<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/cloud/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	>

<channel>
	<title>Daily Pokkhokal</title>
	<link>https://www.dailypokkhokal.com</link>
	<description></description>
	<pubDate>Fri, 19 Jun 2026 14:45:45 +0000</pubDate>
	<generator>http://dotsilicon.com?v=19</generator>
	<language>en</language>
			<item>
		<title>চাকরির নয় বছরে কোটিপতি রাজউকের ইমারত পরিদর্শক মনিরুজ্জামান</title>
		<link>https://www.dailypokkhokal.com/?p=15332</link>
		<comments>https://www.dailypokkhokal.com/?p=15332#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 30 Nov 1999 00:00:00 +0000</pubDate>
		<dc:creator>pokkhokal</dc:creator>
		
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>

		<category><![CDATA[অর্থনীতি]]></category>

		<category><![CDATA[প্রধান খবর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">https://www.dailypokkhokal.com/?p=15332</guid>
		<description><![CDATA[<span class="feedimg"><img oncontextmenu="return false;" src="https://www.dailypokkhokal.com/cloud/archives/2026/06/img-20260615-wa0004-thumbnail.jpg" alt="" /></span>নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ইমারত পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ভবন মালিকদের হয়রানির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১০ম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা হিসেবে ২০১৮ সালে চাকরিতে যোগদানের পর মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের ...]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>নিজস্ব প্রতিবেদকঃ</p>
<p><img src="https://www.dailypokkhokal.com/cloud/archives/2026/06/img-20260615-wa0004-thumbnail.jpg" alt="---" /></p>
<p>রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ইমারত পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ভবন মালিকদের হয়রানির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১০ম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা হিসেবে ২০১৮ সালে চাকরিতে যোগদানের পর মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।</p>
<p>অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর উত্তরা, মিরপুর, মহাখালী, বাংলামটরসহ বিভিন্ন এলাকায় মনিরুজ্জামান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক ফ্ল্যাট, জমি এবং অন্যান্য সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উত্তরা সেক্টর-১৭-এর রয়েল টাওয়ারে একটি ১,৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, একই এলাকায় পলিয়ানথাস সেতু প্রকল্পে আরেকটি ফ্ল্যাট, তুরাগের বাদলদি হাইটসে একটি ফ্ল্যাট, মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকায় একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং মহাখালীর ফলকন টাওয়ারে একটি ফ্ল্যাটের মালিকানা রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।</p>
<p>এ ছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাউপাড়া মৌজায় প্রায় ২৫০ শতাংশ জমির মালিকানার তথ্য পাওয়া গেছে, যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। নিজ জেলা পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় তার, তার স্ত্রী এবং স্বজনদের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি ও সম্পদ থাকার অভিযোগও উঠেছে।</p>
<p>অভিযোগ রয়েছে, মনিরুজ্জামানের স্ত্রী কানিজ জাহানের নামে বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমি রয়েছে। ওই জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়ার পর নির্মাণকাজও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।</p>
<p>এদিকে রাজধানীর বাংলামটর এলাকার একটি বহুতল ভবনে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে বর্তমানে মনিরুজ্জামান বসবাস করছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি চাকরিতে স্বল্প সময়ের মধ্যে তার নামে ও বেনামে গড়ে ওঠা সম্পদের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকারও বেশি।</p>
<p>একাধিক সূত্রের অভিযোগ, দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন ভবন মালিককে নোটিশ প্রদানকে কেন্দ্র করে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, নোটিশ প্রত্যাহার বা প্রশাসনিক জটিলতা এড়ানোর আশ্বাস দিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ দাবি করা হতো। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মনিরুজ্জামানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।</p>
<p>রাজউকের বিভিন্ন জোনে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ বহুবার উঠেছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে। অতীতে গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও সেসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।</p>
<p>অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করেও তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রভাব বিস্তার করেছেন। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।</p>
<p>এদিকে রাজউকের ১৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সহকারী পরিচালক মো. নুর আলম সিদ্দিকীকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।</p>
<p>সূত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক অভিযোগপত্র জমা পড়েছে। একই সঙ্গে রাজউকের প্রশাসন বিভাগ থেকেও অভিযোগগুলো যাচাই করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।</p>
<p>এ বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজউকের অবস্থান স্পষ্ট। দুদক অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে চার্জশিট দিলে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আমরা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি।”</p>
<p>তিনি আরও বলেন, “অভিযোগ যে কারও বিরুদ্ধে থাকতে পারে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। অনেক সময় ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেও অভিযোগ উত্থাপিত হয়।”</p>
<p>দুদক সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সম্পদের উৎস, ক্রয়মূল্য, ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেন, ভূমি রেকর্ড এবং মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।</p>
<p>অন্যদিকে, উত্তরা, মিরপুর ও মহাখালী এলাকার কয়েকজন ভবন মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, নোটিশ সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হতো। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায় নির্ধারণের জন্য তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।</p>
<p>সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তা স্বল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন—এমন অভিযোগ যদি তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা কেবল ব্যক্তিগত অনিয়ম নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও সুশাসনের প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসবে। এখন দুদকের চলমান তদন্তই নির্ধারণ করবে অভিযোগগুলোর বাস্তবতা কতটুকু।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>https://www.dailypokkhokal.com/?feed=rss2&amp;p=15332</wfw:commentRss>
		</item>
		<item>
		<title>সাব-রেজিস্টার মাইকেলের হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ</title>
		<link>https://www.dailypokkhokal.com/?p=15330</link>
		<comments>https://www.dailypokkhokal.com/?p=15330#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 30 Nov 1999 00:00:00 +0000</pubDate>
		<dc:creator>pokkhokal</dc:creator>
		
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>

		<category><![CDATA[অর্থনীতি]]></category>

		<category><![CDATA[প্রধান খবর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">https://www.dailypokkhokal.com/?p=15330</guid>
		<description><![CDATA[<span class="feedimg"><img oncontextmenu="return false;" src="https://www.dailypokkhokal.com/cloud/archives/2026/06/img-20260616-wa0002-thumbnail.jpg" alt="" /></span>বিশেষ প্রতিনিধিঃ
সাব রেজিস্টার বদলি করে শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে যখন মাইকেল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তোরজোড় চলছে দুদকে, তখন সেই চক্রের মূলহোতা অভিযুক্ত খিলগাঁওয়ের সাব রেজিস্টার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহর অবৈধ সম্পদের পাহাড়ের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। তিনি অর্জন করেছেন প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার আফতাব নগরেই রয়েছে মাইকেলের ...]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>বিশেষ প্রতিনিধিঃ<img src="https://www.dailypokkhokal.com/cloud/archives/2026/06/img-20260616-wa0002-thumbnail.jpg" alt="---" /></p>
<p>সাব রেজিস্টার বদলি করে শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে যখন মাইকেল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তোরজোড় চলছে দুদকে, তখন সেই চক্রের মূলহোতা অভিযুক্ত খিলগাঁওয়ের সাব রেজিস্টার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহর অবৈধ সম্পদের পাহাড়ের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। তিনি অর্জন করেছেন প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি।</p>
<p>খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার আফতাব নগরেই রয়েছে মাইকেলের বিলাস বহুল ভবনে ২৯ টি ফ্ল্যাট। গুলশান-১ এর ৭ নং রোডের ৭ নং কোহিনুর টাওয়ারে তার বর্তমান আবাস্থল । এখানে ২ টি ফ্লোর নিয়ে ডুপ্লেক্স করে রাজকীয় জীবন তার। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ব্লক এ ২৭ নম্বর বাড়ি। গুলশান সার্কেল ১ প্লট ৩৭,৩৯,৪১  এবং ব্লক ই এর ৬ নম্বর রোডের ৩০১/এ ১০ কাঠার পুরো প্লটটি স্ত্রীর বড় ভাইয়ের নামে কেনা। গুলশান ১ এর ৭ নম্বর রোডের ৩ নম্বর শখিনা নামের বিলাশবহুল বাড়িটির তৃতীয় চতুর্থ তলায় ২৫০০ স্কয়ার ফিটের দুটি বিলাশবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে যার প্রতিটি ফ্ল্যাটের মুল্য কমপক্ষে ১৫ কোটি টাকা। গুলশান-১ এর ৪ নম্বর সড়কের ৪বি, গুলশান-১ এর স্টার সেন্টারে বাণিজ্যক স্পেস, পূর্বাচল মডেল টাউনের মা মহল,  সেক্টর ১১৩ এর, রোড ১০৬, প্লটি তার শ্যালকের নামে। গুলশান-১ এর ৩৩ নম্বর রোডের ৬ নম্বর হাউজে রয়েছে ১০ কোটি টাকা মূল্যের ২০০০ বর্গফুট এর ২টি ফ্ল্যাট। ৪০/২ নর্থ এভিনিউ গুলশানে তার ৩টি ফ্ল্যাটের নির্মাণ কাজ চলমান। গ্রিন ভিউ এপার্টমেন্ট, এইচ#৩৯, রোড-২৪ লেক সার্কেল গুলশান-১ এ ২৫০০ বর্গ ফুটের একটি ফ্ল্যাট যার মূল্য প্রায় ১২ কোটিরও বেশি। তার স্ত্রী জান্নাত নীলার নামে রয়েছে প্লট ১৪৩, ব্লক এইচ এর পুরো প্লট যার নাম্বার ৬। নিকেতন এ/১৩৩, ব্লক এ, রোড-৩ ১৮০০ স্কয়ার ফিটের ১ টি ফ্ল্যাট , হাতিরঝিল এর কাছে ৪৮/এ তে রয়েছে ১৫৫০ স্কয়ার ফিট এর ফ্ল্যাট যা তার শ্যালকের নামে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাদেকপুর গ্রামে ইটের ভাটা, রুপগঞ্জ নারায়নগঞ্জের ইসাপুর বাজার আবাসিক প্রকল্পের জলসিড়ি আবাসন প্রকল্পে রয়েছে ব্লক ডিতে ৫ কাঠার দুটি, ব্লক এতে ১০ কাঠার একটি যা তার বোনের নামে রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। বড় মগবাজারের ৭০৪/১ নম্বর বাড়িতে ফ্ল্যাট, পান্থপথের কাঠাল বাগানের ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ২৪/সিতে রয়েছে ২টি ফ্লোর প্রতিটি ফ্লোরে রয়েছে তিনটি করে ইউনিট, যেখানে একটি ফ্লোর রেখেছেন নিজের চিত্তবিনোদনের জন্য। বনশ্রীর জে ব্লকের ৩ নম্বর রোডের ১০ নম্বর বাড়ির বি ইউনিটে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন ভাতিজার নামে। বনশ্রীর ব্লক বি এর হোসাইন মঞ্জিলের ৫ম তলায় বোনের স্বামীর নামে কেনা দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা যায়। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার খাদিজা ভিলা নামের আবাসিক ভবনেও রয়েছে তার একটি ফ্ল্যাট নিশ্চিত হওয়া গেছে।  মোহাম্মদপুর ব্লক ডিতে আজম রোডের  ৮৮ নম্বর বাড়িতে ১৭০০ স্কয়ার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া টাঙ্গাইল সদরের পশ্চিম আকোরটাকুর পাড়ার ব্লক এ তে ১৫ নম্বর প্লটে জায়গা কিনেছেন। নিজ জেলার খাস নগর (পূর্ব পাড়া ) বাঞ্ছারামপুরে কৃষি জমি ১০০বিঘা। লাহিড়ী, রসুল্লাবাদও নবীনগরে রয়েছে ৩০ বিঘা কৃষি জমি, মাছের ঘের ও খামার।তার নিজ গ্রাম খাল্লাসহ বাড্ডা সলিমগঞ্জ, মাঝিয়ারার জীবন নগরে ২০ একর কৃষি জমিসহ মাছের ঘের ও খামার রয়েছে।</p>
<p>এছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নামে বেনামে ধানমণ্ডি , গুলশান, নিকুঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে তার কোটি কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট ও প্লট। আফতাব নগরে নিজের আলাদা বলয় থাকার কারণে বের করা যাচ্ছে না নির্দিষ্ট আরও ফ্ল্যাট এর হোল্ডিং নম্বর। তবে মাইকেলের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন জানান, এক আফতাব নগরেই তার রয়েছে ২৯টি ফ্ল্যাট, বেশিরভাগ ফ্ল্যাটর মূল্য প্রতি ৫ কোটি টাকার কাছাকাছি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফ্যাসিস্ট আমলে নন ক্যাডার থেকে সরাসরি সাব-রেজিস্টার পদে নিয়োগ পাওয়া আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ দলকে ব্যবহার করে ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে বিপুল অর্থের মালিক হন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সাব-রেজিস্টার বদলিতেই ঘুষ লেনদেন করে বেশ সমালোচনায় আসেন দেশজুড়ে। এরপর বর্তমানে বিএনপির নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে ব্যাপক চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বরে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবার নিয়োগ দেয়া ২৮তম বিসিএসের নন ক্যাডার থেকে সরাসরি সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ পান । তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবে প্রথমবার দলীয় লোকদের নন ক্যাডারে সাব রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ বাগিয়ে নেন তিনি।শুধু নিজের নয়, চাকরির শর্ত পূরণ না করেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ ছাড়াই বিসিএস ক্যাডার হিসেবে নিয়োগ পান ৯৫ জন। যার মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন মাইকেলের আপন বোন আসমাউল হুসনা লিজা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে চিহ্নিত হওয়ার পরও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দপ্তরে বহাল রয়েছেন তিনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাঞ্ছারামপুরের খাল্লা গ্রামে তার বাড়ি। ঐ এলাকার এমপি ও তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম তাজের সঙ্গে পারিবারিক সখ্যতা থেকে বাগিয়ে নেন দুই ভাই বোনের চাকরি। শুধু চাকরি নয়, চাকরিতে যোগদানের পরে দুজনেই দেশের লোভনীয় পোষ্টিংও বাগিয়ে নেন। সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সাথে হাত মিলিয়ে বদলি বাণিজ্যে সফলতা পেয়ে মাইকেল মহিউদ্দিন হয়ে যান সাব-রেজিস্ট্রার জগতের গডফাদার। বিভিন্ন সময়ে আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর সাথে শুরু করেন সাব-রেজিস্টারের বদলী বাণিজ্য। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সাবেক আইন মন্ত্রী আনিসুল হকের বাড়িও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হওয়ায় সহজেই গড়ে তোলেন বদলী বাণিজ্যের সাম্রাজ্য । এতে করে নিজের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে টাকার বিনিময়ে দেশের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের সাথে গড়ে তুলেন সখ্যতা । সর্বক্ষেত্রে তার অবৈধ অর্থ উপার্জনের শেল্টার দাতা ছিলেন আনিসুল হক। তিনি স্বেচ্ছায় আওয়ামী ধরনের সাব-রেজিস্টার হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। নিজের অবস্থান ঠিক রাখতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উচ্চ পর্যায়ের এক দুই জন সাংবাদিকদের সঙ্গে করেন সখ্যতা। এতে সরকারের কোন পর্যায়ের লোকজন তার দিকে আঙ্গুল তুললেই সাংবাদিকদের মাধ্যমে হয়রানি শুরু করেন। সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে রাখেন বিভিন্ন সাব-রেজিস্টারদের। অবৈধ সম্পদের বিষয়ে জানতে মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। উল্লেখ, এর আগে গত ১৩ এপ্রিল দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর প্রধান কার্যালয়ে রমজান- মাইকেল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদকে অভিযোগ দিয়েছে রাফসান আল আলভী নামের সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। এরপর থেকে সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সেখানে তিনি সাব- রেজিস্ট্রার বদলিতে শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদক চেয়ারম্যানের নিকট অনুরোধ জানান।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>https://www.dailypokkhokal.com/?feed=rss2&amp;p=15330</wfw:commentRss>
		</item>
		<item>
		<title>ডিজি বদলি, কিন্তু বিতর্কের অবসান কোথায়?</title>
		<link>https://www.dailypokkhokal.com/?p=15327</link>
		<comments>https://www.dailypokkhokal.com/?p=15327#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 30 Nov 1999 00:00:00 +0000</pubDate>
		<dc:creator>pokkhokal</dc:creator>
		
		<category><![CDATA[প্রধান খবর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">https://www.dailypokkhokal.com/?p=15327</guid>
		<description><![CDATA[<span class="feedimg"><img oncontextmenu="return false;" src="https://www.dailypokkhokal.com/cloud/archives/2026/06/img-20260614-wa0001-thumbnail.jpg" alt="" /></span>নিজস্ব প্রতিনিধি: 
বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বোরি) দেশের সামুদ্রিক গবেষণা, সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও নীল অর্থনীতি বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে গবেষণা, সামুদ্রিক সম্পদের সম্ভাবনা অনুসন্ধান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন এবং সমুদ্রভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকার কথা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, গত কয়েক বছরে গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক অর্জনের চেয়ে প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব, প্রকল্প ...]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>নিজস্ব প্রতিনিধি: <img src="https://www.dailypokkhokal.com/cloud/archives/2026/06/img-20260614-wa0001-thumbnail.jpg" alt="---" /></p>
<p>বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বোরি) দেশের সামুদ্রিক গবেষণা, সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও নীল অর্থনীতি বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে গবেষণা, সামুদ্রিক সম্পদের সম্ভাবনা অনুসন্ধান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন এবং সমুদ্রভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকার কথা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, গত কয়েক বছরে গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক অর্জনের চেয়ে প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, ক্রয় কার্যক্রম, ক্ষমতার প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়েই বেশি আলোচনায় এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।</p>
<p>সম্প্রতি বোরির মহাপরিচালক কমোডর মো. মিনারুল হককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকেই মনে করেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিতর্ক ও অস্থিরতার একটি পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। মহাপরিচালকের বদলির পরও থামেনি অভিযোগ, কমেনি উত্তেজনা; বরং নতুন করে শুরু হয়েছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের লড়াই।</p>
<p>প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশের অভিযোগ, মহাপরিচালকের বদলি কেবল দৃশ্যমান প্রশাসনিক পরিবর্তন মাত্র। অথচ দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প বাস্তবায়ন, ক্রয় কার্যক্রম, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে যাদের নাম ঘুরেফিরে এসেছে, তাদের ভূমিকা এখনও কার্যকর রয়েছে। ফলে ব্যক্তি পরিবর্তন হলেও ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটেনি বলেই মনে করছেন তারা।</p>
<p>সূত্রমতে, গত কয়েক মাসে বোরিকে ঘিরে প্রকাশিত একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক ভয়ভীতি, সরকারি সম্পদের ব্যবহার, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমিত গোষ্ঠীর প্রভাবের মতো নানা বিষয় উঠে আসে। এসব প্রতিবেদনের পরই বিষয়গুলো মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনায় আসে এবং শেষ পর্যন্ত মহাপরিচালকের বদলির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে।</p>
<p>তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের দাবি, আলোচিত ঘটনাগুলোর গভীরে গেলে দেখা যাবে, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, ক্রয় কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় সক্রিয় ছিল। তাদের মতে, সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রউফ তালুকদার এবং সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার জাকারিয়াকে ঘিরে যে প্রভাববলয়ের কথা দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা হয়ে আসছে, সেটি নিয়েই এখন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।</p>
<p>নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বোরির দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্প, বিভিন্ন ক্রয় কার্যক্রম, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে একই ব্যক্তিদের প্রভাব বারবার দৃশ্যমান হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রকল্পের আর্থিক ও প্রশাসনিক কাঠামো এমনভাবে পরিচালিত হয়েছে যাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সীমিত কয়েকজনের নিয়ন্ত্রণেই থাকে।</p>
<p>অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদিত জনবল কাঠামো থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদ শূন্য রাখা হয়েছে। নতুন নিয়োগ হলে বিদ্যমান প্রভাববলয়ের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়া কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোয়নি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা। যদিও এ অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন, তবুও বিষয়টি এখন প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।</p>
<p>বোরির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, মহাপরিচালকের বদলির পর প্রকল্প ও প্রশাসনিক নথিপত্র পুনর্মূল্যায়নের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় একটি অংশের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। কারণ নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করলে গত কয়েক বছরের প্রকল্প ব্যয়, ক্রয় কার্যক্রম, বিল-ভাউচার, যানবাহন ব্যবহার, জ্বালানি খরচ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নতুন করে পর্যালোচনার সুযোগ সৃষ্টি হবে।</p>
<p>এমন প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি কয়েকজন কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একটি সূত্রের দাবি, এসব অভিযোগের অনেকগুলোই এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা মতপার্থক্যকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।</p>
<p>যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাদের বিষয়ে সহকর্মীদের একটি অংশ আবার ভিন্ন মত পোষণ করেন। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা, বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ, প্রকাশনা এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। প্রশাসনিক মতবিরোধ বা নীতিগত দ্বন্দ্ব থাকতেই পারে, কিন্তু কোনো স্বাধীন তদন্ত ছাড়া কাউকে দায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে না।</p>
<p>এদিকে বোরির অভ্যন্তরে এখন সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে,  মহাপরিচালকের বদলির পরও কেন বিতর্ক থামছে না? কেন প্রশাসনিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে অভিযোগের স্রোত তৈরি হলো? এবং কেন একই সময়ে প্রকল্প ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত কিছু নামকে ঘিরে প্রশ্নগুলো আরও জোরালো হয়ে উঠছে?</p>
<p>সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ব্যক্তি নয়, পুরো ব্যবস্থাকে তদন্তের আওতায় আনতে হবে। গত কয়েক বছরের প্রকল্প বাস্তবায়ন, টেন্ডার কার্যক্রম, ক্রয় প্রক্রিয়া, নিয়োগ ব্যবস্থা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, যানবাহন ব্যবহার এবং আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন অডিট ছাড়া প্রকৃত চিত্র উদঘাটন করা সম্ভব নয়।</p>
<p>অভিযোগ রয়েছে, সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রউফ তালুকদার মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য এমন একটি আবেদনপত্র প্রস্তুত করেছেন, যেখানে বিদায়ী প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তাকে চলমান প্রকল্পে বহাল রাখার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে।</p>
<p>সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, নতুন প্রশাসনের অধীনে প্রকল্পের নথিপত্র, আর্থিক হিসাব, ক্রয় কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পুনঃমূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হলে গত কয়েক বছরের বহু অজানা তথ্য সামনে চলে আসতে পারে। আর সে কারণেই বর্তমানে কিছু কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ ছড়িয়ে দিয়ে ভিন্নখাতে আলোচনার মোড় ঘোরানোর চেষ্টা চলছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।</p>
<p>বোরির ভেতরের একাধিক সূত্রের দাবি, বর্তমানে যেসব গুরুতর অভিযোগ বিভিন্ন মহলে প্রচার করা হচ্ছে, তার অনেকগুলোর সঙ্গেই কোনো প্রামাণ্য তদন্ত প্রতিবেদন, নিরীক্ষা প্রতিবেদন কিংবা আদালতের সিদ্ধান্ত যুক্ত নেই। বরং দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত টেন্ডার কার্যক্রম, প্রকল্প ব্যয়, যানবাহন ব্যবহার, জ্বালানি খরচ, বিল-ভাউচার অনুমোদন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে যেসব প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, সেগুলো আড়াল করতেই নতুন করে ‘দোষী খোঁজার অভিযান’ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।</p>
<p>নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, “যাদের বিরুদ্ধে প্রকৃত অনুসন্ধান হওয়া প্রয়োজন, তারাই এখন অন্যদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে নিজেদের দায়মুক্তির পথ তৈরি করতে চাইছে।”</p>
<p>এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>https://www.dailypokkhokal.com/?feed=rss2&amp;p=15327</wfw:commentRss>
		</item>
		<item>
		<title>দুবাইয়ে সাবেক আই জি পি বেঞ্জির গ্রেপ্তার</title>
		<link>https://www.dailypokkhokal.com/?p=15325</link>
		<comments>https://www.dailypokkhokal.com/?p=15325#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 30 Nov 1999 00:00:00 +0000</pubDate>
		<dc:creator>pokkhokal</dc:creator>
		
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>

		<category><![CDATA[প্রধান খবর]]></category>

		<category><![CDATA[ব্রেকিং নিউজ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">https://www.dailypokkhokal.com/?p=15325</guid>
		<description><![CDATA[<span class="feedimg"><img oncontextmenu="return false;" src="https://www.dailypokkhokal.com/cloud/archives/2026/06/img-20260614-wa0004-thumbnail.jpg" alt="" /></span>মাইকেল :
দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ তাকে আটক করে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জানা গেছে, গত ১২ জুন দুবাই কর্তৃপক্ষ ...]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>মাইকেল :<img src="https://www.dailypokkhokal.com/cloud/archives/2026/06/img-20260614-wa0004-thumbnail.jpg" alt="---" /></p>
<p>দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ তাকে আটক করে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।</p>
<p>রোববার (১৪ জুন) বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জানা গেছে, গত ১২ জুন দুবাই কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সরকারকে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়।</p>
<p>বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার, সম্পদের তথ্য গোপনসহ একাধিক অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তে তার ও পরিবারের নামে দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য উঠে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় ইন্টারপোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়।</p>
<p>এর আগে ঢাকার আদালত তাকে পলাতক ঘোষণা করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়।</p>
<p>এদিকে জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার ইতোমধ্যে কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) আবেদন পাঠাবে।</p>
<p>তবে এখন পর্যন্ত দুবাই পুলিশ বা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তার-পরবর্তী বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>https://www.dailypokkhokal.com/?feed=rss2&amp;p=15325</wfw:commentRss>
		</item>
		<item>
		<title>রেল খেকো &#8216;ম্যাক্স&#8217; গ্রুপের একচেটিয়া আধিপত্য রুখবে কে</title>
		<link>https://www.dailypokkhokal.com/?p=15322</link>
		<comments>https://www.dailypokkhokal.com/?p=15322#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 30 Nov 1999 00:00:00 +0000</pubDate>
		<dc:creator>pokkhokal</dc:creator>
		
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>

		<category><![CDATA[অর্থনীতি]]></category>

		<category><![CDATA[প্রধান খবর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">https://www.dailypokkhokal.com/?p=15322</guid>
		<description><![CDATA[<span class="feedimg"><img oncontextmenu="return false;" src="https://www.dailypokkhokal.com/cloud/archives/2026/06/img-20260613-wa0003-thumbnail.jpg" alt="" /></span>বিশেষ প্রতিনিধিঃ

২০১১ সালে আওয়ামী লীগের দুই প্রভাবশালী নেতার আশীর্বাদে রেলের নির্মাণ খাতে আবির্ভূত হয় এক টেন্ডার ডন। মাত্র ৫ থেকে ১০ কোটি টাকার ছোট কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একের পর এক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাগিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। এখন পর্যন্ত রেল খাতের অন্তত ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প পেয়েছে এই অখ্যাত ঠিকাদারি ...]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>বিশেষ প্রতিনিধিঃ</p>
<p><img src="https://www.dailypokkhokal.com/cloud/archives/2026/06/img-20260613-wa0003-thumbnail.jpg" alt="---" /></p>
<p>২০১১ সালে আওয়ামী লীগের দুই প্রভাবশালী নেতার আশীর্বাদে রেলের নির্মাণ খাতে আবির্ভূত হয় এক টেন্ডার ডন। মাত্র ৫ থেকে ১০ কোটি টাকার ছোট কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একের পর এক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাগিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। এখন পর্যন্ত রেল খাতের অন্তত ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প পেয়েছে এই অখ্যাত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। তবে এসব প্রকল্পের বড় অংশ লুটপাট হয়েছে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে, আর বিপুল পরিমাণ অর্থ চলে গেছে দেশ-বিদেশের সুবিধাভোগীদের হাতে।</p>
<p>২০০৯ সালে ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ছিল একেবারেই দুর্বল অবস্থায়। তখন তারা ৫ থেকে ১০ কোটি টাকার ছোট প্রকল্প করত, তাও টেনেটুনে শেষ করতে হতো। ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর করে চলত তাদের কার্যক্রম। তখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ অভিজ্ঞতা ছিল মাত্র ১৬.৭০ কোটি টাকার একটি রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প, যার কাজের মানও ছিল নিম্নমানের।</p>
<p>পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও মির্জা আজমের সহায়তায় ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার রাতারাতি বদলে যায়। দরপত্রে ১৫ নম্বরে থাকার পরও রাজনৈতিক সুপারিশের কারণে তারা ২০৯ কোটি টাকার চিনকি আস্তানা-আশুগঞ্জ রিনিউয়াল রেল প্রকল্পের কাজ পেয়ে যায়। প্রকল্পটি পেতেও তারা জালিয়াতির আশ্রয় নেয়। মাত্র ১৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের সঙ্গে আরও দুটি চলমান প্রকল্প—৫০ ও ৯৬ কোটি টাকার—যোগ করে দরপত্রে অংশ নেয়। পরবর্তীতে মন্ত্রীর লিখিত সুপারিশে তারা ওই প্রকল্পের কাজ নিশ্চিত করে।</p>
<p>নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার দীর্ঘদিন ধরে জালিয়াতি ও অনিয়মের মাধ্যমে রেলের নির্মাণ খাত নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।মূলত সেখান থেকেই ম্যাক্সের উত্থান শুরু। তারপরে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। শেখ হাসিনা সরকারের নির্মাণ খাতের মাফিয়া খ্যাত দুই প্রভাবশালী নেতার সরাসরি হস্তক্ষেপে রেলের একের পর এক বড় বড় প্রকল্পের কাজ পেতে থাকে ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার। এই দুই নেতার প্রভাব খাটিয়ে রেলের সব প্রকল্প একাই গিলে খেয়েছে গ্রুপটি। শুধু রেল নয়, গত ১৫ বছরে উন্নয়ন খাতের অন্তত ৬০ হাজার কোটি টাকার কাজ করেছে ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার। যা দেশের উন্নয়ন খাতের এক নজিরবিহীন ইতিহাস।</p>
<p>রেল খাতে ম্যাক্স গ্রুপের একচেটিয়া আধিপত্য!</p>
<p>সরকার পরিবর্তনের পরও রেল খাতের সিন্ডিকেট ধরে রেখেছে ‘কালো বিড়াল’ খ্যাত ম্যাক্স গ্রুপ। চিনকি আস্তানা রেল প্রকল্পের পর প্রতিষ্ঠানটি কাশিয়ানি-গোপালগঞ্জ রেল প্রকল্পের একাধিক অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নের কাজ পেয়েছে। বর্তমানে রেলের আরও দুটি বড় প্রকল্পেও কাজ করছে এই প্রতিষ্ঠান।প্রশ্ন ওঠে, পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই কীভাবে ২০৯ কোটি টাকার চিনকি আস্তানা রেল প্রকল্প, ২০১১ সালে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার লাকসাম-চিনকি আস্তানা প্রকল্প, ২০১৫ সালে ৬ হাজার কোটি টাকার আখাউড়া-লাকসাম রেলপথ প্রকল্প এবং ২০১৬ সালে ১৮ হাজার কোটি টাকার দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ পেলো ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার? মাত্র ৪ নম্বর গ্রেডের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হয়েও তারা কীভাবে এসব বৃহৎ প্রকল্প বাগিয়ে নিলো?কম অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও অল্প সময়ে যোগাযোগ খাতে মাফিয়া হয়ে ওঠার পেছনে কারা ছিল? কোন ক্ষমতার জোরে একচেটিয়া আধিপত্য চালিয়েছে ম্যাক্স? ১৬ কোটি টাকার কাজের যোগ্যতা থাকা একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে ১৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প পেলো—তা নিয়ে রেল খাতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তবে দরপত্রে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সংশ্লিষ্টতা থাকায় কেউ ম্যাক্সের এই অস্বাভাবিক উত্থান নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলার সাহস পাননি। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ম্যাক্স গ্রুপের জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং এর পেছনে থাকা শক্তিশালী গোষ্ঠীর ভূমিকা।</p>
<p>ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মালিকের ক্ষমতার যোগসূত্র ও রেল প্রকল্প দখল!</p>
<p>অনুসন্ধানে জানা গেছে, ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মালিক ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর নিজেকে বিগত সরকারের অন্যতম ডোনার হিসেবে পরিচয় দিতেন। বিভিন্ন সময় সরকারের পক্ষে কথিত বিশিষ্ট নাগরিকদের দেওয়া একাধিক বিবৃতিতেও তার স্বাক্ষর ছিল। সরকার পতনের পর দুর্নীতির দায়ে তিনি কারাভোগ করেছেন, এখনো তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চলমান।আগের সরকারের সময় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া ঠিকাদারদের একজন ছিলেন আলমগীর। রেলওয়ের পাশাপাশি সম্প্রতি ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পেও ২ হাজার ৩২০ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার। প্রতিষ্ঠানটির মালিক গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মির্জা আজমের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এই সম্পর্কের সুবাদে রেলের বিভিন্ন প্রকল্পে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন তিনি।</p>
<p>দরপত্রের যোগ্যতার মাপকাঠিতে পিছিয়ে থাকলেও একের পর এক রেল প্রকল্পের কাজ পেয়েছে ম্যাক্স লিমিটেড। প্রায় প্রতিযোগিতাহীনভাবে রেলের ৯০ শতাংশ প্রকল্পের টেন্ডার পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। রেল সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, মূলত ৩০ শতাংশ কমিশনের বিনিময়েই এই প্রকল্পের কাজ নিশ্চিত হতো।একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, গত ১৫ বছরে রেলের ৭০ হাজার কোটি টাকার কাজ একাই নিয়ন্ত্রণ করেছেন মির্জা আজম। তিনি একটি বড় সিন্ডিকেটের হয়ে কাজ করতেন এবং মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে প্রকল্প বণ্টন করতেন। সূত্র আরও জানায়, প্রকল্পগুলোর বড় অংশই নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কাছে চলে যেত, যেখানে ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মালিক আলমগীরের সরাসরি যোগসূত্র ছিল। তাই তিনি যেই প্রকল্পের কাজ চেয়েছেন, সেটিই পেয়েছেন।</p>
<p>যেভাবে প্রতারণা করেছে ম্যাক্স!</p>
<p>ঠিকাদারি বিশেষজ্ঞরা বলছেন আন্তর্জাতিক দরপত্রে জয়েন ভেঞ্চারের শর্ত মোতাবেক শুধু পার্টনার হিসেবে টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে হলে ওই প্রকল্পের মোট মূল্যের অন্তত ২৬ শতাংশ মূল্যমানের কাজ করার অতীত অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। ম্যাক্সের ২ শতাংশ কাজ করারও অভিজ্ঞতা ছিল না। অনুসন্ধানেও একই তথ্য পাওয়া গেছে, কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র বিজ্ঞপ্তির শর্তানুযায়ী দরপত্র দাখিলের সময় ম্যাক্সের দেয়া অতীত অভিজ্ঞতার স্বপক্ষে যে আইনগত পরিচয় ও কাজের কথা (লাকসাম-চিনকি আস্তানা দ্বৈত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প) উল্লেখ করেছে, তা ছিল অস্পষ্ট ও জালিয়াতিতে পরিপূর্ণ। এজন্য তারা যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছে তাতে তারা বিদেশি লিড পার্টনার চায়না রেলওয়ে মেটারিয়াল ইম্পটেন্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে মাক্স ওই কাজে অংশ নেয়ার সুযোগ করে নিয়েছে। পরে ওই কাজের পুরো অভিজ্ঞতাকেই নিজের বলে দাবি করে চালিয়ে দিয়েছেন। যা রেল খাতের একটি ভয়ঙ্কর জালিয়াতি ছিল।</p>
<p>নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলের একজন কর্মকর্তা বলেন, দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণের কাজটি মূল প্রকল্প দলিল ডিপিপি ও সংশোধিত প্রকল্প দলিলে আরডিপিপি মোতাবেক একটি একক কাজ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। যোগ্যতার মানদণ্ডে অতীত অভিজ্ঞতায় আর্থিক মূল্যমানের সীমারেখা বিবেচনায় ম্যাক্সকে ওই প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য এই একক কাজকে তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান ও মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন দুই ভাগে ভাগ করেছিলেন। যেটা লট-১ ও লট-২ প্যাকেজ নামে পরিচিত। লট-২ প্যাকেজের কাজ ম্যাক্স লিমিটেড নিয়েছিল একটি চাইনিজ ঠিকাদারের সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চার করে। বিষয়গুলো বোঝার জন্য এই লট-২ তে কাজের অতীত অভিজ্ঞতার কি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছিল সেটা দেখার জন্য অনুরোধ করেছেন এই ব্যক্তি।</p>
<p>রিকোয়ারমেন্টে যা বলা হয়েছে!</p>
<p>এই প্রকল্পের দরপত্রে অংশগ্রহণের জন্য ঠিকাদারদের অতীত অভিজ্ঞতার স্বপক্ষে বিগত ১০ বছরের মধ্যে কমপক্ষে একটি কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, যার মূল্যমান ২৭০ মিলিয়ন ডলার। যা ২২৬৮ কোটি টাকা। এবং ট্র্যাক, ব্রিজ, ইমব্যাংকমেন্ট, স্টেশন বিল্ডিং, সিগন্যালিং ও টেলিকমিউনিকেশন কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। যদি প্রতিষ্ঠানটি জয়েন্ট ভেঞ্চার করে তাহলে লিড পার্টনারের জন্য কাজের বৈশিষ্ট্য এবং মূল্যমানের ক্ষেত্রে পুরো অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এবং পার্টনারদের ক্ষেত্রেও ওইরূপ অভিজ্ঞতা ও বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে, তবে সেটা মূল্যমানের ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ থাকলেই চলবে। অর্থাৎ ২২০৮ কোটি টাকার ২৫ শতাংশ যা ৫৬৭ কোটি টাকা। ম্যাক্স যে কাজের অভিজ্ঞতার সনদ দিয়েছে, সে কাজে ম্যাক্সের আইনগত অন্তর্ভুক্তির বিষয়টা কেমন ছিল? টিএসসি’র মতামতগুলো প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমানের মাধ্যমে টেকনিক্যাল বিড ইভ্যালুয়েশন রিপোর্ট এড়িয়ে গিয়ে কীভাবে প্রভিয়াসলি কমপ্লাইড স্টাটার্সকে কমপ্লাইড করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে সেই রিপোর্ট এডিবিতে গেলে পরবর্তীতে সেই জবাব হুবহু উল্লেখ করে প্রকল্পের পরিচালক মফিজুর রহমান ম্যাক্সের জবাবকে বৈধতা দিয়ে সুপারিশসহ এডিবি’র কাছে পাঠিয়ে সর্বগ্রাসী দুর্নীতির ষোলকলা পূর্ণ করে। লাকসাম চিনকি আস্তানা দ্বৈত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে ক্রয়চুক্তি সম্পাদিত হয় সিআরএম জয়েন্ট ভেঞ্চার এসোসিয়েশনের সঙ্গে। ম্যাক্স এখানে শুধু পার্টনার। কাজের সফল সমাপ্তিতে লিড পার্টনার চায়না রেলওয়ে মেটারিয়াল ইম্পটেন্ট অ্যান্ড এক্সপোর্টকে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকল্প পরিচালক কর্তৃক অভিজ্ঞতার যে সনদ দেয়া হবে তাতে পার্টনার হিসেবে ম্যাক্সের নামও উল্লেখ থাকবে। ম্যাক্স এই অভিজ্ঞতার ক্রেডিনশিয়ালিটি পাবে জয়েন্ট ভেঞ্চার এসোসিয়েশন করার সময় ওই এসোসিয়েশনে তার অন্তর্ভুক্তির পার্সেন্ট হিসেবে।</p>
<p>পদে পদে ম্যাক্সের জালিয়াতি!</p>
<p>২০১১ সালের ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে সিআরএম জয়েন্ট ভেঞ্চার এসোসিয়েশন চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র দেড় মাস পর, ওই জয়েন্ট ভেঞ্চার এসোসিয়েশনের তিনটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ স্বাক্ষরে প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে একটি পত্র পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, তাদের জয়েন্ট ভেঞ্চারে যুক্ত দুটি চাইনিজ কোম্পানি—লিড পার্টনার চায়না রেলওয়ে মেটারিয়াল ইম্পটেন্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট এবং পার্টনার চেঙ্গু রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড—অনিবার্য কারণে চীন থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, জনশক্তি, যন্ত্রপাতি এবং অর্থ দ্রুত আনতে পারবে না। সেজন্য তাদের স্থানীয় পার্টনার ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ১০০ শতাংশ কাজ একাই সম্পন্ন করবে।পরবর্তীতে, ডিসেম্বর ২০১১-তে ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার আবারও একটি চিঠি দিয়ে দাবি করে, তাদের কাজ দ্রুত শুরু করা উচিত যাতে তারা পাঁচ মাস সময় (ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল) কাজে লাগাতে পারে। তবে, চুক্তির শর্ত অনুসারে, অংশীদারদের মধ্যে কেউ যদি তাদের অংশের কাজ করতে ব্যর্থ হয়, তবে অন্য অংশীদার তাদের বাকি কাজ শেষ করবে। এই শর্তে ম্যাক্স একাই ১০০ শতাংশ কাজ সম্পাদন করবে।এভাবে, একটি অনৈতিক ও অযৌক্তিক চুক্তির ভিত্তিতে ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার তাদের কাজ শুরু করে এবং চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এক চুক্তিতে নিশ্চিত করে যে, ম্যাক্স তাদের নিজস্ব যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জাম ব্যবহার করে পুরো প্রকল্প শেষ করবে। এর পর, ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ গ্রহণের জন্যও ম্যাক্স দাবি করে।</p>
<p>ব্যাংক জানিয়েছে, তারা ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারকে লোন দিতে প্রস্তুত থাকবে, যদি বাংলাদেশ রেলওয়ে তাদের ১০০ শতাংশ কাজ করার অনুমতি দেয়। এরপর ম্যাক্স দাবি করে, প্রকল্প শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ রেলওয়ে তাদের নামে ১০০ শতাংশ প্রতিযোগিতা সনদ ইস্যু করবে। এটি ছিল ম্যাক্সের অন্যতম বড় চাওয়া এবং কৌশল। এর মাধ্যমে, ১৬.৭ কোটি টাকার কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ১৮০০ কোটি টাকার প্রকল্পে কাজ পাওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠে।প্রশ্ন উঠেছে, যখন ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লাকসাম চিনকি আস্তানা প্রকল্পে জয়েন্ট ভেঞ্চারের মাধ্যমে কাজ পেয়েছিল, তখন কেন তারা এমন অবাস্তব প্রস্তাবনা উপস্থাপন করল, যেখানে চীনা কোম্পানিগুলো বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ম্যাক্সকে কাজ করার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। এটি ছিল ম্যাক্সের পূর্ব পরিকল্পিত কৌশল, যা পুরোপুরি ক্রয় আইন, বিধি এবং চুক্তির শর্তবহির্ভূত ছিল।</p>
<p>মূলত, বাংলাদেশ রেলওয়ে কাজ পাওয়ার আগে লিড পার্টনার হিসেবে চীনা রেলওয়ে মেটারিয়াল ইম্পটেন্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট এবং চেঙ্গু রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের যোগ্যতা যাচাই করে। কিন্তু ম্যাক্সের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবনা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল না। ম্যাক্সের অভিজ্ঞতার সনদ পেতে এই ধরনের জালিয়াতি করা হয়েছিল, কারণ ১৬ কোটি টাকার অভিজ্ঞতা থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকার কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পে কাজ দেওয়া সম্ভব ছিল না।</p>
<p>যেভাবে অভিজ্ঞতা সনদ নেয় ম্যাক্স!</p>
<p>ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার দাবি করেছে, চীনা রেলওয়ে মেটারিয়াল ইম্পটেন্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট এবং চেঙ্গু রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড তাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, জনশক্তি ও যন্ত্রপাতি দ্রুত দেশে আনতে পারবে না। তবে, প্রকল্পের প্রধান উপাদান সরবরাহ করেছে লিড পার্টনার চীনা রেলওয়ে মেটারিয়াল ইম্পটেন্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট। প্রকল্পের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও প্রকল্প পরিচালক নিজে এই সার্টিফিকেট নিশ্চিত করেছেন, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে লিড পার্টনার চীনা রেলওয়ে সময়মতো সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে।</p>
<p>তাহলে, ম্যাক্সের প্রস্তাবিত দাবি ছিল মিথ্যা। চীনা কোম্পানিগুলো নিজেই রেলপথ নির্মাণের মূল উপাদান সরবরাহ করেছিল, যার পরিমাণ ছিল ৭,০০০ টন। কিন্তু তারপরও, ম্যাক্স কেন তাদের অনুকূলে অভিজ্ঞতার সনদ চেয়েছিল, যখন প্রকৃতপক্ষে চীনা কোম্পানিরাই সরাসরি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিল? এর মূল উদ্দেশ্য ছিল যাতে ম্যাক্স ১৮,০০০ কোটি টাকার কক্সবাজার প্রকল্পে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ করতে পারে।লাকসাম চিনকি আস্তানা দ্বৈত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে কাজ পেয়েছিল চীনা কোম্পানিরা, এবং তারা যৌথভাবে কাজ সম্পন্ন করেছিল। অভিজ্ঞতার সনদ তখন তিনটি কোম্পানির নামে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ম্যাক্সের নামে সনদ জারি করা হয়েছিল। চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও প্রকল্প পরিচালক তাদের অনুমোদনে এমন শব্দগত ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়েছিল, যা এই প্রতিবেদকের কাছে প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।</p>
<p>এ ছাড়া ২০১১ থেকে ২০১৬ সালে হওয়া ক্রয় চুক্তিতে কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন তৎকালীন মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন, সাগর কৃষ্ণ চক্রবর্তী, নাজনীনা আরা কেয়া, লিয়াকত আলী খান, মফিজুর রহমান ও আবুল কালাম চৌধুরী। অনিয়মের বিষয়ে জানতে চেয়ে ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কী অভিযোগ তা জানতে চান। বিস্তারিত জানানোর পরে লিখিত আকারে বক্তব্য দেবেন বলে জানান ম্যাক্সের মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা ইব্রাহিম খালিদ পলাশ। পরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ম্যাক্সের কেউ আর সাড়া দেননি।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>https://www.dailypokkhokal.com/?feed=rss2&amp;p=15322</wfw:commentRss>
		</item>
		<item>
		<title>অনিয়ম-দুর্নীতি চাঁদাবাজি ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে শূন্য থেকে শতকোটির মালিক বন কর্মকর্তা নিশাত</title>
		<link>https://www.dailypokkhokal.com/?p=15320</link>
		<comments>https://www.dailypokkhokal.com/?p=15320#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 30 Nov 1999 00:00:00 +0000</pubDate>
		<dc:creator>pokkhokal</dc:creator>
		
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>

		<category><![CDATA[প্রধান খবর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">https://www.dailypokkhokal.com/?p=15320</guid>
		<description><![CDATA[<span class="feedimg"><img oncontextmenu="return false;" src="https://www.dailypokkhokal.com/cloud/archives/2026/06/img-20260609-wa0005-thumbnail.jpg" alt="" /></span>বিশেষ প্রতিনিধিঃ

চাঁদাবাজি, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য, পদোন্নতি, বনের জমি বিক্রি এবং অর্থের বিনিময়ে অনাপত্তি পত্র (এনওসি) প্রদান—এমন কোনো খাত নেই যেখানে হাত পড়েনি বন অধিদপ্তরের ঢাকা সামাজিক বনাঞ্চলের বন সংরক্ষক হোসাইন মোহাম্মদ নিশাতের। চাকুরির মাত্র ২৩ বছরে সুকৌশলে তিনি গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির এক বিশাল সাম্রাজ্য। আড়ালে-আবডালে সহকর্মীরা তাকে ডাকেন ‘রাক্ষস’ নামে।রাজনৈতিক খোলস বদলে প্রভাব বিস্তারঅনুসন্ধানে ...]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>বিশেষ প্রতিনিধিঃ</p>
<p><img src="https://www.dailypokkhokal.com/cloud/archives/2026/06/img-20260609-wa0005-thumbnail.jpg" alt="---" /></p>
<p>চাঁদাবাজি, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য, পদোন্নতি, বনের জমি বিক্রি এবং অর্থের বিনিময়ে অনাপত্তি পত্র (এনওসি) প্রদান—এমন কোনো খাত নেই যেখানে হাত পড়েনি বন অধিদপ্তরের ঢাকা সামাজিক বনাঞ্চলের বন সংরক্ষক হোসাইন মোহাম্মদ নিশাতের। চাকুরির মাত্র ২৩ বছরে সুকৌশলে তিনি গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির এক বিশাল সাম্রাজ্য। আড়ালে-আবডালে সহকর্মীরা তাকে ডাকেন ‘রাক্ষস’ নামে।রাজনৈতিক খোলস বদলে প্রভাব বিস্তারঅনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৩ সালে বিএনপি শাসনামলে সহকারী বন সংরক্ষক হিসেবে চাকুরিতে যোগ দেন বিসিএস ২২তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি সবচেয়ে বেশি প্রভাব খাটান। রাজনৈতিক খোলস বদলে মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে এই দীর্ঘ সময়ে একবারের জন্যও তাকে ঢাকার বাইরে বদলি হতে হয়নি। ২০১৩ সালের জুলাইয়ে তিনি ঢাকায় সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) হিসেবে দায়িত্ব পান। এরপর থেকেই তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় রূপকথার মতো।নামে-বেনামে বিপুল সম্পত্তি ও অর্থ পাচারচট্টগ্রামের সন্দ্বীপের এক সাধারণ জেলে পরিবারে জন্ম নেওয়া হোসাইন নিশাতের বর্তমান জীবনযাত্রা ও অটেল সম্পদ যেকোনো রূপকথাকেও হার মানায়। বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় তার স্ত্রী, শ্যালিকা ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের নামে একাধিক বহুতল ভবন, ফ্ল্যাট ও প্লটের সন্ধান মিলেছে। ধানমন্ডি, গুলশান ও বসুন্ধরায় রয়েছে তার বিপুল সম্পত্তি। এছাড়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্যেও তার নামে-বেনামে সম্পদ পাচারের জোরালো অভিযোগ রয়েছে।চেকপোস্ট ও স্টেশন নিলামের ‘বাণিজ্য’ডিএফও থাকাকালীন হোসাইন নিশাতের আয়ের প্রধান উৎস ছিল সোনারগাঁও ও সোয়াগাজী চেকপোস্ট। দৈনিক এই রুট দিয়ে চলাচলকারী ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ গাছবোঝাই ট্রাকের প্রতিটি থেকে ১০-১২ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা তোলা হতো, যার সিংহভাগ যেত নিশাতের পকেটে।এমনকি চেকপোস্টের পদগুলোও রীতিমতো নিলামে উঠত। মাত্র এক বছরের জন্য স্টেশন অফিসার হতে হলে দিতে হতো ৫০ লাখ টাকা। আর সহকারী স্টেশন অফিসার পদের রেট ছিল ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা।</p>
<p>পরবর্তীতে এই সকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে বন কর্মকর্তা নিশাত এর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>https://www.dailypokkhokal.com/?feed=rss2&amp;p=15320</wfw:commentRss>
		</item>
		<item>
		<title>কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর&#8217;র সেকেন্ড ডিজি খ্যাত বদলি ও ঘুষ বাণিজ্যের গডফাদার মাসুম বিল্লাহ কি আইনের উর্ধ্বে</title>
		<link>https://www.dailypokkhokal.com/?p=15318</link>
		<comments>https://www.dailypokkhokal.com/?p=15318#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 30 Nov 1999 00:00:00 +0000</pubDate>
		<dc:creator>pokkhokal</dc:creator>
		
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>

		<category><![CDATA[অর্থনীতি]]></category>

		<category><![CDATA[প্রধান খবর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">https://www.dailypokkhokal.com/?p=15318</guid>
		<description><![CDATA[<span class="feedimg"><img oncontextmenu="return false;" src="https://www.dailypokkhokal.com/cloud/archives/2026/06/img-20260609-wa0004-thumbnail.jpg" alt="" /></span>নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দুদকের চার্জশিটভুক্ত কর্মকর্তাদের প্রশ্রয়, বদলি বাণিজ্য ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) প্রশাসন শাখার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (প্রশাসন-২) এ এ মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে ঘুষ, বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ এবং দুদকের চার্জশিটভুক্ত কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক প্রশ্রয় দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ...]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>নিজস্ব প্রতিবেদকঃ</p>
<p><img src="https://www.dailypokkhokal.com/cloud/archives/2026/06/img-20260609-wa0004-thumbnail.jpg" alt="---" /></p>
<p>দুদকের চার্জশিটভুক্ত কর্মকর্তাদের প্রশ্রয়, বদলি বাণিজ্য ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) প্রশাসন শাখার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (প্রশাসন-২) এ এ মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে ঘুষ, বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ এবং দুদকের চার্জশিটভুক্ত কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক প্রশ্রয় দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন।</p>
<p>অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার চার্জশিটভুক্ত ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রশাসনিকভাবে সুরক্ষা দিয়ে চাকরিতে বহাল রাখার পেছনেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে।</p>
<p>দুদকের মামলার আসামিদের ঘিরে বিতর্ক</p>
<p>সূত্র জানায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ে দীর্ঘদিন কর্মরত কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের দায়ের করা মামলায় সাবেক সহকারী পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ শরিফুল ইসলাম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।</p>
<p>একই মামলার আরেক আসামি অলিউল্লাহ প্রধান বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা কৃষি অফিসে কর্মরত রয়েছেন। অন্যদিকে, ভুয়া বিল-ভাউচার কেলেঙ্কারির অভিযোগে আলোচিত ক্যাশিয়ার জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধেও দুদকের চার্জশিট ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।</p>
<p>অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকর্তাকে প্রশাসনিকভাবে সুরক্ষা দিচ্ছেন অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মাসুম বিল্লাহ।</p>
<p>বদলি আদেশ অমান্যের অভিযোগ</p>
<p>ডিএই সূত্রে জানা গেছে, দুদকের মামলার চার্জশিটভুক্ত জাহিদ হাসানকে সম্প্রতি ময়মনসিংহে বদলি করা হলেও তিনি এখনো খামারবাড়িতেই দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে ক্যাশ সরকারের দায়িত্বে থাকা হাবিবুর রহমানকেও চাঁদপুরে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও তিনি আগের কর্মস্থলেই রয়েছেন।</p>
<p>অভিযোগ রয়েছে, বদলি আদেশ কার্যকর না করার পেছনে আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক প্রভাব কাজ করেছে। এমনকি নতুন পদায়ন পাওয়া কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটেছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।</p>
<p>ঘুষের বিনিময়ে বদলি বাতিলের অভিযোগ</p>
<p>খামারবাড়ির একাধিক সূত্রের দাবি, বদলি আদেশ বাতিল বা স্থগিতের আশ্বাস দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে জনপ্রতি দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়।</p>
<p>এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগপন্থী হিসেবে চিহ্নিত ও তদন্তে অভিযুক্ত কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনরায় লাভজনক কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।</p>
<p>‘সেকেন্ড ডিজি’ হিসেবে পরিচিতি</p>
<p>খামারবাড়ির অভ্যন্তরে প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্তে মাসুম বিল্লাহর প্রভাব নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভাষ্য, মহাপরিচালকের পর প্রশাসনে সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে তাঁকে দেখা হয়। অনেকে তাঁকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘সেকেন্ড ডিজি’ বলেও উল্লেখ করেন।</p>
<p>অভিযোগ রয়েছে তাঁর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলির ভয় দেখানো হয়। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা বদলিতেও তাঁর একক প্রভাব রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।</p>
<p>টেন্ডার ও পদায়ন বাণিজ্যের অভিযোগ</p>
<p>সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটে আদেশ প্রকাশ না করে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে বদলির কপি দেওয়া হয়েছে এবং এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে।</p>
<p>এছাড়া সুবিধাজনক পদায়ন ও কর্মস্থল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।</p>
<p>সরকারি গাড়ির অপব্যবহারের অভিযোগ</p>
<p>মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে সরকারি গাড়ির অপব্যবহার, অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহার এবং চালকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি নিয়মিত প্রশাসনিক কাজের বাইরে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন।</p>
<p>এ কারণে একাধিক চালক তাঁর গাড়ি চালাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।</p>
<p>বিভাগীয় ব্যবস্থা সুপারিশের পরও বহাল</p>
<p>একাধিক সূত্র জানায়, সরকারি কাজে বাধা, প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, বদলি বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম এবং সরকারি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তাঁর বিরুদ্ধে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছিল।</p>
<p>কৈফিয়তের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাঁকে ঢাকার বাইরে বদলি, সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে অদৃশ্য কারণে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।</p>
<p>পাবনায় দায়িত্ব পালনের সময়ও অভিযোগ</p>
<p>সূত্র জানায়, খামারবাড়িতে যোগদানের আগে পাবনার সদর ও চাটমোহর উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, কৃষি প্রণোদনা বিতরণে অনিয়ম এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল।</p>
<p>অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে অতীতে দায়ের হওয়া একাধিক অভিযোগ প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে কার্যকর তদন্তের মুখ দেখেনি বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।</p>
<p>এই সকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে এ এ মাসুম বিল্লাহর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিয়ে এবং খুঁদে বার্তা পাঠানো হলেও কোন প্রকার সাড়া পাওয়া যায়নি।  অভিযোগের বিষয়ে এ এ মাসুম বিল্লাহর বক্তব্য পাওয়া গেলে  পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>https://www.dailypokkhokal.com/?feed=rss2&amp;p=15318</wfw:commentRss>
		</item>
		<item>
		<title>ঋণ জালিয়াতি, বিদেশি নাগরিকত্ব ও অফশোর সম্পদ: নতুন চাপে বসুন্ধরা গ্রুপ</title>
		<link>https://www.dailypokkhokal.com/?p=15316</link>
		<comments>https://www.dailypokkhokal.com/?p=15316#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 30 Nov 1999 00:00:00 +0000</pubDate>
		<dc:creator>pokkhokal</dc:creator>
		
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>

		<category><![CDATA[অর্থনীতি]]></category>

		<category><![CDATA[প্রধান খবর]]></category>

		<category><![CDATA[ব্যাংক-বীমা]]></category>

		<category><![CDATA[ব্রেকিং নিউজ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">https://www.dailypokkhokal.com/?p=15316</guid>
		<description><![CDATA[<span class="feedimg"><img oncontextmenu="return false;" src="https://www.dailypokkhokal.com/cloud/archives/2026/06/fb_img_1780478674503-thumbnail.jpg" alt="" /></span>১,৩২৫ কোটি টাকার নতুন মামলা; ৮ দেশে সম্পদ জব্দে আদালতের চিঠি
ঢাকা: দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ এবং সোবহান পরিবারকে ঘিরে একের পর এক আর্থিক অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি ও বিদেশে সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান এবং তাঁর মেজো ছেলে, ...]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>১,৩২৫ কোটি টাকার নতুন মামলা; ৮ দেশে সম্পদ জব্দে আদালতের চিঠি<img src="https://www.dailypokkhokal.com/cloud/archives/2026/06/fb_img_1780478674503-thumbnail.jpg" alt="---" /></p>
<p>ঢাকা: দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ এবং সোবহান পরিবারকে ঘিরে একের পর এক আর্থিক অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি ও বিদেশে সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান এবং তাঁর মেজো ছেলে, ‘বসুন্ধরা মাল্টি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফিয়াত সোবহান সানবীরের বিরুদ্ধে ১,৩২৫ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি, আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের মামলা দায়ের করেছে।</p>
<p>দুদকের মামলার এজাহার অনুযায়ী, ন্যাশনাল ব্যাংকের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে কোনো কার্যকর জামানত যাচাই কিংবা ফ্যাক্টরি পরিদর্শন ছাড়াই বিপুল অঙ্কের ঋণ অনুমোদন ও ছাড় করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, ঋণের বড় একটি অংশ পরবর্তীতে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর এবং বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।</p>
<p>বিদেশি নাগরিকত্ব ও অফশোর বিনিয়োগের তথ্য আদালতে</p>
<p>মামলার তদন্ত চলাকালে আদালতের নথিতে সোবহান পরিবারের একাধিক সদস্যের বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং অফশোর বিনিয়োগের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।</p>
<p>নথি অনুযায়ী—</p>
<p>বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর প্রায় ৩ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের মাধ্যমে স্লোভাকিয়ার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।</p>
<p>তাঁর স্ত্রী ইয়াশা সোবহান ২ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করে সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব নেন।</p>
<p>চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও তাঁর স্ত্রী আফরোজা বেগম ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন বলে আদালতে দাখিল করা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।</p>
<p>এছাড়া আদালত সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, স্লোভাকিয়া, সাইপ্রাস, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস এবং ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসসহ মোট আটটি দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সোবহান পরিবারের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ ক্রোকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।</p>
<p>গোল্ড রিফাইনারি প্রকল্প ঘিরে নতুন প্রশ্ন</p>
<p>এর আগে দেশের প্রথম স্বর্ণ পরিশোধনাগার স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে ‘বসুন্ধরা গোল্ড রিফাইনারি লিমিটেড’ নামে প্রায় ৫,৭৯০ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প হাতে নেয় গ্রুপটি। প্রকল্পটির অর্থায়নের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের নেতৃত্বে একটি ব্যাংক সিন্ডিকেটও গঠন করা হয়।</p>
<p>তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ‘WorldEra Corporation’-এর সঙ্গে প্রায় ২,৬৫৮ কোটি টাকার একটি চুক্তির নথি উপস্থাপন করা হয়েছিল, যা নিয়ে পরবর্তীতে বিভিন্ন আর্থিক ও নীতিগত প্রশ্ন ওঠে।</p>
<p>বাংলাদেশ ব্যাংক পরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ওপর অতিরিক্ত ঝুঁকি কমাতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকেও এই ঋণ কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার নির্দেশ দেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।</p>
<p>জ্বালানি খাতে বিশেষ সুবিধা নিয়ে বিতর্ক</p>
<p>২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঠিক আগে বসুন্ধরা গ্রুপকে জ্বালানি খাতে একটি বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল বলেও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।</p>
<p>তৎকালীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের মাধ্যমে ‘বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি’কে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, নিজস্ব স্থাপনায় পরিশোধন এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে নিজেদের ৩৮৮টি ফিলিং স্টেশনের মাধ্যমে সরাসরি খুচরা বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়।</p>
<p>সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) শুরু থেকেই এ ধরনের অনুমোদনের বিরোধিতা করলেও পরবর্তীতে নীতিমালা সংশোধনের মাধ্যমে অনুমোদনের পথ তৈরি করা হয়।</p>
<p>‘ABG Marketplace’ নিয়ে উদ্বেগ</p>
<p>বাণিজ্য খাতেও নতুন ধরনের একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছিল বসুন্ধরা গ্রুপ। ‘ABG Marketplace’ নামে প্রস্তাবিত এই প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়।</p>
<p>সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে শুধু ই-কমার্স নয়, বরং সোনা, ওষুধ, কৃষিপণ্য, গার্মেন্টস কাঁচামাল, ডেরিভেটিভস ট্রেডিং, পণ্য বিনিময় এবং নিজস্ব নিলাম বাজার পরিচালনার সুযোগ রাখার প্রস্তাব ছিল।</p>
<p>অর্থনীতিবিদদের একটি অংশের মতে, এ ধরনের কাঠামো কার্যকর হলে দেশের বিদ্যমান আর্থিক ও পণ্যবাজারের বাইরে একটি সমান্তরাল করপোরেট কমোডিটি এক্সচেঞ্জ গড়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি হতে পারত।</p>
<p>আর্থিক সংকটে বসুন্ধরা পেপার মিলস</p>
<p>এদিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বসুন্ধরা পেপার মিলসও বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক চাপে রয়েছে।</p>
<p>২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কাঁচামালের সংকট, উচ্চ সুদহার এবং ইউটিলিটি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিটি এক অর্ধবার্ষিকীতেই প্রায় ২৪৯ কোটি টাকা লোকসান করেছে।</p>
<p>একই সময়ে কোম্পানিটির রাজস্ব আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭২ শতাংশ কমে গেছে, যা উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন।</p>
<p>করপোরেট প্রভাব ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন</p>
<p>দেশের ব্যাংকিং খাত, জ্বালানি খাত এবং পুঁজিবাজারে বসুন্ধরা গ্রুপের বিস্তৃত সম্পৃক্ততার কারণে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো শুধু একটি শিল্পগোষ্ঠীকে ঘিরে নয়, বরং সামগ্রিক করপোরেট গভর্ন্যান্স, ব্যাংকিং তদারকি এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।</p>
<p>বিশ্লেষকদের মতে, বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর ঋণ ব্যবস্থাপনা, বিদেশে সম্পদ স্থানান্তর এবং নীতিগত প্রভাব খাটানোর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে দেশের আর্থিক খাতের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।</p>
<p>জাকিয়া রায়হানা</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>https://www.dailypokkhokal.com/?feed=rss2&amp;p=15316</wfw:commentRss>
		</item>
		<item>
		<title>&#8220;দুদকের দৃষ্টি আকর্ষণ&#8221;"  সওজের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান&#8217;র সম্পদের পাহাড়</title>
		<link>https://www.dailypokkhokal.com/?p=15314</link>
		<comments>https://www.dailypokkhokal.com/?p=15314#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 30 Nov 1999 00:00:00 +0000</pubDate>
		<dc:creator>pokkhokal</dc:creator>
		
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>

		<category><![CDATA[অর্থনীতি]]></category>

		<category><![CDATA[প্রধান খবর]]></category>

		<category><![CDATA[ব্যাংক-বীমা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">https://www.dailypokkhokal.com/?p=15314</guid>
		<description><![CDATA[<span class="feedimg"><img oncontextmenu="return false;" src="https://www.dailypokkhokal.com/cloud/archives/2026/05/img-20260531-wa0031-thumbnail.jpg" alt="" /></span>&#8221;
প্রবাসী সাংবাদিক এ রাজিব 
দুর্নীতিকে শিল্পে রূপান্তরিত করার কাজে সিদ্ধহস্ত সওজ&#8217;র অবসরপ্রাপ্ত  প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম মনির হোসেন পাঠান।
এ কে এম মনির হোসেন পাঠানের অনিয়ম দুর্নীতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের আংশিক ফিরিস্তি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পাঠকদের মাঝে তুলে ধরা হলো: (ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে কোটি কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন: ছেলের নামে অঢেল সম্পদ: ...]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>&#8221;</p>
<p>প্রবাসী সাংবাদিক এ রাজিব <img src="https://www.dailypokkhokal.com/cloud/archives/2026/05/img-20260531-wa0031-thumbnail.jpg" alt="---" /></p>
<p>দুর্নীতিকে শিল্পে রূপান্তরিত করার কাজে সিদ্ধহস্ত সওজ&#8217;র অবসরপ্রাপ্ত  প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম মনির হোসেন পাঠান।</p>
<p>এ কে এম মনির হোসেন পাঠানের অনিয়ম দুর্নীতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের আংশিক ফিরিস্তি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পাঠকদের মাঝে তুলে ধরা হলো: (ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে কোটি কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন: ছেলের নামে অঢেল সম্পদ: কানাডায় বাড়ী)সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা বলে কথা। ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, আবার কাজের জন্য অলিখিত কমিশন। আছে বদলি বাণিজ্যসহ ঘাটে ঘাটে রমরমা ঘুসের বাজার। এসব অবৈধ টাকায় অনেকটা ফুলেফেঁপে উঠেছেন তিনি।আবার একাই মোটাতাজা হননি, ভাই-ভগ্নিপতিসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যদেরও বিপুল বিত্তশালী বানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, সন্তানের যখন আয়-রোজগার করার বয়সই হয়নি, তখন তার নামে খুলেছেন আয়কর ফাইল। যেখানে ছেলের নামে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দেখানো হয় বিপুল বিনিয়োগ। এভাবে জায়েজ করা হয় ঘুসের কোটি কোটি টাকা।এতেও সামাল দেওয়া যাচ্ছিল না। অগত্যা ছোট ভাইয়ের নামে দেওয়া হয় ঠিকাদারি লাইসেন্স। যদিও বাস্তবে ঠিকাদারি কাজের কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না। তবে এ সুবাদে তার প্রধান কাজ এখন বড় বড় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং বিনিময়ে কাঁড়ি কাঁড়ি কমিশন আদায় করা।আর এসব অবৈধ টাকা জায়েজ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগী হিসাবে কাগুজে ডকুমেন্ট তৈরি করে রাখা। এভাবে নানা খাতের ঘুস বাণিজ্যের টাকা নিরাপদে লেনদেনের জন্য ছোট ভাইয়ের ঠিকাদারি অ্যাকাউন্টকে ব্যবহার করা হয়। ফলে ব্যাংক হিসাবে শুরু হয় অস্বাভাবিক সব লেনদেন। প্রকারান্তরে এভাবেই নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনেন।সরকারের একটি সংস্থার অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসতে থাকে কেঁচো খুঁড়তে বড় বড় সাপ। কম সময়ের ব্যবধানে কোটি কোটি টাকার সব লেনদেনের ভয়াবহ তথ্য। যার সঙ্গে বাস্তব আয় ও ব্যবসায়িক লেনদেনের কোনো মিল নেই। কারণ এই বিপুল অর্থকড়ির আসল হোতা প্রকৌশলী বড় ভাই। সবই তার ঘুসের টাকা। ক্ষমতাধর ও সৌভাগ্যবান এ কর্মকর্তার নাম একেএম মনির হোসেন পাঠান। তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) প্রধান প্রকৌশলী। যার আপন ছোট ভাই কথিত ঠিকাদার। নাম মোমিনুল হক পাঠান। অনুসন্ধানে এই কর্মকর্তাসহ তার পুরো পরিবারের আয়বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পদের চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য বেরিয়ে এসেছে।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধান প্রকৌশলী একেএম মনির হোসেন বলেন, ‘ছোট ভাই টুকটাক সাব-কন্ট্রাক্টরি করে। আমি নিশ্চিত ওর অ্যাকাউন্টে ওইরকম কোনো লেনদেন নেই।’ব্যাংক স্টেটমেন্টের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ৬ মাসে ৬ কোটি টাকার বেশি ক্যাশ টাকা জমা হয়েছে। উত্তরে তিনি বলেন,প্রশ্নই আসে না। এত টাকা জমা হওয়ার প্রশ্নই আসে না।’ একপর্যায়ে তিনি বলেন, ও (মোমিনুল হক) একটি ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার আমিনুল হক ওই কাজ করার জন্য তার ভাইকে অথরাইজড করেছে। কিন্তু এত টাকার কাজ তো সে করেনি।’ভাইয়ের নামে যেভাবে টাকা লেনদেন :২০২২ সালের ২৪ মার্চ মধুমতি ব্যাংক নওগাঁ ব্রাঞ্চ থেকে মনির হোসেন পাঠানের ছোট ভাই মোমিনুল হক পাঠানের এনআরবিসি ব্যাংক চাঁদপুরের মতলব ব্রাঞ্চে এক কোটি ৯ লাখ ৯৭ হাজার ৫শ টাকা জমা হয়। ৩ দিনের মধ্যেই এই টাকা আবার উত্তোলন করে সরিয়ে ফেলা হয়। একই ব্রাঞ্চ থেকে ২০ এপ্রিল ৬৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা জমা হওয়ার পরপরই এই টাকা তুলে নেওয়া হয়। আবার ২৮ এপ্রিল জমা হয় ৮৪ লাখ ৪০ হাজার ৬শ টাকা, ২৩ মে ক্যাশ জমা করা হয় ১ কোটি ৮০ লাখ ২৭ হাজার, ২৬ মে মার্কেন্টাইল ব্যাংক নওগাঁ ব্রাঞ্চ থেকে ৩৪ লাখ ৯৪ হাজার ৬শ টাকা, ৫ জুন মধুমতি ব্যাংকের নওগাঁ ব্রাঞ্চ থেকে ৩৪ লাখ ৯৬ হাজার ৬শ টাকা, ১৩ জুন মার্কেন্টাইল ব্যাংক নওগাঁ ব্রাঞ্চ থেকে ৪১ লাখ ৫২ হাজার, ৭ জুলাই মার্কেন্টাইল ব্যাংক নওগাঁ ব্রাঞ্চ থেকে ৫৭ লাখ ৩৫ হাজার ৬শ টাকা জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৬ মাসের ব্যবধানে সড়ক ও জনপথের প্রভাবশালী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেডের অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ৬ কোটি ১১ লাখ ৯৭ হাজার ৯শ টাকা জমা হয়। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী নওগাঁর আমিনুল হক। সওজের একজন নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘এ একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সড়ক ও জনপথ।’অ্যাকাউন্টে টাকা লেনদেনের বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান করতে গিয়ে পাওয়া যায়, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্যাডে চাঁদপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে ২০২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২২ ফেব্রুয়ারি ও ১৮ এপ্রিল পৃথক তিনটি পত্র। এসব পত্রে (টেন্ডার নং ৬২৩৭৬৫, ৬২৩৭৬৭, ৬২৭৮২৩, ৬৪২৩০৮, ৬৪২৩০৪, ৬৮০৯৫৪ ও ৬৮০৯৫৫) কাজগুলোর গুণগত মান ঠিক রেখে পরিচালনা, বিলের চেক গ্রহণ, জামানতের চেক গ্রহণ, কাজ সমাপ্তির সার্টিফিকেট এবং পেমেন্ট সর্টিফিকেট গ্রহণের লক্ষ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে মোমিনুল হক পাঠান রতনকে প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব দেন। দাপ্তরিক নথিপত্রে মোমিনুল হক পাঠানকে প্রতিনিধি বলা হলেও তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা পাঠানো এবং মুহূর্তের মধ্যে সে টাকা তুলে নেওয়ার বিষয়টিও রহস্যজনক বলেছেন সওজ’রই একাধিক কর্মকর্তা।এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আমিনুল হকের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরিচয় জানিয়ে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ :২০১১ সালে একেএম মনির হোসেন পাঠান ছিলেন ঢাকা জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী। ওই সময় দুর্নীতির অভিযোগে তৎকালীন মন্ত্রী আবুল হোসেন তাকে প্রত্যাহার করে ওএসডি করেন। অথচ ওই বছরই রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ন টাওয়ারের ঠিক পেছনে ১১৬/১ কাজী নজরুল ইসলাম সড়কে সেল ওয়াসিসের নির্মিত আলিশান অ্যাপার্টমেন্টে ৩টি ফ্ল্যাট কিনে নেন। এর মধ্যে ছেলে মেহেদী মাহবুব হাসান ফাহিমের নামে কেনা হয় গ্যারেজসহ ২ হাজার ৪৬৮ বর্গফুটের ফ্ল্যাট (৮-এ)। যদিও ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রির দলিলে (৫২৪৮ নং) দাম দেখানো হয়েছে মাত্র ৩৬ লাখ টাকা। যার বাস্তব দাম কমপক্ষে ৩ কোটি টাকা। একই দামে ৫২৪৯নং দলিলে একেএম মনির হোসেন পাঠান নিজের নামে নিয়েছেন ২ হাজার ৪০১ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। ফ্ল্যাট নং ৭-ডি। স্ত্রীর বড় ভাই রইস আব্দুর রবের নামে পাওয়া গেছে ৪-এ নং ফ্ল্যাটটি। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী প্রতিটি ফ্ল্যাটের দাম কমপক্ষে ৩ কোটি টাকা।তথ্যানুসন্ধানে পাওয়া নথিপত্রে দেখা গেছে, ছেলে ফাহিম যখন এই আলিশান ফ্ল্যাটের মালিক তখন নথিপত্র অনুযায়ী তার বয়স ২৪ বছর। বয়স অনুযায়ী তখন তিনি ছাত্র। ওই সময় দলিল করতে যে টিআইএন অন্তর্ভুক্ত করা হয় সেখানে তাকে ব্যবসায়ী হিসাবে দেখানো হয়। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তিনি রমনা এলাকায় একটি বাণিজ্যিক ফ্ল্যাটে শেয়ার কেনেন। দলিলে দাম দেখানো হয় ২৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। দলিল নং ১১৯৭। ফ্ল্যাটের সাইজ ২ হাজার ৪০৮ বর্গফুট।এদিকে ঢাকার দক্ষিণখান মৌজায়ও ছেলের নামে জমি কেনা হয়েছে। এভাবে আয়কর নথিতে ছেলের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ দেখানো হয়। ছেলের নামে আছে ঢাকা মেট্রো-গ-৩৩-৫৮৩৯ নং গাড়িও। এই গাড়ির দাম দেখানো হয়েছে মাত্র সাড়ে ৬ লাখ টাকা। বাস্তবে দাম কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকা। ময়নামতি মেডিকেল কলেজ ও নভোমেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ শেয়ারও রয়েছে এই ছেলের নামে।নামে-বেনামে গাড়িও রয়েছে একেএম মনির হোসেন পরিবারের। সম্প্রতি কুমিল্লা শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কান্দিরপাড়ে (সাবেক গ্রামীণ ফোন অফিস) বিএস ২২২ দাগে প্রায় আড়াই কাঠা জমি কিনেছেন মনির হোসেন পাঠান ও তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার। জমিটির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। এ ছাড়া কুমিল্লার কন্দিরপাড়ে প্রায় ৩৩ (৩২ দশমিক ৭৩) কাঠা জমির ওপর মুন হাসপাতাল আছে শ্বশুর আব্দুর রব সরকারের নামে। হাসপাতালের ভবন নির্মাণে বিপুল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছেন মনির হোসেন পাঠান। কুমিল্লা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আছে মুন পেট্রোল পাম্প। যেখানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কিছু জমিও দখল করা হয়েছে। কুমিল্লা-ঢাকা মহাসড়কে নিমশার পেট্রোলপাম্পের মালিকও এই পরিবার। চাঁদপুরের মতলবে মুন হাসপাতালের আরও একটি শাখার নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে।কুমিল্লায় কর্মরত সওজ’র একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে আমাদের চিফ স্যার এখন শ্বশুরবাড়ির পরিবারের লোকজনের নামে সম্পদ কেনাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তৈরি করছেন। এছাড়া কানাডায় স্যারের একজন মেয়ে আছে। সেখানেও বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন তিনি।’ তিনি মনে করেন, মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশন নিরপেক্ষভাবে এসব বিষয়ে তদন্ত করলে আরও অনেক কিছু বেরিয়ে আসবে।তিনি জানান, এছাড়া কুমিল্লা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-কুমিল্লা ও চাঁদপুর রোডে চলাচলরত এশিয়া লাইন, প্রাইম বাস সার্ভিস ও রিল্যাক্স পরিবহণেও তার শ্বশুরবাড়ির মাধ্যমে বিনিয়োগ রয়েছে। এসব পাম্পে জ্বালানি পরিবহণের জন্য আছে ব্যয়বহুল তেলের লরিও। কুমিল্লার সরকারি-বেসরকারি পরিবহণের জ্বালানি নেওয়া হয় এই পাম্প থেকে। ভুয়া ভাউচার দিয়ে সরকারের বিপুল পরিমাণ টাকা অতিরিক্ত বিল করে একটি সিন্ডিকেট আত্মসাৎ করছে বলেও অভিযোগ আছে।তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায় একেএম মনিরের আয়কর রিটার্নে। সেখানে ভাই শাহাদাত হোসেন ও স্ত্রীর বড় ভাই রইস আব্দুর রবের টিআইএন নম্বর উল্লেখ করে টাকা লেনদেনের তথ্য দেওয়া হয়। মূলত এভাবে তিনি তার আয়কর ফাইল ত্রুটিমুক্ত রাখার চেষ্টা করেছেন। যদিও তিনি আয়কর রিটার্নে কুমিল্লা কান্দিরপাড়ে অবস্থিত প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ গোপন করেছেন।অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রত্যেকটি টেন্ডারে সিএস (কম্পারেটিভ স্টেটমেন্ট) বাবদ মনির হোসেন পাঠানকে টাকা দিতে হয়। তাকে টাকা না দিলে কোনো সিএস’র ছাড়পত্র দেওয়া হয় না। আর এ কারণে সড়কের সব কাজে ধীরগতি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ঠিকাদার বলেন, যে সময়ের মধ্যে সিএস যাওয়া দরকার সে সময় পাঠানো হয় না। কারণ টাকা না দেওয়া পর্যন্ত সিএস’এ প্রধান প্রকৌশলী স্বাক্ষর করেন না।বদলীর রমরমা বাণিজ্য:জনৈক নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বদলির রমরমা ব্যবসা খুলে বসেছেন মনির হোসেন পাঠান। একজন এসও বদলি করতে ১০ লাখ টাকা, এসডি বদলি করতে ১৫ লাখ টাকা এবং নির্বাহী প্রকৌশলী বদলির প্রস্তাব করতে ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। তার বদলি বাণিজ্যে সহযোগিতা করেন প্রশাসন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আমানুল্লাহ। আর ডিপ্লোমা সমিতির সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ মুসতাসির হাফিজ, মো. মোমিনুল ও মনিরুল আলমের হাত ধরে এসব বদলি সংক্রান্ত নাম তালিকা করা হয়। তিনি বলেন, এই সিন্ডিকেটকে খুশি করতে না পারায় মাত্র দেড় মাসের মাথায় কোনো কারণ ছাড়াই রংপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ মেহেদী ইকবালকে বদলি করা হয়। এক প্রশ্নের উত্তরে এই নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, প্রধান প্রকৌশলী বদলি না করলেও প্রস্তাবসহ সব প্রক্রিয়া তিনিই করেন।এদিকে ঘুস, দুর্নীতি ও বদলি বাণিজ্যের সব অভিযোগ অস্বীকার করেন একেএম মনির হোসেন পাঠান। তিনি দাবি করেন, ছেলে তার মামার সঙ্গে ব্যবসা করে। এছাড়া আমার আয়কর রিটার্নের বাইরে কোনো সম্পদ নেই। মহল বিশেষ তার সুনাম নষ্ট করতে এসব অপপ্রচার করছে।’প্রধান প্রকৌশলীর ছোট ভাই মোমিনুল হক পাঠানও ফোন রিসিভ করেননি। তাকেও বিস্তারিত জানিয়ে খুদে বার্তা পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি কোনো সদুত্তর।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>https://www.dailypokkhokal.com/?feed=rss2&amp;p=15314</wfw:commentRss>
		</item>
		<item>
		<title>দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় সওজের প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান: ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকার লেনদেন</title>
		<link>https://www.dailypokkhokal.com/?p=15312</link>
		<comments>https://www.dailypokkhokal.com/?p=15312#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 30 Nov 1999 00:00:00 +0000</pubDate>
		<dc:creator>pokkhokal</dc:creator>
		
