শিরোনাম:
ঢাকা, শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

Daily Pokkhokal
বুধবার, ২৭ আগস্ট ২০২৫
প্রথম পাতা » অপরাধ » থেমে নেই প্রধান প্রকৌশলী (মেরিন)আতাহার’র কমিশন বাণিজ্য
প্রথম পাতা » অপরাধ » থেমে নেই প্রধান প্রকৌশলী (মেরিন)আতাহার’র কমিশন বাণিজ্য
৪৬ বার পঠিত
বুধবার, ২৭ আগস্ট ২০২৫
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

থেমে নেই প্রধান প্রকৌশলী (মেরিন)আতাহার’র কমিশন বাণিজ্য

বিশেষ প্রতিনিধিঃবাং লাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) যেন টাকার খনি। এই প্র---তিষ্ঠানে যারাই চাকুরী করেন তারাই কোটিপতি বনে যান। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারি থেকে শুরু করে প্রকৌশলী, প্রধান প্রকৌশলী ও পরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা যে যেভাবে পারছেন প্রতিষ্ঠানটির রক্ত চুষে খাচ্ছেন। তারা একেকজন প্রায় ১০/১২ বছর বা তারও অধিক সময় ধরে বিআইডব্লিউটিএর প্রধান কার্যালয়ের এক একটি শাখায় কর্মরত থাকার সুবাদে অনিয়াম ও দুর্নীতি ও নিজস্ব সিন্ডিকেট ঠিকাদারদের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যবসার মাধ্যমে কাড়ি কাড়ি টাকা হাতিয়ে নিয়ে দেশে-বিদেশে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ঘুষ অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিআইডব্লিউটিএ এর প্রধান প্রকৌশলী (মেরিন) মোঃ আতাহার আলী সরদার সীমাহীন ঘুষ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নামে বেনামে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। সম্প্রতি  প্রধান প্রকৌশলী (মেরিন/এমএমই শাখা) আতাহার আলী সরদার’র বিরুদ্ধে জুলাই আগস্ট-২০২৪ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলাকারী হত্যা মামলার আসামি (৫ ই আগস্ট-০২৫ইং তারিখে গ্রেফতার)সেলিম রেজা এন্টারপ্রাইজের মালিক সেলিম রেজা কে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে  ৫ই আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সময় কয়েক কোটি টাকার কাজ দেওয়ার অভিযোগ উঠে।পরবর্তীতে জাতীয় দৈনিক পক্ষকাল অনুসন্ধানে গিয়ে সেই সকল অভিযোগ সত্যতা পায়।প্রধান প্রকৌশলী(মেরিন/এমএমই শাখা)বিআইডব্লিউটিএ এর মেরিন শাখায় সহকারী প্রকৌশলী হিসাবে যোগদানের পর ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে।ধাপে ধাপে পদোন্নতির সাথে সাথে ঘুষ অনিয়ম ও দুর্নীতিতে আরও পারদর্শী হয়ে উঠেন এবং ঘুষ অনিয়ম ও দুর্নীতিকে পেশা হিসাবে নিয়েছেন যাহা বিআইডব্লিউটিএ ভবনে ওপেন সিক্রেট।যদিও  সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সরকার গঠিত প্রবিধানের সাথে ঘুষ অনিয়ম ও দুর্নীতি কর্মকান্ড সাংঘর্ষিক হলেও আতাহার আলীর কাছে ওই সব থোঠাই কেয়ার এর সমান।দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আতাহার আলীর অনিয়ম দুর্নীতির নানান ফিরিস্তি। অনুসন্ধানে জানা যায় মেরিন শাখার যেই কোন দরপত্র আহবানের পর প্রতিটি ঠিকাদারি কাজে তার সিন্ডিকেটের চাহিদা মতো ঘুষ ৫% থেকে ১৫% পর্যন্ত কমিশন নিয়ে থাকেন এবং বড় বড় ঠিকাদারি কাজে ৩০ থেকে ৪০% লভ্যাংশের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে থাকেন।অন্য দিকে ঠিকাদারি কাজে কমিশনের বাণিজ্যের রফাদফা করার জন্য তাকে প্রায়ই রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন নামিদামি রেস্টুরেন্টে বৈঠক করতে দেখা যায়।এছাড়াও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও নৌ-প্রতিমন্ত্রীর এপিএস এর নাম ভাঙ্গিয়ে নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে দু’হাতে কাড়ি কাড়ি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে বিআইডব্লিউটিএ’র একাধিক সূত্র জানায়।প্রধান প্রকৌশলী (মেরিন) মোঃ আতাহার আলী সরদার এর ঘুষ কমিশন বাণিজ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ এর তালিকাভুক্ত কয়েকজন  ঠিকাদারের সাথে কথা বললে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন আতাহার আলী সরদার স্যার এমএমই শাখায় সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করার পরে ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলী দায়িত্বে আছেন এবং স্যার এর সবচেয়ে বড় গুণ হলো তিনি নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের থেকে কমিশন বাণিজ্যের টাকা অগ্রিম নিলেও কখনো বেইমানি করেন না ঠিকই দুদিন আগে আর পরে কাজ দিয়ে থাকেন! অন্য আরেকজন ঠিকাদার বলেন স্যারের অত্যন্ত পছন্দের খাবার হচ্ছে সামুদ্রিক বড় বড় মাছ,কচি ষাঁড় গরুর মাংস,পদ্মার বড় বড় ডিমওয়ালা