শুক্রবার, ২৯ মার্চ ২০১৯
প্রথম পাতা » » যশোরের বৃষ্টি১৮ তলায় উঠেও বাঁচতে পারেননি
যশোরের বৃষ্টি১৮ তলায় উঠেও বাঁচতে পারেননি
পক্ষকাল ডেস্ক - আগুন আর ধোঁয়া থেকে বাঁচতে বনানীর এফ আর টাওয়ারের ১২ তলা থেকে ১৮ তলা পর্যন্ত উঠেছিলেন যশোরের মেয়ে শেখ জারিন তাসমিম বৃষ্টি। অগ্নিকাণ্ডের পর স্বামী, বাবাসহ স্বজনদের কাছে বারবার বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন। উপায় জানতে চেয়েছিলেন নরককুণ্ড থেকে বাঁচার। কিন্তু শেষ রক্ষা তার হয়নি। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) এফ আর টাওয়ারের আগুনে নিহত বৃষ্টির বাবার বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম।
শুক্রবার (২৯ মার্চ) দুপুর ২টা ১০ মিনিটে বৃষ্টির মরদেহ পৌঁছায় যশোর শহরের বেজপাড়া মেইনরোডের পাশে বাবা শেখ মোজাহিদুল ইসলামের বাড়ি ‘প্রতীক্ষা’-তে। মরদেহ পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে নিহতের আত্মীয়-স্বজনসহ প্রতিবেশীদের মধ্যে কান্নার রোল ওঠে। এরপর মরদেহ গাড়ি থেকে নামিয়ে বাড়ির সামনের উঠানে রাখা হয়। দুপুরে বৃষ্টির মরদেহ পৌঁছানোর পর পুরাতন বাসস্ট্যান্ড মসজিদে প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়।
বাবা শেখ মোজাহিদুল ইসলাম জানান, বাদ আছর ফের বেজপাড়া মসজিদে জানাজা শেষে তাকে তাকে শহরের কারবালা গোরস্তানে দাফন করা হয়। বৃষ্টির বাবাসহ স্বজনরা এই মৃত্যুর জন্যে বিল্ডিংয়ের মালিকসহ প্রশাসনকেই দায়ী করেছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং এ ঘটনার জন্যে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেন, ভবিষ্যতে যেন এমন কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে। বিনা কারণে যেন মানুষ মারা না যায়।
নিহতের বাবা শেখ মোজাহিদুল ইসলাম এবং শ্বশুর কাজী ইরাদ বলেছেন, অপরিকল্পিতভাবে তৈরি ভবনটির সিঁড়ি মোটে তিন ফুটের। এরকম সরু সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামা সম্ভব নয়। তাছাড়া ইমার্জেন্সি এক্সিট পথগুলো বন্ধ করে দারোয়ানরা আগেই পালিয়ে যায়; সে কারণে রুমে থাকা মানুষজন আর বের হতে পারেনি।
তাদের দাবি, বিল্ডিংয়ের ছাদে গিয়ে আশ্রয় নেওয়ার কোনও উপায় ছিল না। কেননা ছাদে উঠার দরজাও ছিল বন্ধ।
নিহতের স্বামী যশোরের পুরাতন কসবা এলাকার কাজী সাদ নূর বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বৃষ্টির সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। বৃষ্টি বলছিল- আগুন আর ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। আমি তাকে বলি, দৌঁড়ে উপরের দিকে চলে যাও। ১৮ তলায় অবস্থানকালে সে (বৃষ্টি) জানায়- ধোঁয়ার কারণে আর যেতে পারছে না। এ সময় পাশ থেকে তার এক সহকর্মী তাকে সান্তনা দিচ্ছিল।’
এরপর থেকে তার সঙ্গে মোবাইলফোনে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। মোবাইলফোন সেট অনেকক্ষণ বন্ধ ছিল। সাদ নূর বলেন, ‘আমার ছোটভাই বৃষ্টির নম্বরে লাগাতার ফোন দিতে থাকে। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফোনকল রিসিভ হয়। ওপাশ থেকে বলা হয়- তিনি ফায়ার সার্ভিসের লোক। সিমের মালিক মারা গেছেন।’
ফায়ার সার্ভিসের ওই ব্যক্তি নূরকে জানান, মৃতার ফোনসেট থেকে সিম বের করে তিনি ফোনকল রিসিভ করেছেন।’
দুই বোনের মধ্যে বৃষ্টি ছিল ছোট। বড়বোন সানজিদা ইসলাম ববিও ঢাকায় বসবাস করেন।
বৃষ্টির চাচা রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অত্যন্ত মেধাবী ও মিশুক ছিল বৃষ্টি। বাদ আছর তার নামাজে জানাজা শেষে যশোর কারবালা কবরস্থানে তার দাফন করা হবে।
যশোর শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী বৃষ্টি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানবসম্পদ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। মানবসম্পদ বিভাগে কর্মকর্তা হিসেবে তিনি কাজ করতেন বনানীর এফআর টাওয়ারের ইইউআর সার্ভিস বিডি লিমিটেডে।
২০১৬ সালে ২৬ মার্চ সহপাঠী যশোরের পুরাতন কসবা এলাকার কাজী সাদ নূরের সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কাজী সাদ নূর ঢাকার রিজেন্সি হোটেলের সহ-ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন। চাকরির সুবাদে ঢাকার খিলক্ষেতে বসবাস করতেন তারা। মাত্র দু’দিন আগে ২৬ মার্চ তৃতীয় বিয়েবার্ষিকী উদযাপন করেন তারা। বৃষ্টি তার ফেসবুকে স্বামীর সঙ্গে তোলা ছবি দিয়ে হ্যাশট্যাগে লিখেছিলেন, আলহামদুলিল্লাহ, একসাথে ১০৯৫ দিন, শুভ বিবাহবার্ষিকী, ২৬ মার্চ মিস্টার ও মিসেস নূর- ইত্যাদি। কিন্তু সেই আনন্দঘন মুহূর্ত একদিন পরই স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে।




জামায়াত ১/১১-তে কোনো প্রতিবাদ করেনি: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন নিহত
সাভারে সাংবাদিককে অপহরণ চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন
নিউমার্কেটে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা, শরীরে পাঁচটি গুলির চিহ্ন
ইরান হরমুস প্রণালীতে টোল আদায় শুরু করল
দেবিদ্বারে অধ্যক্ষকে তাড়িয়ে দিতে কলেজে বহিরাগতদের হামলা
নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সমাজের দায়: ন্যায়বিচারের পথে রাষ্ট্র ও নাগরিকের ভূমিকা
সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সভাপতি জাফর সম্পাদক ইমন
নওফেলের তোপে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র: “কোটি টাকার প্রকল্পে নেই বাস্তব প্রভাব, ভাঙতে হবে একচেটিয়া কাঠামো”
সাবেক নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ’র ঘনিষ্ঠ সহচর দুর্নীতিবাজ সাইদুর কি আইনের উর্ধ্বে?