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>

		<category><![CDATA[প্রধান খবর]]></category>

		<category><![CDATA[ব্যাংক-বীমা]]></category>

		<guid isPermaLink="false">https://www.dailypokkhokal.com/?p=15312</guid>
		<description><![CDATA[<span class="feedimg"><img oncontextmenu="return false;" src="https://www.dailypokkhokal.com/cloud/archives/2026/05/img-20260531-wa0031-thumbnail.jpg" alt="" /></span>
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ
দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় সওজের প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান: ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকার লেনদেন, পরিবারের নামে বিপুল সম্পদের অনুসন্ধান
স্টাফ রিপোর্টার &#124; দৈনিক পক্ষকাল
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম মনির হোসেন পাঠানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সূত্র, ...]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><img src="https://www.dailypokkhokal.com/cloud/archives/2026/05/img-20260531-wa0031-thumbnail.jpg" alt="---" /></p>
<p>প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ</p>
<p>দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় সওজের প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান: ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকার লেনদেন, পরিবারের নামে বিপুল সম্পদের অনুসন্ধান</p>
<p>স্টাফ রিপোর্টার | দৈনিক পক্ষকাল</p>
<p>সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম মনির হোসেন পাঠানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সূত্র, আর্থিক নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে পাওয়া অভিযোগগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।</p>
<p>অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার, টেন্ডার অনুমোদনে অনিয়ম, বদলি বাণিজ্য এবং কমিশন গ্রহণের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ অর্জন করেছেন তিনি। এসব অর্থের একটি অংশ পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ ক্রয় ও ব্যবসায় বিনিয়োগে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগকারীদের দাবি।</p>
<p>ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন</p>
<p>অনুসন্ধানে পাওয়া ব্যাংক লেনদেনের তথ্যে দেখা যায়, প্রধান প্রকৌশলীর ছোট ভাই মোমিনুল হক পাঠানের ব্যাংক হিসাবে ২০২২ সালের মার্চ থেকে জুলাইয়ের মধ্যে একাধিক দফায় কয়েক কোটি টাকা জমা হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা উত্তোলন করা হয়।</p>
<p>নথিপত্র অনুযায়ী, একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হিসাব থেকে কয়েক মাসের ব্যবধানে ৬ কোটিরও বেশি টাকা মোমিনুল হক পাঠানের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এসব অর্থের প্রকৃত উৎস ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।</p>
<p>তবে এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান দাবি করেন, তার ভাই সামান্য সাব-কন্ট্রাক্টরি কাজের সঙ্গে যুক্ত এবং তার হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ সঠিক নয়।</p>
<p>ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি থেকে কোটি টাকার লেনদেন</p>
<p>প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, একাধিক সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মোমিনুল হক পাঠান। কাজের গুণগত মান তদারকি, বিল গ্রহণ, জামানতের চেক সংগ্রহ ও প্রকল্প-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।</p>
<p>তবে একজন প্রতিনিধির ব্যাংক হিসাবে কয়েক কোটি টাকা জমা হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তার কাছেই রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে।</p>
<p>ছেলে ও স্বজনদের নামে সম্পদের অভিযোগ</p>
<p>অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, মনির হোসেন পাঠানের পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় মূল্যবান ফ্ল্যাট, জমি, ব্যবসায়িক শেয়ার এবং যানবাহনের মালিকানার তথ্য।</p>
<p>অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রাবস্থায় থাকা ছেলের নামে আয়কর ফাইল খুলে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ দেখানো হয়েছে। রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় একাধিক উচ্চমূল্যের ফ্ল্যাট, দক্ষিণখানে জমি এবং অন্যান্য সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।</p>
<p>এছাড়া তার শ্যালক, শ্বশুর এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামেও হাসপাতাল, পেট্রোল পাম্প, পরিবহন ব্যবসা এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের অভিযোগ রয়েছে।</p>
<p>কুমিল্লায় জমি, হাসপাতাল ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগ</p>
<p>সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কুমিল্লা শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উচ্চমূল্যের জমি ক্রয়, হাসপাতাল নির্মাণ এবং জ্বালানি ব্যবসায় বিনিয়োগের পেছনে মনির হোসেন পাঠানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে।</p>
<p>কুমিল্লা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কুমিল্লা মহাসড়ক এলাকায় পরিচালিত কয়েকটি পেট্রোল পাম্প এবং পরিবহন ব্যবসায়ও তার পরিবারের বিনিয়োগ থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।</p>
<p>কানাডায় সম্পদ থাকার অভিযোগ</p>
<p>সওজের একাধিক কর্মকর্তার দাবি, মনির হোসেন পাঠানের পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে বিদেশেও সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে কানাডায় তার কন্যার মাধ্যমে বাড়িসহ বিভিন্ন সম্পদের তথ্য নিয়ে অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।</p>
<p>তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।</p>
<p>টেন্ডার ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ</p>
<p>সওজের কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের অভিযোগ, টেন্ডার মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘কম্পারেটিভ স্টেটমেন্ট (সিএস)’ অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।</p>
<p>তাদের দাবি, নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ প্রদান না করলে টেন্ডার-সংক্রান্ত ফাইল দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলির ক্ষেত্রেও বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।</p>
<p>যদিও এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন পাঠান। তার ভাষ্য, “আমার আয়কর রিটার্নের বাইরে কোনো সম্পদ নেই। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”</p>
<p>নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি</p>
<p>দুর্নীতির এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।</p>
<p>অভিযোগকারীদের মতে, আর্থিক লেনদেন, সম্পদের উৎস, আত্মীয়স্বজনের নামে গড়ে ওঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে সম্পদ অর্জনের বিষয়গুলো গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।</p>
<p>(অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছে। নতুন কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।)</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>https://www.dailypokkhokal.com/?feed=rss2&amp;p=15312</wfw:commentRss>
		</item>
	</channel>
</rss>