ইলিশ মাছ এই সব স্যারকে খুশি করার জন্য বাসায় পৌঁঁছিয়ে দিয়ে আসেন কারণ স্যার ম্যাডাম খুশি তো এমএমই শাখায় কাজ পাওয়া শতভাগ নিশ্চিত! অন্য আরেকজন ঠিকাদার আক্ষেপ করে বলেন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘুষ অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স নীতি  ঘোষণা করলেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মতো এমএমই শাখার প্রধান প্রকৌশলী আতাহার আলী সাহেব সরকারের এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই নীতিকে থোড়াই কেয়ার করে ঘুষ দুর্নীতি অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের জন্য এমএমই শাখায় নিজের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের দিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন উক্ত সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব তিনি নিজেই।আতাহার আলী স্যার এর সিন্ডিকেট এতই শক্তিশালী যার কারণে ৫ ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিআইডব্লিউটিএ’র অনেক কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রধান কার্যালয় থেকে বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হলেও প্রধান প্রকৌশলী আতাহার আলী মেরিন শাখায় বহাল তবিয়তে থেকে সারা দেশে তার নিজস্ব সিন্ডিকেট সদস্যদের মাধ্যমে টেন্ডারবাজি ও পুরাতন মালামাল ক্রয় বিক্রয় ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।এই নিয়ে খোদ বিএডাব্লিউটিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।প্রশ্ন জাগে প্রধান প্রকৌশলী আতাহার আলী কি আইনের উর্ধ্বে?এহন দুর্নীতিবাজ দেশ ও জাতির শত্রু।প্রধান প্রকৌশলী আতাহার আলী সরদার(মেরিন)এর দীর্ঘদিনের অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত করা হলে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।এখানে উল্লেখ থাকে যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রতিটি ঠিকাদারি কাছে অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য ইজিপি পদ্ধতি চালু করেন কিন্তু বাংলায় একটা প্রবাদ আছে চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী ঠিক তেমনি ইজিপি পদ্ধতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কাজের গোপন (রেটকোট) তথ্য তিনি যেই সকল ঠিকাদারদের থেকে ঘুষ নিয়ে থাকেন তাদের হাতে তুলে দিয়ে থাকেন এমনকি দরপত্র আহ্বান করার আগেই নির্ধারণ করা থাকে সিন্ডিকেটের কোন কোন ঠিকাদার কাজ পাবে।এই ইজিপি কাজের বিষয় কয়েকজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করা শর্তে এই প্রতিবেদককে বলেন সাংবাদিক ভাই আমরা যতই সরকারি নিয়মকানুন মেনে দরপত্র আহ্বানের সকল শর্ত পূরণ করে এমএমই শাখায় টেন্ডার সাবমিট করি না কেন আমরা কাজ পাই না কারণ এমএমই শাখার প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আতাহার আলী সরদার স্যার এর চাহিদা মত ৫% থেকে ১৫% ঘুষ দিতে পারিনা তাই আমরা কাজ পাই না।অন্য এক প্রশ্নের জবাবে উক্ত ভবনে কয়েকজন ঠিকাদার আক্ষেপ করে বলেন ৫% থেকে ১৫% টাকা ঘুষ দেওয়ার পরে আবার যখন কাজ সম্পন্ন  করে বিল সাবমিট করি তখন আবারও তাহার চাহিদা মত ঘুষ না দিলে আমাদের কাজের বিল পাস হয় না।সাংবাদিক ভাই আমরা এই সকল অনিয়ম দুর্নীতি থেকে মুক্তি পেতে চাই। এই জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে আহ্বান জানাবো বিআইডব্লিউটিএ ভবনের দুর্নীতি বন্ধে যৌথবাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত করিয়ে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে  দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে দুর্নীতিবাজদের   বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য। এই সকল ঘুষ কমিশন বাণিজ্য ও অনিয়ম দুর্নীতির বিষয় জানতে প্রধান প্রকৌশলী (মেরিন) মোঃ আতাহার আলী সরদার এর মুঠোফোন বেশ কয়েকবার ফোন দিয়ে  ক্ষুদে বার্তা ও ই-মেইল পাঠিয়ে প্রথম দিন কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।পরবর্তীতে পরদিন তাহার বক্তব্য জানার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে দেখা/জানা যায় যে প্রতিবেদকের মুঠো নাম্বারটি তিনি ব্লক করে দিয়ে আর অধীনস্থ অফিস কলিগ ও তার নিজস্ব সিন্ডিকেট ঠিকাদার গংদের দিয়ে এই প্রতিবেদকের মুঠোফোন ফোন দিয়ে সংবাদটি প্রকাশিত না করার জন্য অনুরোধ জানান। প্রধান প্রকৌশলী আতাহার আলী সরদার’র পক্ষে সুপারিশকৃত একজন প্রতিবেদককে বলেন স্যার অল্প কয়েক মাস পর অবসরে যাবেন এই মুহূর্তে স্যারের বিরুদ্ধে সংবাদটি প্রকাশিত না করলে ভালো হয়।

প্রশ্ন জাগে,প্রধান প্রকৌশলী (মেরিন/এমএমই শাখা) আতাহার আলী সরদার চাকরি জীবনে সীমাহীন অনিয়ম-দূর্নীতি করার পরেও কি থেকে যাবেন ধরাছোঁয়ার বাইরে?



এ পাতার আরও খবর

গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী বাংলাদেশ: চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মব সংস্কৃতির পুনরুত্থান-ড. কামাল হোসেন গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী বাংলাদেশ: চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মব সংস্কৃতির পুনরুত্থান-ড. কামাল হোসেন
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তিন দলের বৈঠক: কূটনীতি না কি গোপন রাজনৈতিক সমন্বয়? পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তিন দলের বৈঠক: কূটনীতি না কি গোপন রাজনৈতিক সমন্বয়?
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: খালাসের বিরুদ্ধে আপিলের রায় ৪ সেপ্টেম্বর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: খালাসের বিরুদ্ধে আপিলের রায় ৪ সেপ্টেম্বর
বিশ্লেষণ প্রতিবেদন পাকিস্তানি সংবাদপত্রে ‘পূর্ব পাকিস্তান’ পুনরুদ্ধারের দাবি: বিশ্লেষণ প্রতিবেদন পাকিস্তানি সংবাদপত্রে ‘পূর্ব পাকিস্তান’ পুনরুদ্ধারের দাবি:
জামিন, গ্রেফতার ও প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব নিয়ে উত্তাল রাজনীতি — পদত্যাগ দাবি চার শীর্ষ কর্মকর্তার জামিন, গ্রেফতার ও প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব নিয়ে উত্তাল রাজনীতি — পদত্যাগ দাবি চার শীর্ষ কর্মকর্তার
মেহেরপুর জেলা বিএনপিতে অনিয়ম ও অনলাইন জুয়া সিন্ডিকেটের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন মেহেরপুর জেলা বিএনপিতে অনিয়ম ও অনলাইন জুয়া সিন্ডিকেটের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা: ঢাকার বাইরে এখনো মব জাস্টিস চলছে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা: ঢাকার বাইরে এখনো মব জাস্টিস চলছে
সাবেক বানিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশির পিএস রিয়াজুল হক সাগর কারাগারে সাবেক বানিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশির পিএস রিয়াজুল হক সাগর কারাগারে
চব্বিশের জুলাই-আগষ্ট গণ-অভ্যুত্থান সারাদেশে সহিংসতার ঘটনায় মামলা ১৭৩৫ চব্বিশের জুলাই-আগষ্ট গণ-অভ্যুত্থান সারাদেশে সহিংসতার ঘটনায় মামলা ১৭৩৫

আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)