, আপত্তি জানালেও জোর করে আমার মেয়েকে রিক্সায় তোলে নেয়। আমি ছোট মেয়েকে নিয়ে শাসনগাছা বাস ষ্ট্যাশনে আসি, আসার সময় পেছনে রিক্সা না দেখে ফোনে কথা বলি। চেয়ারম্যান জানায় জ্যামে আটকা পড়ে আছি। শাসনগাছা বাস ষ্ট্যাশনে নেমে প্রায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করি। এর মধ্যে একাধিকবার ফোনে কথা হয়। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান জানায় তোমরা চলে যাও, আমরা পরের বাসে আসব। এর পরে আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ফোনে কথা বলার চেষ্টা করি, তখন মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় শাসনগাছা থেকে রিক্সায় আবারো তাদের খুঁজতে কান্দিরপাড় আসি। না পেয়ে দেবিদ্বারে চলে আসি। রাত সাড়ে ৭টায় আমার মেয়ে হঠাৎ ফোনে কথা বলে, মা আমাকে বাঁচাও তখন আমি কিংকর্তব্যবিমূড় হয়ে পড়ি। এরই মধ্যে ছোট আলমপুর গ্রামের নাজিমকে বিষয়টি জানাই। তখন নাজিমসহ এলাকার আরো কিছু লোকজন নিয়ে থানায় যাই। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমানের নিকট ঘটনাটি জানাই এবং আমার মেয়েকে উদ্ধারের মৌখিক আবেদন জানাই। ওসি সাহেব তাৎক্ষনিক খোরশেদ চেয়ারম্যানের সাথে ফোনে কথা বলেন। ওই সময় চেয়ারম্যান ঘটনাটি অস্বীকার করে জানায় আমি দেবীদ্বারের ছেপাড়া গ্রামে একটি দরবারে আছি। এসময় ওসি সাহেবের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে আমি আমার মেয়ের খোঁজ নিলে সে জানায় তোমাকে আমি চিনিনা, মেয়েকেও চিনিনা। আমাকে ব্লেক মেইল করার চেষ্টা করছো? বলে ফোন কেটে দেয়। পরে কুমিল্লা ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের উপ-পরিদর্শক (এস,আই) শাহ্ কামাল আকন্দের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি মোবইল ট্রেক করে খোরশেদ চেয়ারম্যানের অবস্থান সনাক্ত করে বলেন, কুমিল্লা শহরের চকবাজার এলাকায় আছেন। রাতে আমার সম্প্রদায়ের কিছু লোকজন খোরশেদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানায় মেয়েকে পাঠিয়ে দেবে। অপেক্ষা করে রাত সাড়ে ৩টায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোটআলমপুরের ভাড়া বাসায় এসে দেখি আমার মেয়ে অপেক্ষা করছে। তার সাথে কথা বলার পর সমস্ত ঘটনা অবগত হই।ভিক্টিম ওই ছাত্রী জানায়, কান্দিরপাড় থেকে মায়ের সাথে আসার পথে খোরশেদ চেয়ারম্যান আমাকে জোর করে তার রিক্সায় তোলে নেয়। শাসনগাছা বাস ষ্ট্যাশনের দিকে আসার পথে রিক্সা ঘুরিয়ে চকবাজারের দিকে নিয়ে যায়। আমি আপত্তি করলেও সে কথা শোনে নাই। এক পর্যায়ে শব্দ করলে আমাকে হত্যার হুমকী দিয়ে চরথাপ্পর মারতে থাকে। এসময় সবুজ নামে এক লোককে ফোনে জানায় আমরা আসছি জায়গা ঠিক রেখো। রিক্সা থেকে নামিয়ে সবুজের বাসায় আমাকে নিয়ে যেতে চাইলে আমি মায়ের কাছে যাব বলে জানাই। আমাকে জোর করে বাসায় নিয়ে যায়। সবুজ আমাদের একটি কক্ষ দেখিয়ে বলে, এটাই তোমাদের কক্ষ। জোর করে আমাকে নিয়ে চেয়ারম্যান ওই কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। আমি কান্না শুরু করলে সে আমাকে বেধরক মারধর করে। একপর্যায়ে আমার শ্লীলতা হানীর চেষ্টায় অনেক জোরাজুরি করে। আমি তার মোবাইল নিয়ে মা’য়ের সাথে কথা বলতে চাইলে সে মোবাইলটি জোর করে নিয়ে বাতরোমে ঢোকে। এসুযোগে তার অপর মোবাইলটি বালিশের নিচ থেকে বের করে মাকে বলি,-‘মা আমাকে বাঁচাও’, খোরশেদ চেয়ারম্যান বাত রোম থেকে এসেই আমার হাত থেকে জোর করে মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয় এবং খোরশেদ আমার উপর আবারো ঝাপটে পড়ে, আমাকে হুমকী দেয় এখানে তোকে হত্যা করে গুম করে ফেললেও কেউ কিছু করতে পারবেনা। এসময় আমি চেয়ারম্যানকে থাপ্পর মারলে সে আমাকে বলে, আমি খোরশেদ চেয়ারম্যানকে এপর্যন্ত কেউ থাপ্পর মারার সাহস পায় নাই, সপ্তাহে তোর মতো ৪/৫জনকে এনে মনোরঞ্জন করি। কারোর কিছু করার ক্ষমতা হয়নাই। আর তুই আমাকে থাপ্পর মারলি। এসময় একটি ফোন পেয়ে আমাকে ছেড়ে প্যান্ট-শার্ট পড়ে রোম থেকে বেড়িয়ে চলে যায়। পরে এডভোকেট সবুজ আমাকে বিছানা থেকে উঠিয়ে বের করে এনে বলেন, তুমি চলে যাও। আমি বললাম এতো রাতে কিভাবে যাব। এডভোকেট সবুজ তার স্ত্রীসহ আমার মায়ের কাছে দেবে বলে শাসনগাছা বাসষ্ট্যাশনে নিয়ে আসে, এখান থেকে আমি একা যেতে পারবনা বললে তারা আমাকে ময়নামতি বাস ষ্ট্যাশনে এনে একটি সিএনজি রিজার্ব করে পাঠিয়ে দেয়। আমাকে কক্ষে ঢুকিয়ে এডভোকেট সবুজ সহযোগীতা করলেও আমার কান্নাকাটিতে সে কিংবা তার বৌ কেহই আমাকে রক্ষায় এগিয়ে আসেনি। রাত সাড়ে ১২টায় বাসায় এসে দেখি মা’ নেই, বাসায় তালা, পাশের একটি পরিত্যাক্ত কক্ষে মায়ের জন্য অপেক্ষা করি। মা’ রাত সাড়ে ৩টায় বাসায় আসলে ঘটনা জানই। এব্যাপারে কুমিল্লা ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের উপ-পরিদর্শক(এস,আই) শাহ্ কামাল আকন্দের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বর্বরোচিত এঘটনার কোন ব্যাখ্যা আমার জানা নেই, খোরশেদ চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন যাবৎ নানা অপকর্ম করে বহাল তবিয়তে আছে। তার বিরুদ্ধে কেহ যদি অভিযোগ না করে আমরা কি করবো। এডভোকেট সবুজ বলেন, এলাকার যে কেউ আমার বাসায় আসতে পারে, খোরশেদ চেয়ারম্যান এমন কাজ করবে তা ভাবতেও অবাক লাগে। আমি মেয়েটিকে উদ্ধার করে নিজ টাকায় সিএনজি ভাড়া করে বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বর্তমান ইউপি কার্যালয়টিকে নানা অপকর্মের কেন্দ্র গড়ে তোলায় স্থানীয়রা চেয়ারম্যান খোরশেদকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করার সময় বেঁধে দেয়ায়, চেয়ারম্যান আর ওই সরকারী অফিস ব্যবহার না করে তার প্রতিষ্ঠিত স্কুলের পাশে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছ থেকে বেদখলকৃত জায়গায় অফিস করে যাচ্ছে। যা সম্পূর্ন নিয়ম বহির্ভূত। স্কুলটিকে দির্ঘদিন যাবত চেয়াম্যান তার টর্চার সেল হিসেবে ব্যাবহার করে আসছে। এলাকার যে কোন ধরনের সালিস/ বৈঠকের রায়ে অপরাধীদের শাস্তি ওই স্কুলে কার্যকর করা হয়ে থাকে। প্রভাবশালী ওই চেয়ারম্যানের এসব কর্মকান্ডের প্রতিবাদের সাহস কেউ না করায় নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এলাকার লোকজন চেয়ারম্যানের একচ্ছত্র আধিপত্ব ও নির্যাতনে ক্ষুব্ধ হলেও মুখ খুলতে সাহস পাননা কেউ। কারন, যে তার বিরুদ্ধে যাবে তাকেই নির্যাতন ভোগই নয়, মিথ্যা মামলায়ও হয়রানীর শিকার হতে হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যাক্তি জানান, নিজ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রোজ গার্ডেন স্কুলের টর্চার সেলে লোকজন ধরে এনে মারধোর, পারিবারিক বা জমিসংক্রান্ত বিরোধসহ নানা কারনে অভিযুক্তদের সালিসের মাধ্যমে জরিমানা, শারিরীক নির্যাতন এমনকি নারীদের দেহভোগসহ নানা অনৈতিক কাজ করা হয়। জরিমামার টাকাও ভোক্ত ভোগীদের না দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এছাড়াও সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক পরিবারের জমি দখল করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির তদন্তেই সব সত্য বেড়িয়ে আসবে। ভিক্টিম ছাত্রীর মা’ জানান, আমরা সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের, খোরশেদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মুসলিম সম্প্রদায়ই দাড়াতে চায়না আমি কি করবো জানিনা। তবে মামলা করবো। আমাদের স্বজাতি নেতারাও খোরশেদ চেয়ারম্যানের পক্ষে কথা বলে, মামলা দায়েরে হুমকী দিচ্ছে। এব্যপারে অভিযুক্ত গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম জানান, সামনে ইউপি নির্বাচন, আমাকে হেয় করার জন্য একটি মহল এসব ষড়যন্ত্র করছে। এব্যপারে দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় কেহ লিখিত অভিযোগ করে নাই, তাছাড়া ঘটনাটি যেহেতু কুমিল্লা শহরে, মামলা করলেও কুমিল্লা কোতয়ালী থানায় করতে হবে। গভীর রাত পর্যন্ত খোরশেদ চেয়ারম্যান সাথে কথা বলি, চেয়ারম্যানের কোন ক্ষতি হবেনা বলেও আশ্বস্ত করে মেয়েটিকে ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ করি। ভোক্তভূগী পরিবার যদি সহযোগীতা চায় তাহলে আইনগত সহায়তা দেবো।



এ পাতার আরও খবর

“”প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ” “”প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ”" দুর্নীতির ডিজিটাল বাদশা বিআইডব্লিউটিএর অতি: প্রধান প্রকৌশলী মজনু মিয়া
চাকরির নয় বছরে কোটিপতি রাজউকের ইমারত পরিদর্শক মনিরুজ্জামান চাকরির নয় বছরে কোটিপতি রাজউকের ইমারত পরিদর্শক মনিরুজ্জামান
সাব-রেজিস্টার মাইকেলের হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ সাব-রেজিস্টার মাইকেলের হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ
দুবাইয়ে সাবেক আই জি পি বেঞ্জির গ্রেপ্তার দুবাইয়ে সাবেক আই জি পি বেঞ্জির গ্রেপ্তার
রেল খেকো ‘ম্যাক্স’ গ্রুপের একচেটিয়া আধিপত্য রুখবে কে রেল খেকো ‘ম্যাক্স’ গ্রুপের একচেটিয়া আধিপত্য রুখবে কে
অনিয়ম-দুর্নীতি চাঁদাবাজি ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে শূন্য থেকে শতকোটির মালিক বন কর্মকর্তা নিশাত অনিয়ম-দুর্নীতি চাঁদাবাজি ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে শূন্য থেকে শতকোটির মালিক বন কর্মকর্তা নিশাত
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’র সেকেন্ড ডিজি খ্যাত বদলি ও ঘুষ বাণিজ্যের গডফাদার মাসুম বিল্লাহ কি আইনের উর্ধ্বে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’র সেকেন্ড ডিজি খ্যাত বদলি ও ঘুষ বাণিজ্যের গডফাদার মাসুম বিল্লাহ কি আইনের উর্ধ্বে
ঋণ জালিয়াতি, বিদেশি নাগরিকত্ব ও অফশোর সম্পদ: নতুন চাপে বসুন্ধরা গ্রুপ ঋণ জালিয়াতি, বিদেশি নাগরিকত্ব ও অফশোর সম্পদ: নতুন চাপে বসুন্ধরা গ্রুপ
“দুদকের দৃষ্টি আকর্ষণ” “দুদকের দৃষ্টি আকর্ষণ”" সওজের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান’র সম্পদের পাহাড়
দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় সওজের প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান: ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকার লেনদেন দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় সওজের প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান: ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকার লেনদেন

আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)