শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রথম পাতা » ব্রেকিং নিউজ | রাজনীতি | শিক্ষা ও ক্যারিয়ার » নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সমাজের দায়: ন্যায়বিচারের পথে রাষ্ট্র ও নাগরিকের ভূমিকা
নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সমাজের দায়: ন্যায়বিচারের পথে রাষ্ট্র ও নাগরিকের ভূমিকা
শফিকুল ইসলাম কাজল
![]()
বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতিতে ভিন্নমত, প্রতিবাদ এবং মতপ্রকাশের অধিকার একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ঘটনাকে ঘিরে যে গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা শেখ তাসনিম আফরোজ ইমির ঘটনা এই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
ইমির গ্রেপ্তার ও কারাবাস কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি বৃহত্তরভাবে আমাদের বিচারব্যবস্থা, আইনের প্রয়োগ এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলে। একজন শিক্ষার্থীনেত্রী ও সামাজিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হওয়া উচিত। কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় তাঁর দীর্ঘ কারাবাস অনেকের কাছেই উদ্বেগজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
এখানে মূল প্রশ্নটি হলো—আইনের প্রয়োগ কি ন্যায়বিচারের মানদণ্ডে হচ্ছে, নাকি তা ভিন্নমত বা প্রতীকী অবস্থানকে দমনের উপকরণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে? যদি কোনো বক্তব্য, স্লোগান বা ঐতিহাসিক ভাষণ আইনে নিষিদ্ধ না হয়, তবে সেগুলোর কারণে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া কতটা যৌক্তিক—এই প্রশ্নেরও সুস্পষ্ট উত্তর প্রয়োজন।
নাগরিক সমাজের সাম্প্রতিক প্রতিবাদ সমাবেশগুলো এই প্রশ্নগুলোকেই সামনে এনেছে। এসব কর্মসূচিতে ইমির মুক্তির দাবি উচ্চারিত হচ্ছে, যা কেবল একটি ব্যক্তিগত দাবি নয়; বরং এটি ন্যায়বিচার ও নাগরিক স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে, যেখানে আইনের শাসন বিদ্যমান, সেখানে অভিযোগের ন্যায়সঙ্গত নিষ্পত্তি নিশ্চিত না করে দীর্ঘদিন কারাবন্দি রাখা কখনোই কাম্য হতে পারে না।
আমরা মনে করি, শেখ তাসনিম আফরোজ ইমির ক্ষেত্রে দ্রুত, স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। যদি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হয়, তবে অবিলম্বে তাঁর মুক্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আর যদি অভিযোগ প্রমাণের মতো যথেষ্ট ভিত্তি থাকে, তবে তা জনসম্মুখে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে, যাতে কোনো ধরনের সন্দেহ বা অবিশ্বাসের অবকাশ না থাকে।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, তবে সেই সঙ্গে নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা। অন্যদিকে, নাগরিক সমাজের দায়িত্ব শান্তিপূর্ণ ও যুক্তিনির্ভর উপায়ে তাদের দাবি তুলে ধরা। এই ভারসাম্য রক্ষা করেই একটি স্থিতিশীল ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা তখনই অর্থবহ হবে, যখন ন্যায়বিচার, সহনশীলতা এবং মানবাধিকারের মূল্যবোধ বাস্তবে প্রতিফলিত হবে। শেখ তাসনিম আফরোজ ইমির মুক্তির প্রশ্নটি তাই শুধু একটি ব্যক্তির স্বাধীনতার বিষয় নয়; এটি আমাদের রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক চেতনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।




সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সভাপতি জাফর সম্পাদক ইমন
নওফেলের তোপে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র: “কোটি টাকার প্রকল্পে নেই বাস্তব প্রভাব, ভাঙতে হবে একচেটিয়া কাঠামো”
সাবেক নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ’র ঘনিষ্ঠ সহচর দুর্নীতিবাজ সাইদুর কি আইনের উর্ধ্বে?
মেয়াদ শেষে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা ম্যাক্রোঁর
নরসিংদীর রায়পুরা চরে ‘জুলাই সহিংসতা’র লুটের অস্ত্রে ২০০ সন্ত্রাসীর সাম্রাজ্য: বালু মাফিয়া ও মাদকচক্রে বিলীন জনপদ
পীরের পর সাধু হত্যায় দেশের আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নে
ইসলামাবাদের ব্যর্থ আলোচনা ও হরমোজ প্রণালীর অবরোধ: মধ্যপ্রাচ্য কি চূড়ান্ত মহাপ্রলয়ের পথে
বিশ্বনেতাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ অ্যামনেস্টির
একযোগে ১৩ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে